‘ঝাড়খণ্ড-বিহার থেকে লোক ভাড়া করছে শাসক দল!’ ‘লকেটের জায়গা তো তৃণমূলের লোকেরাই ব্লক করছে!’ ‘চোর-বেইমানগুলো বেরিয়েছে বলেই তো দিদির কাছে যেতে পারছি!’ একুশে জুলাই-এর মঞ্চে বি’স্ফোরক অভিনেত্রী ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) উদ্যোগে প্রতি বছর ২১শে জুলাই শহীদ দিবস অত্যন্ত আবেগ ও গুরুত্বের সাথে পালিত হয়। ১৯৯৩ সালের এই দিনে মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে নিহত ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর স্মরণে এই শ্রদ্ধা জানানো হয়। তৃণমূলের রাজনীতিতে এটি কেবল একটি স্মারক অনুষ্ঠান নয়, বরং দলের লাখ লাখ কর্মী-সমর্থকের ধর্মতলায় একত্রিত হওয়ার এবং শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে আগামী রাজনীতির দিশা পাওয়ার বার্ষিক প্রধান মঞ্চ।
বর্তমানে লোকসভা ও অন্যান্য নির্বাচনের পটভূমিতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নতুন মোড় দেখা যাচ্ছে। একদিকে নির্বাচন ও দলবদলকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের চাপ, অন্যদিকে দলের ভেতর থেকে দুর্নীতিমুক্ত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি গড়ে তোলার তাগিদ স্পষ্ট। সমস্ত প্রতিকূলতা সামলে দলের সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে হেভিওয়েট নেতারা কীভাবে আগামী দিনে এগোবেন, ধর্মতলার সমাবেশকে কেন্দ্র করে সেই বার্তাই জোরালোভাবে সামনে আসছে।
এই আবহে আয়োজনের নানা বাধা ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা কুণাল ঘোষ। প্রশাসনিক অনুমতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “সাতদিন রাস্তা বন্ধ করে প্যান্ডেল করা যায় সাধারণ মানুষকে যাতায়াত করতে না দিয়ে, আর একদিন যদি আমরা বছরের একটা প্রোগ্রাম যা ৪০ বছর ধরে হয়ে আসছে তার পারমিশন পেতাম, তাহলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হতো?” বিরোধী দল বিজেপির সভার লোক আনয়নকে কটাক্ষ করে তিনি আরও যোগ করেন, “ঝাড়খণ্ড, বিহার থেকে লোক নিয়ে আসছে বিজেপি নিজেদের লোক দেখানোর জন্য, আর এখানে যারা এসেছে তাদের থাকার জায়গা নেই, ট্রেনের টিকিট পায়নি, গাড়ি পায়নি…তবুও তারা এসেছে প্রাণের টানে, হৃদয়ের টানে।”
অন্যদিকে, বিরোধীদের বিশেষ করে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের নিশানা করতে ছাড়েননি তৃণমূলের শীর্ষ মুখপাত্ররা। দলে নতুনদের আগমন এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন, “লকেটকে বলুন তৃণমূল নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আমাদের নেতাদের নিয়ে মাথা ঘামাতে…তৃণমূল থেকে লোক গিয়ে তো সব লকেটেরই জায়গা ব্লক হয়ে যাচ্ছে।” ওদিকে অভিনেত্রী ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “কষ্টের নয়, এই কারণে যে যারা এতদিন ধরে এত বছর ধরে বেইমানি করে এসেছে, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়েছিল, চুরি করে এসেছে, তারা আজকে…মানে আমাদের দল আজকে নির্মূল হয়েছে, ওদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। আমরা যারা সাধারণ তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী আছি, যারা দিদির সঙ্গে একদম কথা বলতে পারতাম না বা অভিষেকদার সঙ্গে কথা বলতে পারতাম না, আজকে সেই এক্সেসটা পাচ্ছি আমরা। আমরা মনে করছি আমাদের দল তৃণমূল কংগ্রেসের শুদ্ধিকরণ হয়েছে, বরং ভালো হয়েছে। যেটা হয় ভালোর জন্য হয় এবং যেটা হয়েছে ভালোর জন্য হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ আরোও একবার বসু থিয়েটারের মঞ্চ কাঁপাতে তৈরি রায়ান! পাশে দাঁড়ালো পুরো পরিবার! এবার কি হতে চলেছে পারুলের সঙ্গে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!
সর্বোপরি, দল ত্যাগ ও দলবদলকে নেতিবাচকভাবে না দেখে একে সংগঠনের ইতিবাচক দিক বলেই মনে করছেন দলের নেতারা। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নেতা-কর্মীর দলবদল প্রসঙ্গে মন্তব্য করে এক বক্তা দাবি করেন, “আমাদের দল আজকে চোর ও বেইমানদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে, শুদ্ধিকরণ হয়েছে। আমরা যারা সাধারণ কর্মী আছি, তারা আগে দিদি বা অভিষেকদার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার যে সুযোগটা পেতাম না, এখন সেই জায়গাটা পাচ্ছি।” ফলে সব বিতর্ক কাটিয়ে এই ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে শুদ্ধ ও নতুন এক উদ্যামে পথচলার বার্তাই তৃণমূলের সর্বস্তরের কর্মী-সমর্থকদের সামনে ফুটে উঠছে।

