শ্যামলা হওয়ায় শুনতে হয়েছে কটাক্ষ! বৈবাহিক জীবনেও মিলেছে হতাশা! সব বাধা পেরিয়ে সফল অভিনেত্রী এবং পরিচালিকা হয়ে উঠেছেন কঙ্কনা সেন শর্মা!

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির (Film Industry) জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের তালিকায় রয়েছে তার নাম। তিনি আর কেউ নন সকলের প্রিয় অপর্না সেনের (Aparna Sen) কন্যা কঙ্কনা সেন শর্মা (Konkona Sen Sharma)। যিনি অভিনয় জগতে ভীষণই সফল একজন ব্যক্তিত্ব। কিন্তু অভিনয়ের দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তিনিও বহুবার কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন একটা সময়। তার জীবনেও রয়েছে অনেক না পাওয়া।
কঙ্কনা সেন শর্মার জীবন কাহিনী
১৯৭৯ সালের ৩ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন কঙ্কনা। তার বাবা মুকুল শর্মা একজন বৈজ্ঞানিক লেখক এবং সাংবাদিক এবং মা অপর্ণা সেন একজন অভিনেত্রী এবং পরিচালক। কঙ্কনার অভিনীত প্রথম ছবি ইন্দিরা। তারপর ২০০০ সালে প্রাপ্ত বয়স্ক অভিনেত্রী হিসেবে এক যে আছে কন্যা সিনেমায় অভিনয় করেন। ঋতুপর্ণ ঘোষের তিতলী ছবিতে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। তারপর ২০০১ সালে ইংরেজি ছবি মিঃ অ্যান্ড মিসেস আইয়ার সিনেমায় অভিনয় করেন। যার পরিচালক ছিলেন অপর্ণা সেন। ওই ছবিতে অভিনয় করেই জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন অভিনেত্রী।
অভিনেত্রীর অভিনীত জনপ্রিয় কিছু ছবি হলো ট্রাফিক সিগন্যাল, লাইফ ইন এ মেট্রো, লাক বাই চান্স, ওয়েক আপ সিড, ইতি মৃণালিনী, গয়নার বাক্স, শেষের কবিতা, কাদম্বিনী, সজারুর কাঁটা ইত্যাদি। বর্তমানে তো পরিচালক হিসেবেও কাজ করছেন অভিনেত্রী। তবে একটা সময় অভিনেত্রীর জীবনে এমনও সময় এসেছিল যখন গায়ের রং চাপা হওয়ার কারণে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অনেক পরিচালক প্রযোজকেরা।
অভিনেত্রীর বৈবাহিক জীবন নিয়েও কম টানা পড়েন হয়নি। ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেত্রী ভালোবেসে ছিলেন অভিনেতা রণবীর সুরকে। তাদের একটি পুত্র সন্তানে রয়েছে। সন্তান জন্মের কয়েক বছর পর তারা আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি আবার ছেলের জন্যই এক হয়েছেন তারা। একটি সাক্ষাৎকারে একবার নিজেকে সিঙ্গল মাদার বলে উল্লেখ করেন কঙ্কনা। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে বিচ্ছেদের খবর স্বীকার করেন। বিচ্ছেদের জন্য নিজেকেই দোষারোপ করেন রণবীর।
আরও পড়ুন: সর্বনাশ! পা’চারকারীর দায়ে বিদেশি পুলিশের হেফাজতে শুভলক্ষ্মী! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!
দক্ষ অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও অভিনেত্রীকে অনেকবার অনেকের কাছে নিজের গায়ের রঙের জন্য ছোটো হতে হয়েছে। তবে কখনোই ভেঙে পড়েননি বঙ্গ কন্যা। সবসময় লড়াই করে ছিনিয়ে নিয়েছেন নিজের অধিকার। তাইতো আজ বাংলার পাশাপাশি বাংলার বাইরেও অভিনেত্রীর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিল। রয়েছে তার অসংখ্য ভক্ত।

