২ বছরের ছেলেকে ম’দ খাওয়াতেন অভিনেত্রী মহুয়া রায় চৌধুরী! বিস্ফোরক রত্না ঘোষাল!

১৯৮৫ সালের ২২ জুলাই প্রয়াত হয়েছিলেন অভিনেত্রী মহুয়া রায় চৌধুরী (Mahua Roychoudhury)। তবে ৩৯ বছর পরেও তার মৃত্যু নিয়ে জল্পনা কমেনি টলিপাড়ায়। আশির দশকের গোড়ায় বাংলা ছবির অন্যতম মহিলা সুপারস্টার ছিলেন মহুয়া। সুচিত্রা সেন (Suchitra Sen) পরবর্তী যুগে তাঁর উপরই বাজি রেখেছিল প্রযোজকরা। সংবাদ সূত্রে খবর, মৃত্যুর আগে নাকি তার হাতে ছিল ২২ টি সিনেমা। যার মধ্যে অভিনেত্রী শেষ করতে পেরেছিলেন মাত্র ৪টি ছবি। ৭টি সিনেমা অর্ধসমাপ্ত এবং ১১টি সিনেমা সই করেও করতে পারলেন না কাজ। না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন অভিনেত্রী। অভিনেত্রীর রাগ আর বেপরোয়া জীবনযাপনই কাল হয়েছিল!

অভিনেত্রী মহুয়া রায় চৌধুরীর খুব কাছের বান্ধবী ছিলেন রত্না ঘোষাল। মহুয়া তাঁকে ডাকতেন ‘মাটু’ বলে। মৃত্যুর সময় একমাত্র ছেলে গোলা ওরফে তমালের দায়িত্বও রত্নাকে দিতে চেয়েছিলেন। দুজনেই ছিলেন সমসাময়িক। একসঙ্গে বহু বছর কাজ করেছিলেন থিয়েটারে। সম্প্রতি প্রিয় বান্ধবীর প্রসঙ্গে মুখ খুললেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল। প্রিয় বান্ধবীর ব্যক্তিগত জীবনের নানান খুঁটিনাটি বিষয় তুলে ধরেছেন তিনি।

মহুয়া রায় চৌধুরীর পরিবারের সম্পর্কে কী বলেছেন রত্না ঘোষাল

সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমকে অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল জানিয়েছেন তার সঙ্গে মহুয়া রায় চৌধুরীর পরিচয় হয়েছিল মহুয়ার দাদার সূত্রে। যখন ভরতনাট্যম নাচ করতেন মহুয়া। এরপর একসঙ্গে কাজ শুরু করেন তারা। রত্না ঘোষালের কথা শুনে থিয়েটারের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিল অভিনেত্রী। এমনকি তিলক চক্রবর্তীর সঙ্গে সম্পর্কের কথাও প্রিয় বান্ধবীর কাছে লুকাননি মহুয়া। তবে বিয়েতে রাজি ছিল না মহুয়ার বাবা। অভিনেত্রীর রত্না ঘোষালের কথায়, “মহুয়া ছিল ওনাদের সোনার ডিম পাড়া হাঁস। মহুয়ার টাকাতেই সংসার চলত ওনাদের। এবার মহুয়া যদি বিয়ে করে নেয় তাহলে তো ওনাদের লোকসান। টাকা আসবে না। সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে কি কেউ ছাড়ে!”

মহুয়া রায় চৌধুরীর সম্পর্কে বেফাঁস মন্তব্য করলেন রত্না ঘোষাল

তবে সেদিন সাক্ষাৎকারে মহুয়া রায় চৌধুরীর সম্পর্কে বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন রত্না। অভিনেত্রী বলেন “মহুয়া মদ খেত, ভীষণ ড্রিংক করতে ভালবাসত। আর ও ওর ছেলেকে পর্যন্ত সেটা খাওয়াতো। গোলা (মহুয়ার ছেলে) ও ছোটবেলায় এত মিষ্টি ছিল। গুলুগুলু ছিল পুরো। খুব শান্তশিষ্ট স্বভাবের। সেই জন্যই ওর নাম গোলা। কিন্তু আমি খুব অবাক হতাম, যে ও ওর ছেলেটাকে মদ খাওয়াতো। আমি একদিন ওকে বললাম হ্যাঁ রে, ও ছোট একটা বাচ্চা! ওকে তুই মত খাওয়াচ্ছিস? মহুয়া বলত, কী মুশকিল! ওর বাবা মা মদ খায়, আর ও খাবে না? গোলা নিজেও চুপটি করে বসে থাকত। তখন কত বয়স ওর? দুই-আড়াই বছর।”

মহুয়া রায় চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে কী বলেছেন রত্না ঘোষাল?

প্রিয় বান্ধবীর মৃত্যু নিয়েও এদিন মন্তব্য করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল। অভিনেত্রী মতে, “মৌয়ের ভীষণ রাগ ছিল। এমনি খুব ভালো হাসিখুশি কিন্তু রেগে গেলেই নিজেকে মেরে ফেলার চেষ্টা করত। একবার ওর বাবার সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল তখন ও রেগে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে মরতে গিয়েছিল। ওর দিদি বাঁচিয়েছিল। আরেকবার তো আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। দেখি ক্ষুর দিয়ে হাত কেটেছে। গল গল করে রক্ত পড়ছে। আমি নিয়ে গিয়েছিলাম ডাক্তারের কাছে। সেলাই পড়েছিল। আরেকবার তিলকের সঙ্গে ঝগড়া করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল রেগে গিয়ে। তিলক আমার বাড়ি এসে বলল ও গাড়ি চালাতে জানে না এদিকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেছে। সেই রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে এসেছিলাম।” অভিনেত্রী এও বলেন “ওই ঘটনার কিছুদিন আগে ওর বাংলাদেশে অভিনয়ের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু প্রযোজনা সংস্থা চিঠি দিচ্ছিল না তাই ভিজা করতে দেরি হচ্ছিল। সেদিনও আমার বাড়িতে এসেছিল ভিজার কারণে। বাড়ি গিয়ে খুব ড্রিক করেছিল। তারপরই তিলক মাঝরাতে এসে বলল ও গায়ে আগুন দিয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। ও আমায় বলেছিল তুই তো জানিস কেন করলাম এমনটা। তারপরই এগারো দিনের ও মাথায় মারা যায়। এদিকে সবাই তিলকেই দোষ দিচ্ছে। আমি জানি তিলক ভালো ছেলে ছিল। মৌ নিজেকে না মারলে কেউ এটা করতে পারবে না।” যদিও অভিনেত্রীর অকাল প্রয়াণে অনেকেই অভিনয় জগতে নাম করার সুযোগ পেয়েছেন এমনটাই দাবি করেছেন মহুয়া।

Back to top button