জেঠুর আপত্তি সত্ত্বেও নাইটি পড়ল সৃজনের জেঠিমা! তার জন্য পর্ণার লড়াইকে কুর্নিশ দর্শকের

একটি অসাধারণ ফ্যামিলি ড্রামা নিয়ে শুরু হয়েছে নিম ফুলের মধু। বিয়ের প্রথম বছর হল নিম ফুলের মধু, তেঁতোটুকু পার করলে তবে না ফুলের হদিস পাবি!’–এই কথাটিই ফুলসজ্জার পরদিন সকালে নাতবৌ পর্নাকে বলেছিলেন ঠাকুমা। সত্যি কথা বলতে একদমই ভুল বলেননি তিনি। প্রথম দিকটা নানা বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হলেও, দত্তবাড়িতে এখন পর্নারই ছড়ি ঘোরে।

গল্পে পর্ণা সবার মন জয় করতে না পারলেও, দর্শকদের মন যে জিতে নিয়েছে ভালোমতোই। দর্শকদের মনে মাথায় এখন শুধুই নিম ফুলের মধু। তা টিআরপি (TRP) তালিকা দেখলেই স্পষ্ট। রোজই একধাপ করে এগিয়ে আসছে সিরিয়ালটি। আসলে এই ধরণের একান্নবর্তী পরিবারের গল্প খুব একটা দেখা যায়না। এই ধারাবাহিক শুরুই হয়েছিল খাঁটি বাঙালীয়ানাকে সঙ্গী করেই।

ধারাবাহিক মানুষের অবসর সময়ে নিত্যদিনের সঙ্গী। আর এখন তো মানুষের জীবনের অঙ্গ হয়ে গিয়েছে বললেও ভুল হবেনা। যারা নিয়মিত এই ধারাবাহিকটি দেখেন তারা তো জানেনই যে, সদ্যই একটা বড় বিপদের হাতে বর্ষাকে বাঁচিয়েছে পর্না। এক জোচ্চরের হাতে পড়ে বর্ষার জীবনটাই নষ্ট হতে বসেছিল। তবে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তার পর্দা ফাঁস করেছে সৃজন আর পর্না দত্ত। আর তারপরেই এসেছে আরো বড় ঝড়। তবে সব ঝড় অতিক্রম করে বর্ষাকে বাঁচিয়ে নেয় তার বৌদি।

এখন আবার অন্য ঝামেলা দেখা দিল ধারাবাহিকে। এই গরমে শাড়ি পরে কাজ কর্ম করা সত্যিই কষ্টকর। তাই সকলের কষ্টের কথা ভেবে সবার জন্য নাইটি কিনে এনেছে সে। তবে দেখা যায় সেই নাইটি নিয়েও ঝামেলা বাধায় সৃজনের জেঠু। তবে যতই যাই করে নিক না কেন শেষ পর্যন্ত পর্ণা তার বুদ্ধি দিয়ে সমস্ত জুলুম নস্যাৎ করে নাইটি পড়াতে সক্ষম হয় বাড়ির বউদের। পরিবারে যাকে সবথেকে নিরীহ এবং চুপচাপ থাকতে দেখা যায় তিনি হচ্ছেন সৃজনের দজ্জাল জেঠুর স্ত্রী অর্থাৎ পর্ণার জেটি শাশুড়ি। সেও পর্নার আনা নাইটিটি পড়ে নিয়েছে নির্দ্বিধায় যা দেখে সন্তুষ্ট দর্শক।

তার কাছে নাইটি পড়া অর্থাৎ একটি বাড়ির বউ এর নাইটি পরা সত্যিই অনেক বড় বিপ্লব আনার সমান। সারা জীবন ধরে সংসারের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি তার বদলে তাকে না সম্মান দিয়েছে তার স্বামী আর না দিয়েছে ছেলে। আর ছেলের বউয়ের কথা তো বাদ দেওয়াই ভালো। সে সর্বদাই সৃজনের মায়ের চামচাগিরি করে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছে। এই বিপ্লবের পর্ণার পাশে থেকে তার আনা নাইটি পড়ে তাদের গালে চড় মারলেন যারা এতদিন তার কোন কাজেরই মর্ম বোঝেনি। এই গোটা বাড়িতে একমাত্র পর্ণাই এমন একটি মেয়ে যে তার কষ্ট বুঝেছি দুঃখ বুঝেছে তার কিসে ভালো লাগে কিসের মন্দ লাগে সেগুলো ভেবে দেখেছে। আমাদের প্রত্যেকের পরিবারেই এমন একটি মানুষ থাকে যে সর্বদা মানুষের জন্য করেই যায় তবে কোনদিনও মুখ ফুটে কিছু চায় না। আর আমরা তাদের সেই না চাওয়ার সুযোগ নিয়ে তাদের থেকে আর ও অনেক কিছু শুষে নেই। একপ্রকার বাস্তব জীবনকেই তুলে ধরেছে এই ধারাবাহিক।

Back to top button