‘ওর ছবিতে আমার কোনো জায়গা নেই!’ ‘বয়স্ক মহিলাদের জন্য ছবি বানান না উনি…!’ সৃজিত মুখার্জির ছবিতে কেন দেখা যায় না অভিনেত্রীকে? জানালেন অলকানন্দা রায়!

অলকানন্দা রায় (Alokananda Roy) বাংলা বিনোদন জগতের এক অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সম্মানীয় অভিনেত্রী। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ধারাবাহিকে তাঁর সাবলীল ও মন ছুঁয়ে যাওয়া অভিনয় দিয়ে দর্শকদের হৃদয় জয় করে আসছেন। বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা থেকে শুরু করে সমান্তরাল ধারার ছবি সবক্ষেত্রেই তাঁর অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর সুস্পষ্ট। বাংলা বিনোদন জগতে বর্ষীয়ান অভিভাবক ও মায়ের চরিত্রে তাঁর অনবদ্য ভূমিকা দর্শকদের কাছে আজও অত্যন্ত প্রিয়।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়া একটি সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে বর্তমান বাংলা সিনেমার ধরন এবং সেখানে প্রবীণ শিল্পীদের স্থান নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সঞ্চালক মৃন্ময় কাঞ্জিলালের সঙ্গে এক আড্ডায় প্রবীণ অভিনেত্রী অলকানন্দা রায় খোলামেলা আলোচনা করেছেন বর্তমান যুগের নামী পরিচালকদের কাজের ধারা এবং তাঁদের ছবিতে বয়স্ক চরিত্রদের উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে।
আলোচনায় কথা প্রসঙ্গে ওঠে বর্তমান সময়ের অন্যতম সফল পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলির কথা। অলকানন্দা রায় জানান, কৌশিক গাঙ্গুলির পরিচালনায় তিনি বেশ কয়েকটি কাজ করেছেন। বিশেষ করে ‘সিনেমাওয়ালা’ ছবি এবং দেব অভিনীত বহুল চর্চিত ‘ধূমকেতু’ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা তিনি ভাগ করে নেন। তিনি জানান, ‘ধূমকেতু’ ছবিতে তিনি নায়ক দেবের মায়ের চরিত্রে কাজ করেছিলেন, যা দীর্ঘ ১০ বছর পর বড় পর্দায় আলোর মুখ দেখেছে।
অন্যদিকে, সৃজিত মুখার্জির মতো প্রতিভাবান পরিচালকের ছবিতে কম কাজ করার পেছনে আসল কারণটিও তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। অভিনেত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সৃজিত মুখার্জির ছবির বিষয়বস্তু ও গল্পের গঠন সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের হয়। এই ধরনের চিত্রনাট্যে বয়স্ক নারী চরিত্রের সুযোগ বা জায়গা এমনিতেই খুব কম থাকে। ফলে সেখানে তাঁর বা তাঁর সমসাময়িক অভিনেত্রীদের অভিনয়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ ব্যক্তিগত শত্রুতা ছাপিয়ে ব্যানার্জি পরিবারকে ধ্বংসের চক্রান্ত! উজিকে শেষ করার ছক দুর্জয়ের! জবাবে চক্রান্তকারীদের মুখোশ খোলার হুঙ্কার উজির!
পরিশেষে বলা যায়, বাংলা সিনেমা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকটা বদলেছে এবং গল্পের ধরন ও পরিচালকদের ভাবনায় এসেছে নতুনত্ব। তবে গল্পের প্রয়োজনে হোক কিংবা অভিজ্ঞতার কদরে অলকানন্দা রায়ের মতো বর্ষীয়ান অভিনেত্রীদের বড় পর্দায় পাওয়া সর্বদা বাংলা সিনেমাকে সমৃদ্ধ করে। পরিচালকদের উচিত চিত্রনাট্যে আরও নতুন ধরনের প্রবীণ চরিত্র তৈরি করা, যাতে এই প্রবীণ শিল্পীদের দক্ষ অভিনয় দর্শকরা বারবার পর্দায় উপভোগ করতে পারেন।

