‘এই বছর আমার ভ্যালেন্টাইন শ্রেষ্ঠ উপহার দিয়েছে…’ ‘আরেকটা বউ এনেছে…!’ পঁচিশ বছরের সম্পর্কের ইতি! তবু ভালোবাসাটা মনের কোণে থেকেই গেছে! এক সর্বহারা নারীর করুণ স্বীকারোক্তি!

ভালোবাসার গল্প সব সময় সুখের হয় না। কখনও কখনও দীর্ঘ পথ হেঁটেও মানুষ বুঝতে পারে, যে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে জীবন গড়ে তুলেছিল, সেটাই একদিন ভেঙে যায় নিঃশব্দে। পঁচিশ বছরের সংসার, একসঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি, বিশ্বাস আর ভরসা সব মিলিয়ে গড়ে ওঠা জীবনের হঠাৎ বদলে যাওয়া সহজ নয়। একসময় মনে হয়েছিল ভালোবেসে ঘর বাঁধাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসাই যখন আঘাতে পরিণত হয়, তখন মানুষ নতুন করে নিজেকে চিনতে শেখে। অতীতের কষ্টকে মেনে নিয়ে তিনি এখন নিজেকে বোঝান, যা হয়েছে হয়তো ভালোর জন্যই হয়েছে।

ভ্যালেন্টাইন ডে তাঁর জীবনে কোনওদিন বিশেষ গুরুত্ব পায়নি। না ছিল বিশেষ আয়োজন, না ছিল প্রত্যাশা। সম্পর্কের মধ্যে বাড়তি দাবি বা আবদার কখনও রাখেননি তিনি। স্বাভাবিক জীবনই ছিল তাঁর কাছে যথেষ্ট। কিন্তু এখন ফিরে তাকালে মনে হয়, হয়তো সেই নির্লিপ্ততাই ভুল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ধীরে ধীরে তিনি যেন স্বাভাবিক হিসেবেই ধরা পড়েছিলেন জীবনে। যত্ন বা মূল্যায়নের অভাবই শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসে ফাটল ধরিয়েছে। আজ তিনি স্বীকার করেন, ভালোবাসা শব্দটার উপর তাঁর আগের মতো বিশ্বাস আর নেই।

তবু ভালোবাসা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। সম্পর্ক বদলেছে, মানুষ বদলেছে, কিন্তু অনুভূতি মুছে যায়নি। জীবনে এখন তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা তাঁর মেয়ে আর ছোট্ট পোষ্য। দিনের শেষে ঘরে ফিরে তাদের উচ্ছ্বাস, ছুটে এসে জড়িয়ে ধরা, সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই তাঁর শক্তি। ক্লান্তি, হতাশা, একাকিত্ব সবকিছু যেন মুহূর্তে দূর হয়ে যায়। তিনি বুঝেছেন, ভালোবাসা শুধু দাম্পত্যে সীমাবদ্ধ নয়, ভালোবাসা অনেক রূপে আসে, অনেকভাবে বেঁচে থাকে।

এই বছরের ভালোবাসা দিবস তাঁর কাছে অন্যরকম। কোনও সম্পর্কের ভার নেই, কোনও অস্বস্তিকর সত্যের মুখোমুখি হওয়ার ভয় নেই। অতীতের সেই যন্ত্রণা আর নেই, যখন ঘরে ফিরে অন্য কারও উপস্থিতি অনুভব করতে হত। এখন তাঁর জীবনে শান্তি আছে, মুক্তি আছে। তিনি মেনে নিয়েছেন, যে চলে যেতে চায় তাকে আটকে রাখা যায় না। বরং ছেড়ে দেওয়ার মধ্যেই কখনও কখনও নিজের মুক্তি লুকিয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ একটা ভুল সিদ্ধান্ত ভেঙে দিল নতুন-কমলিনীর সম্পর্ক! কি হবে এর পরিণতি? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

তবে মা হিসেবে তাঁর ভয় এখনও রয়ে গেছে। মেয়ের জীবনেও একদিন ভালোবাসা আসবে, সম্পর্ক আসবে, নতুন মানুষ আসবে। তিনি জানেন, সেই স্বাভাবিক পথকে থামানো যায় না। তবু মনের ভেতর দুশ্চিন্তা কাজ করে, মেয়ের জীবন যেন তাঁর মতো না হয়। ভালোবাসা যেন তাকে আঘাত না দেয়। সময়ই শেখাবে, মানুষ আলাদা হয়, অভিজ্ঞতাও আলাদা হয়। তবু একজন মায়ের হৃদয়ে প্রার্থনা একটাই, সন্তানের জীবনে ভালোবাসা যেন সত্যিই সুখ বয়ে আনে।

Back to top button