‘সুযোগ পেলেই ছক্কা মারি’- শাবানাকে চু’মু খেয়ে ৮৭ বছরে রোম্যান্স! প্রেমের নতুন সংজ্ঞা দিয়েছিলেন হি ম্যান!

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আর নেই। ২৪ নভেম্বর, ৮৯ বছর বয়সে মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কিন্তু তাঁর জীবন ও কাজ যেন আজও ঠিক ততটাই প্রাণবন্ত, যতটা ১৯৬০ সালে দিল ভি তেরা হম ভি তেরে ছবিতে প্রথম বড় পর্দায় দেখা মিলেছিল তাঁর। ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপেই তিনি প্রমাণ করেছেন যে সাহস, স্টাইল আর রোম্যান্স—এই তিনেই ছিলেন তিনি অনন্য। আর সেই কারণেই আজও তিনি বলিউডের হি ম্যান।
২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া করণ জোহরের ছবি রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি আবারও ফিরিয়ে এনেছিল সেই পুরনো দীপ্তি। ছবিতে ৮৭ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র আর ৭৩ বছরের শাবানা আজমির চুম্বন দৃশ্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। বয়স নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে মুহূর্তে ভুলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সাফল্য সভায় এই চর্চিত মুহূর্ত নিয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল আরও চমকপ্রদ। হাসতে হাসতে বলেছিলেন, “এ তো আমার বাম হাতের খেলা। খুব মজা পেয়েছি। যখনই সুযোগ পাই, ছক্কা মেরে দিই।” তাঁর এই রসিকতা যেমন মন জয় করেছিল, তেমনই বুঝিয়ে দিয়েছিল তাঁর মধ্যে থাকা চিরন্তন তারুণ্য।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দর্শকরা এমন একটি দৃশ্য আশা করেননি, তাই হাততালিও পেয়েছে যথেষ্ট। ধর্মেন্দ্রর বিশ্বাস ছিল, রোম্যান্সের কোনও বয়স নেই। তাঁর ভাষায়, বয়স তো শুধু একটি সংখ্যা। দুই মানুষ ভালোবাসাকে প্রকাশ করতে চাইলে তাদের মধ্যে বয়স বাধা হতে পারে না। করণ জোহর যখন দৃশ্যটি নিয়ে কথা বলেন, তখন তিনি বা শাবানা—কেউই অস্বস্তিতে পড়েননি। বরং বুঝেছিলেন, গল্পকে এগিয়ে নিতে এই দৃশ্য প্রয়োজনীয়।
ধর্মেন্দ্র আরও মনে করিয়ে দেন যে এর আগেও তিনি লাইফ ইন আ মেট্রো ছবিতে নাফিসা আলির সঙ্গে একটি চুম্বন দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন, যা দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছিল। সেই পুরোনো স্মৃতিই ফের জেগে ওঠে তাঁর প্রয়াণের পরে। নাফিসা আলি তাঁর সঙ্গে করা সেই ছবির একটি স্থিরচিত্র পোস্ট করে লেখেন, “তোমাকে ভুলব না। তোমার পরিবারের প্রতি রইল শক্তি ও ভালোবাসা। আজ সত্যিই দুঃখের দিন।”
আরও পড়ুনঃ ‘ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলানো ওর স্বভাব…’- দিতিপ্রিয়ার অনুপস্থিতিতে কি বললেন ‘কিংকর’? ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলানো নিয়ে ক্ষোভ! মন খারাপে জর্জরিত নায়িকাশূন্য সেট!
এদিকে, শাবানা আজমি পবন হংস শ্মশানে গিয়ে কিংবদন্তি অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। অভিনয়ে, ব্যক্তিত্বে আর জীবনের প্রতি উচ্ছ্বাসে তিনি ছিলেন বলিউডের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। মৃত্যুর পরেও তাঁর স্মৃতি যেন ঠিক ততটাই শক্তিশালী, যতটা তাঁর সেই রসিক হাসি—“মওকা মিলতে হ্যায় তো ছক্কা মার দেতা হুঁ।”

