“পারিবারিক গল্পে এমন সাহসী বিষয় এত সুচারু ভাবে একের পর এক দেখানো তা প্রশংসনীয়!” বাংলা ধারাবাহিক ‘মেয়েবেলা’র হাত ধরে আবার স্বর্ণযুগে ফিরবে এমনটাই মনে করছে নেটিজেনরা

‘মেয়েবেলা’ ধারাবাহিকটি মাত্র কয়েকটা দিনের মধ্যেই দর্শকমহলের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।ধারাবাহিকের ট্যাগলাইনও দেওয়া হয়েছে মানানসই ‘মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু’। আসলে আমাদের সমাজে বহুকাল আগে থেকে একটা ধারণা চলে আসছে, তা হল মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু। চিরাচরিত এই ধারণার বদল ঘটাতেই আসছে সম্পূর্ণ নারী কেন্দ্রিক ধারাবাহিক ‘মেয়েবেলা’।
ধারাবাহিকের প্রথমেই বিয়ের পর্ব এনে মোড় ঘোরানো হয়। আর সেখান থেকেই শুরু নায়ক-নায়িকার পথ চলা। যদিও দুজনেই পরিস্থিতির চাপে পরে বিয়েতে রাজি হয়েছে। তবে এই সংসারের বন্ধনে কিভাবে তারা একে ওপরের সাথী হয়ে উঠবে তাই দেখার। পাশাপাশি গল্পের মেন নায়িকা মৌ-এর জন্য পুরো পরিবারের মেয়েরা আবার নতুন করে জীবনের অর্থ খুঁজে পাবে।
যতদিন এগোচ্ছে অসাধারণ চিত্রনাট্য ও অভিনয়ের জন্য এবং এত সুন্দর একটি গল্প রচনার জন্য দর্শকমহলে বেশ প্রশংসার জায়গা দখল করছে মেয়েবেলা। মেয়ে বাবার মতন কিছু ধারাবাহিকের জন্য বর্তমান সময়কে ধারাবাহিকের সুবর্ণ যুগ বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে। যাদের অভিনয়কে কেন্দ্র করে একসময় ধারাবাহিকের প্রচলন হয়েছিল, ধারাবাহিক দেখার চল তৈরি হয়েছিল তাদের অনেককেই দেখা যাচ্ছে এই ধারাবাহিকে। আর তারা আবারো ধারাবাহিকের সেই পুরনো স্বাদ ফিরিয়ে দিয়েছেন দর্শকদের। শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য নয় কিছু শেখার জন্য অর্থাৎ শিক্ষা লাভের জন্যও মেয়েবেলা এক কথায় অনবদ্য।
মেয়ে বেলার প্রতিটি চরিত্রই একটি অনন্য সাদ এনে দিচ্ছে দর্শকদের। প্রতিদিনকার সাংসারিক কুট কাচালি, নায়কের দুটো করে বউ, একে অপরকে মেরে ফেলার চেষ্টা, আর কিছু অতি নাটকীয় কাল্পনিক দৃশ্য ছাড়া ধারাবাহিকে কিছু হতে পারে তা মেয়েবেলা না এলে সত্যিই বোঝা যেত না। প্রতিটি চরিত্রের অভিনয় দেখে মুগ্ধ দর্শক মন্ডলী। এই ধারাবাহিকের অভিনেত্রীদের অভিনয়ে শুরুতে দর্শক অতটা লক্ষ্য না করলেও বর্তমানে ধীরে ধীরে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে মেয়েবেলা। টিকলি চরিত্রে থাকা অভিনেত্রীর অভিনয় দেখে মন্ত্রমুগ্ধ দর্শক। বাস্তবে ঘটে চলা বিষয়গুলিকে অভিনয়ের মাধ্যমে এভাবেও ফুটিয়ে তোলা যায় তা হয়তো এই ধারাবাহিকের অভিনেতা অভিনেত্রীদের না দেখলে বোঝা যেত না।
মেয়েবেলা ধারাবাহিক প্রসঙ্গে এক দর্শক সহ সাংবাদিক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন – “বাংলা সিরিয়ালের সুবর্ণ যুগ যেন বহুযুগ পর ফিরে এল ‘মেয়েবেলা’ সিরিয়ালের হাত ধরে। সিরিয়াল যেভাবে দৃশ্য দূষণের ভারে ভরে গেছে সেখানে পারিবারিক গল্পে এমন সাহসী বিষয় এত সুচারু ভাবে একের পর এক দেখানো তা প্রশংসনীয়। ধারাবাহিকের পর্ব গুলি দেখলে চোখ সরানো যায় না গায়ে কাঁটা দেওয়া অভিনয় টিকলির। অসাধারণ অভিনয়ে টেলিভিশনের ভাষা বদলালো অর্পণ ঘোষাল অর্থাৎ ডোডোর অভিনয়। সাথে টিটো এবং মৌ। নতুন যুগের অভিনেতারা সিরিয়ালের সংজ্ঞা বদলাচ্ছেন। চিত্রা সেন, রূপা গাঙ্গুলী, রতন সরকার থেকে মিমি দত্ত এঁনাদের অভিনয় দেখতেই তো শুরু করেছিলাম দেখা। মন ভরিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু নতুনদের অভিনয়ও দুরন্ত। দ্রৌপদীর বীথি ছাড়া ভাবা যায়না ‘মেয়েবেলা’।”

