‘মা বলে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখো, তুমি খুব ভালো মানুষ বলে লোক ঠকায়!’ ‘সত্যি আমি বহুবার ঠকেছি, তাই নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন!’ হঠাৎ কেন এমন বললেন অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত?

গ্ল্যামার জগতের ঝলমলে আলোর নিচে লুকানো থাকে অনেক কঠিন সংগ্রামের গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই অদেখা অধ্যায় এবং পরিবারের ভূমিকা নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত (Nandini Dutta)। তিনি জানান, তার আজকের এই অবস্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার বাবার। অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘আমাদের বাবা যে মানুষটা, খুব খেটেছেন। একদম ইয়ং বয়স থেকে, ছোট ছোট কাজ থেকে শুরু করে জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।’ বাবার সেই পরিশ্রমী জীবনই তাকে আজ প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করার শক্তি জোগায়।
বাবার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা বা ‘লাইফ এক্সপেরিয়েন্স’ যে অনেক বেশি গভীর, সেটিও ফুটে ওঠে তার কথায়। নন্দিনী বলেন, ‘বাবার এডুকেশনাল এক্সপেরিয়েন্স থেকে অনেক বেশি লাইফ এক্সপেরিয়েন্স আছে।’ তিনি বিশ্বাস করেন যে, তার বাবা নিজের জীবন থেকে যা শিখেছেন, সেই শিক্ষাগুলোই তাকে প্রতিনিয়ত দিয়ে চলেছেন। বাবার এই জীবনদর্শন তাকে শিখিয়েছে যে, কেবল বইয়ের পাতায় নয়, বরং বাস্তব পৃথিবীর কঠিন পথ চলাই হলো আসল শিক্ষা, যা তাকে পেশাদার জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে।
মা-মেয়ের সম্পর্কের গভীরতা এবং মেয়ের প্রতি মায়ের চিরাচরিত উদ্বেগের বিষয়টিও এই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। মায়ের দেওয়া সতর্কবার্তার কথা বলতে গিয়ে নন্দিনী জানান, তার মা তাকে সবসময় আগলে রাখতে চান। মা তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নিজেকে বাঁচিয়ে রাখো আর নিজেকে গার্ড করে রাখো। তুমি খুবই পিওর, সব মা-সব সন্তানদের মনে হয়। তুমি খুব ভালো মানুষ বলে লোক ঠকায়।’ মায়ের এই গভীর মমতা আর আশঙ্কা অভিনেত্রীকে বাইরের জগতের জটিলতা বুঝতে এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে।
ব্যক্তিগত জীবন এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও নন্দিনী বেশ খোলামেলা আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে বন্ধু নির্বাচন বা প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের দূরদর্শিতার প্রশংসা করেছেন তিনি। তার মতে, মা-বাবা সন্তানদের ভালো-মন্দের বিষয়টি আগেভাগেই টের পান। তিনি স্বীকার করেন, ‘মা-বাবা যে আন্দাজ করেন, যে কোনো বন্ধুর ব্যাপারে বলো বা বয়ফ্রেন্ডের ব্যাপারে বলো বা যার ব্যাপারে বলো দে আর অলওয়েজ রাইট।’ সম্পর্কের চড়াই-উতরাইয়ে বাবা-মায়ের এই সঠিক মূল্যায়ন তাকে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘দাদা-দিদি বলে তেল দিয়ে কাজ চাওয়া আমার আসে না…’, দেড় বছর ধরে আসেনি ডাক! হাতে নেই কাজ, তবুও হার মানেননি অভিনেত্রী! টলিউডের কাস্টিং নিয়ে বি’স্ফোরক অঙ্কিতা মজুমদার!
ক্যারিয়ারের ব্যস্ততা আর ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের মাঝেও নন্দিনী তার শেকড়কে ভুলে যাননি। সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় হওয়া বাবার শিক্ষা আর মায়ের স্নেহের শাসনই এখন তার জীবনের মূল চালিকাশক্তি। তিনি মনে করেন, পরিবারের এই অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানই তাকে আগামী দিনে আরও পরিণত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে মা-বাবার সেই কথাগুলোই তার কাছে ধ্রুবতারার মতো সত্য হয়ে ধরা দেয়, যা তাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে সাহস জোগায়।

