বাবার শ্রাদ্ধের দিন কাজে আসতে পারবো না বলে আমায় রিপ্লেস করা হয়, কাজ নেই বলে প্রিয় বন্ধুর থেকে অপমান, তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানালেন শুভদ্রা 

তিনি টেলিপর্দার পরিচিত মুখ। অভিনেত্রী সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে নতুন করে আলাপ করানোর কিছু নেই। সম্প্রতি এক্কাদোক্কা ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছিল সুভদ্রাকে। ‘এক্কাদোক্কা’র নতুন প্লোতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ‘মোহর’ ধারবাহিকের প্রতীক সেন ও সোনামণি জুটিকে। সেখানে প্রতীকের পিসিমার চরিত্রে অভিনয় করছিলেন সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়। কিন্তু চলতি বছরের ৬ই মার্চ মারা যান অভিনেত্রীর বাবা। যার ফলে এক ভিশন মেন্টাল ট্রমায় চলে গিয়েছিলেন তিনি। তার গলা ভেঙে গিয়েছিল শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিয়েছিল ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস অভিনয় থেকে বিরতি নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। বর্তমানে তিনি আবার অভিনয় জগতে প্রত্যাবর্তন করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন তার বাবা তার কাছে সব।

অভিনেত্রীর কথায়, “আমি অপেক্ষা করে থাকতাম কখন আমার অভিনয় দেখে বাবা বলবে দুর্দান্ত হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই বাবা বলতেন আরো ভালো হতে পারতো। কিন্তু রাজযোটক ধারাবাহিকে আমার অভিনয় দেখে বাবা বলেছিলেন খুব ভালো হয়েছে এভাবেই চালিয়ে যা। বাবা খুব ভালো হয়েছে বলেছে মানে আমার আর কিছুই চাই না। ওইটাই আমার কাছে অস্কারের সমান।”

বর্তমানে কমলা ও শ্রীমান পৃথ্বীরাজ ধারাবাহিকে কমলার শাশুড়ির পিসি শাশুড়ির চরিত্র অভিনয় করছেন সুভদ্রা। গয়নার প্রতি ভীষণ আবেগ তার। কিন্তু কিছু মাস আগে তাকে ছেড়ে দিতে হয় এক্কাদোক্কা। এই নিয়ে অভিনেত্রী বললেন, “এক্কাদোক্কা আমার খুব প্রিয় একটা কাজ ছিল কারণ ওখানে প্রতীক ছিল। যেদিন বাবার শ্রাদ্ধ আমি বলেছিলাম সেদিনটা বাদ দিয়ে তারপরের দিন থেকে আমি কাজ করতে পারব। তখনই আমাকে বলা হয় তাহলে তো তোমাকে রিপ্লেস করতে হবে। কথাটা শুনে খুব ধাক্কা লেগেছিল আসলে অনেকদিন ধরেই কাজ করছি তো এখানে। তাই রিপ্লেসের কথা শুনলে বেশ কষ্ট হয়। আর যখন সেটা নিজের থেকে ছোট কারোর কাছ থেকে শুনতে হয় তখন আরো অনেক বেশি খারাপ লাগে। তাই আমি বলেছিলাম রিপ্লেস করে নে। তারপর থেকে আর ওই পাঠটা করা হয়নি।”

তাকে প্রশ্ন করা হয় আজকাল যে একটি ধারাবাহিক দু-তিন মাসের বেশি আর টেকে না এতে কতটা এফেক্ট তারকাদের উপর? উত্তরে তিনি বলেন, “টিআরপির চক্করে আজ সত্যিই আর একটা ধারাবাহিক খুব বেশিদিন চলে না আর এর সবথেকে বড় প্রভাব পড়ে প্রোডিউসার আর তার গোটা টিমের ওপর। একটা সিরিয়ালের পিছনে ১০০ জন কাজ করে হঠাৎ করে ছোট্ট একটা নটিসেই একটি সিরিয়াল যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন সেই ১০০ গুণ ৫ অর্থাৎ এই ১০০ জন সহ তাদের পরিবারের লোকজন প্রত্যেকেরই পেটে টান পড়ে। আর এটা সবথেকে বেশি কষ্টকর। আগে টেলিভিশনে এত চ্যানেল ছিল না আর ধারাবাহিকের সংখ্যাও কম ছিল। আজ চ্যানেল আর ধারাবাহিক এত পরিমানে বেড়ে গেছে যে দর্শকরা ঠিক করতে পারেন না কোনটা দেখবেন যেটা থেকেই মন উঠে যায় সেটাই দেখা বন্ধ করে দেন। আর সেই ধারাবাহিকটিও সম্প্রচার হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।”

এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে কতটা পেয়েছেন অভিনেত্রী? সুভদ্রা বললেন, “অনেক কিছু পেয়েছি অনেক মানুষের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেয়েছি, অনেক কিছু জানতে পেরেছি। নিজের আবেগগুলোকে কষ্টগুলোকে হোল্ড করা শিখেছি। পাওয়ার তালিকাটা অনেক বড়। তবে হ্যাঁ, বর্তমানে এই অভিনয় জগত অনেকটাই স্বার্থপর হয়ে গিয়েছে।”

কখনো কি কোন খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাক? উত্তর এই অভিনেত্রী বলেন, “আমাদের অভিনেত্রীদের একটা সময় থাকে যখন হাতে অনেক কাজ আবার দু-তিন মাস এমন চলে যে কোন কাজ নেই। আমার এক বন্ধু ছিল যাকে আমি একসময় অনেক কাজের জোগাড় করে দিয়েছি। তার যাতে মাইনে বাড়ে সে যাতে ভালো থাকে অনেক চেষ্টা করেছি তার যখন কাজ ছিল না তার বাড়িতে গিয়ে বসে অব্দি থেকেছি। কিন্তু আমার যখন কাজ ছিল না তখন আমি একবার ভুলবশত তার শুটিংয়ের সময় তাকে ফোন করে ফেলি আর সে তখন আমায় বলেছিল তোর কাজ নেই বলে তুই আমার শুটিংয়ের সময় আমাকে বিরক্ত করতে পারিস না। তার সেই কথাটা খুব খারাপ লেগেছিল তারপর অনেক দিন কথা হয়নি এখনো হয় না। তবে ওই কথাগুলো আমি কখনোই ভুলবো না। এই অভিনয় জগত আমাকে বন্ধু চিনতে শিখিয়েছে।”

Back to top button