বলিউডের চক্রান্তে হাত ছাড়া জাতীয় পুরস্কার! নীরবে হারিয়ে গেলেন টলিউডের “লেডি বিবেকানন্দ” রীতা কয়রাল!

বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে এমন বহু অভিনেত্রীরা রয়েছেন যারা নিজেদের কাজ শুরু করেছিলেন বড় পর্দার মাধ্যমে কিন্তু পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন ছোটপর্দায়। আর তেমনি একজন অভিনেত্রী ছিলেন রীতা কয়রাল। ৮০ থেকে ৯০ এর দশকের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন রীতা কয়রাল। প্রথম থেকেই দাপুটে খলনায়িকার চরিত্রের অভিনয় করতে দেখেছেন দর্শক তাকে। কিন্তু একটা সময় তিনি মমতাময়ী মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের চোখে জল নিয়ে এসেছিলেন।

১৯৫৯ সালে কলকাতাতে জন্ম হয় অভিনেত্রী রীতা কয়রালের। তিনি তার ক্যামেরার সামনে কাজ শুরু করেছিলেন দূরদর্শনের মাধ্যমে। দূরদর্শনের একজন সংবাদ পাঠিকা হিসাবে প্রথম তিনি দর্শকের সামনে এসেছিলেন। তবে অভিনয় এবং সংবাদ পাঠ ছাড়াও তিনি একজন দুর্দান্ত নৃত্যশিল্পীও ছিলেন। বিষ্ণু পাল পরিচালিত ‘জননী’ ধারাবাহিকে তিনি তার প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান। আর প্রথম অভিনয়ই তিনি নিজের অভিনয় ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন দর্শককে।

জননী ধারাবাহিকে পার্থ মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী এর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। এরপর থেকেই তিনি অভিনয় জগতে নিজের স্থান পাকা করতে শুরু করেন। ঋতুপর্ণ ঘোষ,অপর্ণা সেন,অঞ্জন দত্তের মত তাবড় তাবড় পরিচালকরা তার সঙ্গে কাজ করার জন্য সুযোগ খুঁজতেন। এত জনপ্রিয় তার পরেও টলিউডের তিনি তার যোগ্য সম্মান পাননি। কিন্তু নিজের ক্যারিয়ারে একটা সময় তিনি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন।

জাতীয় পুরস্কার জেতার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল তার কাছে। ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত বাড়িয়ালি ছবিতে কিরণ খেরের গলায় ডাবিং করেছিলেন তিনি। ছবিটি যখন জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার জন্য মনোনীত হয় তখন কিরণ খেলে পাশাপাশি রিতা কয়ালির নামও এসেছিল জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার তালিকায়। কিন্তু কিরণ খের জাতীয় পুরস্কার পেলেও রিতা কয়ালির কাছে এসে পৌঁছয়নি জাতীয় পুরস্কার। পরে তিনি এক সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছিলেন তিনি চক্রান্তের শিকার হয়েছিলেন পরিচালক অনুপম খেরের চক্রান্তের জন্যই তিনি এই পুরস্কার পাননি।

যোগ্য সম্মান না পাওয়ার জন্য তিনি আজীবন কষ্ট পেয়েছেন। অভিনেত্রীকে টলিউড এ বলা হতো লেডি বিবেকানন্দ। তার কারণ তিনি নাকি ৪০ পাতা স্ক্রিপ্ট একবার করেই গড়গড় করে মুখস্থ বলে দিতে পারতেন। অভিনয় জগতের আরেক দাপটে খলনায়ক সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিয়ে করেছিলেন তিনি। কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়। তবে তার পরে তিনি আবার দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের নাচ কেউ গুরুত্ব দিতেন তিনি। অভিনয় এবং নাচ নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ এই এক সময় তার শরীরে ধরা পড়ে লিভার ক্যান্সার। বেশ কিছু বছর তার সাথে লড়াই করে ২০১৭ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রীতা কয়রাল। তবে এত জনপ্রিয় এবং প্রতিভাবান একজন শিল্পী কোন জায়গাতেই নিজের যোগ্য সম্মান পাননি। তার অভিনয় গুণ এতটাই ছিল যে মৃত্যুর পরেও তাকে এখনো দর্শকরা মনে রেখেছে।

