মৃ’ত শাশুড়ির দা’হকাজে ভ্লগ! ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ মহুয়াকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে! ‘নাটক করে কান্না…বরের সঙ্গে হেসে ছবি পোস্ট!’ ‘এত নিম্নমানের রুচি কবে থেকে হল?’ সমালোচনায় মুখর সমাজ মাধ্যম!

মেদিনীপুরে বড় হওয়া, পরে বিয়ে হয়ে হালিশহর এবং এখন স্বামীর কর্মসূত্রে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস। এই পরিচয়েই পরিচিত জনপ্রিয় ভ্লগার মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায়, যাঁকে অধিকাংশ মানুষ চেনেন ‘প্রবাসে ঘরকন্না’র মহুয়া নামে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ভ্লগিং বহুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কখনও জনপ্রিয়তা, কখনও আবার বিতর্ক, দুইই যেন পাশাপাশি চলেছে তাঁর জীবনে। প্রতিদিনের মতো তাঁর ভিডিও শুরু হয় পরিচিত লাইন “নমস্কার কেমন আছেন সবাই” দিয়ে। রান্নাবান্না, সংসারের ছোটখাটো ঘটনা, প্রতিবেশীদের আচরণ, কিংবা আমেরিকার জীবনযাত্রা নিয়ে নানা কথাবার্তা উঠে আসে তাঁর ভিডিওতে। সাধারণ জীবনের খুঁটিনাটি নিয়ে তৈরি এই ভ্লগ অনেকের কাছে বিনোদনের উৎস হলেও সমালোচনাও কম শোনা যায় না।

সম্প্রতি তাঁর একটি নতুন ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল বিতর্ক। এই ভিডিওতে উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এক অত্যন্ত সংবেদনশীল মুহূর্ত। শাশুড়ির মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবার নিয়ে দেশে ফেরার ঘটনাও তিনি তুলে ধরেছেন নিজের ভ্লগে। ভিডিওতে দেখা যায় ফুলে সাজানো মৃত্যুশয্যায় শাশুড়ির নিথর দেহ, পরিবারের আবেগঘন মুহূর্ত এবং স্বামীর কান্নার দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। ব্যক্তিগত শোকের এমন মুহূর্ত প্রকাশ্যে আনা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকের মতে, জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলিকে এভাবে প্রকাশ্যে তুলে ধরা উচিত কি না তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ভিডিওর একটি নির্দিষ্ট অংশ। শাশুড়ির দাহকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর নিজের কিশোরী মেয়ের সঙ্গে কথোপকথনের একটি অংশে মহুয়া যেভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন, তা শুনে অনেকেই বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি মেয়েকে বোঝাতে গিয়ে বলেন যে ইলেকট্রিক চুল্লিতে দাহ করা হয়েছে এবং সেটিকে তুলনা করেন কেক বানানোর ওভেনের সঙ্গে। এই তুলনাই নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন এমন সংবেদনশীল বিষয়কে এতটা সরলীকরণ বা তুলনা করা উচিত ছিল না।

ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। কেউ লিখেছেন মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে তা এই ভিডিও দেখলেই বোঝা যায়। আবার কেউ মন্তব্য করেছেন মৃত্যুর মতো গম্ভীর বিষয়কেও যদি কন্টেন্ট বানানো হয় তবে সমাজ কোন দিকে এগোচ্ছে তা নিয়ে ভাবা জরুরি। অনেকেই বলেছেন যে পারিবারিক শোকের মুহূর্তকে এভাবে প্রকাশ্যে আনা এবং সেই সঙ্গে এমন মন্তব্য করা সত্যিই অস্বস্তিকর। ফলে একের পর এক সমালোচনার ঢেউ উঠেছে নেটমাধ্যমে।

আরও পড়ুনঃ শুভ বিবাহ-র পর টেলিপাড়া থেকে দূরে মৌমিতা চক্রবর্তী! কামব্যাকের অপেক্ষায় দিন গুনছেন ভক্তরা!

যদিও এত বিতর্কের মাঝেও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি ভ্লগার মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায়। ভিডিওটি নিয়ে আলোচনা এবং সমালোচনা চলতেই থাকলেও তাঁর তরফে নীরবতাই বজায় রয়েছে। অনেকেই অপেক্ষা করছেন তিনি এই বিতর্ক নিয়ে কী ব্যাখ্যা দেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার এক বড় প্রশ্ন, ব্যক্তিগত জীবন এবং কন্টেন্ট তৈরির সীমারেখা আসলে কোথায় টানা উচিত।

Back to top button