এপ্রিলে শেষ হচ্ছে না “মিঠাই”! সবটাই জল্পনা! গল্পে নতুন মোড় নিয়ে আসছেন নির্মাতারা, খবর সামনে আসতেই খুশি ভক্তরা

বর্তমানে সবচেয়ে পুরনো ধারাবাহিক হলো জি বাংলার ‘মিঠাই’। বাংলা টেলিভিশনের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক এটি। এর মূল ভুমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায় অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুন্ডু এবং অভিনেতা আদৃত রায়কে। শুরুতেই টিআরপির শীর্ষে পৌঁছেছিল এই ধারাবাহিক। একটা সময় ৫৬ বার টি আর পি তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে মিঠাই। এই সময়ে দাঁড়িয়ে এইরকম জনপ্রিয় ধারাবাহিক আরও দুটো পাওয়া খুবই মুশকিল। কিন্তু সেই ধারাবাহিকের টিআরপি তালিকা বেশ কিছু মাস ধরে একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। দীর্ঘ দু বছরের বেশি সময় ধরে টিভির পর্দায় সম্প্রচার হচ্ছে এই ধারাবাহিক।

প্রতিপক্ষ হিসাবে নতুন ধারাবাহিক এনেও মিঠাইয়ের জনপ্রিয়তাকে ফিকে করতে পারেনি কেউই। টি আর পি তালিকায় পয়েন্ট কম থাকলেও স্লট লিড কিন্তু প্রতিবারই করে এসেছে মিঠাই। যখন সে সন্ধে ৮ টার সময় সম্প্রচার হতো তখনও রম রমিয়ে চলেছে আবার স্লট পরিবর্তন করে সন্ধে ৬ টায় পাঠানোর পরেও একইভাবেই চলছে এই ধারাবাহিক। ধারাবাহিকের শুরু থেকেই সিদ্ধার্থ এবং মিঠাই এর জুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল দর্শকের কাছে। গ্রামের মেয়ে শহরে মনোহরা বিক্রি করতে আসে সেখান থেকেই শহরের জনপ্রিয় মিষ্টি বিক্রেতা সিদ্ধেশ্বর মোদকের বাড়িতে ঢুকে সেখানে সকলেই তার মিষ্টি খেয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়। তারপরেই ঘরে গল্পের মোর, জানা যায় সেই গ্রামের মিষ্টি বিক্রেতা মিঠাই হলো সিদ্ধেশ্বর মোদকের বড় ছেলের বউয়ের বন্ধুর মেয়ে।

গ্রামে বিপদে পড়ে তারা শহরের সেই বাড়িতে আসে এবং ঘটনাচক্রে মিঠাইএর সঙ্গে সিদ্ধেশ্বর মোদকের নাতি সিদ্ধার্থের বিয়ে হয়। সিদ্ধার্থ ছিল একজন কর্পোরেট অফিসে চাকরি করা একেবারেই রুক্ষ মানুষ। তাকে দিনে দিনে একেবারে পরিবর্তন করে ফেলে মিঠাই। কর্পোরেট হাউসে চাকরি করা একজন চাকুরীজীবী থেকে তাকে ব্যবসায় যোগ দেয়ানো আর বর্তমানে পুলিশ অফিসার এই সবকিছুই হয়েছে মিঠাইয়ের জন্য। সম্প্রতি গল্পও অনেকটাই এগিয়ে গেছে প্রথমদিকে যে মিঠাইকে মেনে নিতেও অসুবিধা ছিল সিদ্ধার্থের এখন সেই মিঠাইকেই চোখে হারায় সে।

ঘটনাচক্রে মিঠাই আদিত্য আগারওয়ালের চক্রান্তে আগুনে পু’ড়ে মা’রা যায়, এমনটাই দেখানো হয়। কিন্তু আবার গল্পে কিছুদিন আগেই ফিরে এসেছে মিঠাই, কিন্তু নতুন মোড় হল তার স্মৃতিশক্তি হারিয়ে গেছে। বর্তমানে মিঠাই এবং সিদ্ধার্থের দুই ছেলে মেয়ে একজন হল শাক্য এবং অন্যজন হল মিষ্টি। তাদের ছোট্ট সংসার দর্শকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। মিঠাইয়ের স্মৃতি ফেরানোর জন্য মনোহরার প্রত্যেকে চেষ্টা করে যাচ্ছে বারে বারে। তার আবছা আবছা কিছু মনে পড়লেও এখনো সবকিছু পরিষ্কার নয়। উল্টোদিকে যাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল মিঠাই অর্থাৎ নফর দাস এবং তার ছেলে চক্রান্ত করে মিঠাইকে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়েছে।

এইসব নিয়েই ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল মিঠাই, আর এর মধ্যেই আবার একবার জল্পনা উঠলো মিঠাই শেষ হওয়ার। এর আগেও অবশ্য অনেকবার সোশ্যাল মিডিয়াতে গুঞ্জন উঠেছে মিঠাই শেষ হয়ে যাওয়ার কিন্তু সেই সব কিছুকেই নাকচ করে মিঠাই ধারাবাহিক রমরমিয়ে চলেছে। কিন্তু এবারের জল্পনাটা কিছুটা হলেও সত্যি হতে পারে এমনটাই আঁচ করছে না অনেকে। গল্প যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যেতে পারে মিঠাই। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর গুঞ্জন এপ্রিল মাসেই নতুন ধারাবাহিক আসবে জি বাংলার পর্দায়।

সত্যিই কি শেষ হচ্ছে মিঠাই? তাহলে শ্রী আর রাতুলের মাঝে লেখিকা কেনো আনলেন তৃতীয় ব্যক্তি? এখন সবটাই ধোঁয়াশা। গল্পে হঠাৎ রাতুলের এক ছাত্রীর আগমন দর্শকদের ফেলেছে এক ধাঁধায়। তবে কি ফের নতুন মোর নেবে এই ধারাবাহিক? দর্শক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। মিঠাই যদি শেষই হয়ে যায় তাহলে লেখিকা নতুন করে গল্পটি রাতুলের দিকে টানত না। এক মাসের মধ্যে আবারও পাল্টে যেতে পারে গল্প। তাই এখন পুরোটাই নির্ভর করছে নির্মাতাদের ওপর।

