‘আমি এভাবে তোমার মন থেকে মুছে গেলাম মিঠাই!’ সিদ্ধার্থের কষ্ট অনুভব করছে দর্শকরা! কী অসাধারণ অভিনয় আদৃতের, বলছে দর্শক

বর্তমান সময়ে ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা আরো একবার দারুন ভাবে বেড়ে গেছে। তার কারণ বহুদিন পরে মিঠাইকে ফিরতে দেখেছে দর্শক। কিন্তু মিঠাই ধারাবাহিকের এত জনপ্রিয়তা কি শুধুই মিঠাই চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুন্ডুর জন্য! না, এমনটা কখনোই হতে পারে না। একটি ধারাবাহিক তৈরি হয় তার পুরো গোটা টিমকে নিয়ে। আর সেই ভাবেই মোদক পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যকে দর্শকরা অত্যন্ত ভালোবাসে টিভির পর্দায় দেখতে। তবে তাদের মধ্যে নায়ক-নায়িকা অর্থাৎ সিদ্ধার্থ এবং মিঠাইকে তারা একেবারেই অন্যভাবে ভালোবাসে। আর এই দুই অভিনেতা অভিনেত্রী নিজেদের সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছ থেকে অগাধ ভালোবাসা পেয়েছে।
দীর্ঘ ২ বছরের বেশি সময় ধরে টিভির পর্দায় জনপ্রিয়তা লাভ করে যাচ্ছে মিঠাই ধারাবাহিক। আর এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনেতা-অভিনেত্রী অর্থাৎ আদৃত রায় এবং সৌমিতৃষা কুণ্ড দুজনেই দারুন ভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাই তাদের অভিনয় নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। কিন্তু বর্তমান সময়ে তাদের অভিনয়ে আরো সুন্দর হয়ে উঠছে যা বারে বারে দর্শকরা বলছে। সম্প্রতি দিনে একটা একদম অন্য ধরনের গল্প দেখানো হচ্ছে মিঠাই ধারাবাহিকে।

মিঠাই তো এখন দেখানো হচ্ছে বহুদিন পরে মোদক পরিবারের কাছে ফিরেছে মিঠাই, কিন্তু তার কিছুই মনে নেই। এমনকি যে উচ্ছে বাবুকে সে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসত তাকেও ভুলে গেছে । কিন্তু এই কঠিন সত্যটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না সিদ্ধার্থ। তার কাছে যেন সবকিছু উল্টে পাল্টে যাচ্ছে। এটা খুবই স্বাভাবিক, তার কারণ মিঠাই ধারাবাহিককে ঠিক যেমন মিঠাই সিদ্ধার্থকে ভালবাসত ঠিক তেমনটাই সিদ্ধার্থও মিঠাইকে ভালবাসত। সে অতটা প্রকাশ না করলেও তার চোখে মুখে বোঝা যেত ভালোবাসা।

এই দুটো চরিত্রের মধ্যে এত সুন্দর টান এবং ভালবাসার জন্যই হয়তো ভক্তদের কাছে ‘সিধাই’ এত প্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেই মিঠাই কিনা তার উচ্ছে বাবুকে ভুলে গেছে! এত বছর ধরে পাগলের মত মিঠাইয়ের খুনিকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে এসেছে সিদ্ধার্থ। নিজেকে কিছুতেই বিশ্বাস করাতে পারেনি অন্যদের মত যে মিঠাই তার কাছে নেই। সে জায়গায় দাঁড়িয়ে যখন সে তার মিঠাইকে ফিরে পেল কিন্তু পেয়েও পেল না এমনই একটি পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে গেল। আর এই চরিত্রে এতটাই সুন্দর অভিনয় করেছে অভিনেতা আদৃত যে দর্শকদের চোখে জল চলে এসেছে। তাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রত্যেকেই আদৃতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

আজকের পর্বে দেখা গেছে মিঠাইকে সকলে মিলে মনোহরাতে নিয়ে এসেছে। সে বাড়িতে এসে দাদাই ঠাম্মি কাউকে চিনতে পারেনি। কিন্তু যখনই সে দাদাই এর পা ছুয়ে প্রণাম করছিল তখন কিছুক্ষণের জন্য সিদ্ধার্থের মনে হয়েছিল, হয়তো মিঠাইয়ের সব কিছু মনে পড়ে গেছে। সে কিছুটা খুশি হয়ে গিয়েছিল আর সেই এক্সপ্রেশন এত সুন্দর করে আদৃত দেখিয়েছে যা দেখে মুগ্ধ দর্শক। কিন্তু তারপরও মুহুর্তে মিঠাইয়ের প্রশ্ন ‘আমি কি আপনাকে চিনি দাদু?’ সেই প্রশ্নে সিদ্ধার্থের মুখের রং একেবারে ফিকে হয়ে গেছে। তার সঙ্গে তার মুখে বলা কথা, ‘আমি এভাবে তোমার মন থেকে মুছে গেলাম মিঠাই?’ এ যেন ভক্তদের মনে অসম্ভব বেদনার সৃষ্টি করেছে।
একজন অভিনেতা-অভিনেত্রীর সাফল্য তো এখানেই। যখন সে তার অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের হাসাতে বা কাঁদতে পারে। যখন তার দুঃখ কষ্ট আনন্দ সবকিছু দর্শকরা অনুভব করতে পারে। আর সেটাই এখন হচ্ছে আদৃতের অভিনয়ের মাধ্যমে। প্রথম থেকে আদৃতকে দর্শক অনেক ভালোবাসা দিয়েছে সিদ্ধার্থের চরিত্রে। তার অ্যাংরি ইয়াং ম্যান চরিত্রটি দর্শকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তবে এখন তার মিঠাইয়ের জন্য কষ্ট যেন প্রতিটি মিঠাই দর্শকরা অনুভব করছে। তাই সকলেই এখন পর্দার সিদ্ধার্থ তথা আদৃতের অভিনয়ের প্রশংসা করছে।

