দুই পক্ষের সন্তানদের হাত খালি! পঞ্জাবের ৫ কোটি টাকার জমি কাকে দিয়ে গেলেন ধর্মেন্দ্র?

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র ২৪ নভেম্বর মুম্বইয়ের জুহুর বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অগাধ জনপ্রিয়তা ও বিপুল সম্পদ রচনা করেছিলেন তিনি। মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর সম্পত্তি নিয়ে নানা জল্পনা ঘুরছে বিনোদনমহলে। প্রথম সারির প্রতিবেদনে যদিও দাবি, পরিবারের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে কোনও বিরোধ নেই। তবে একটি বিষয়ে ইতিমধ্যেই পরিষ্কার ধারণা পাওয়া গিয়েছে। পঞ্জাবে থাকা তাঁর পৈতৃক জমি সন্তানদের ভাগ্যে জুটছে না।

পঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার নসরালি গ্রামে জন্ম ধর্মেন্দ্রর। কাছেই ছিল তাঁর বাবার গ্রাম ডাঙ্গন। ছোটবেলা কেটেছে সেখানেই। বাবার রেখে যাওয়া কৃষিজমি বহু বছর যাবৎ দেখভাল করছিলেন ধর্মেন্দ্রর খুরতুতো ভাইয়ের পরিবার। অভিনেতা ১৯৫০-এর দশকের শুরুতে মুম্বই পাড়ি দেওয়ার পর থেকেই ওই জমিতে চাষের দায়িত্ব নেয় তাদের পরিবার। আজ সেই জমি ও বাড়ির সম্মিলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও যত্নের স্বীকৃতি হিসেবেই ধর্মেন্দ্র জমিটি তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

২০১৫ সালে নিজের গ্রামে এসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটি ভাইয়ের ছেলেদের নামে লিখে দেন। বুটা সিং দেওল জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবার বহু বছর ধরে জমিটি রক্ষণাবেক্ষণ করছিল। তাই ধর্মেন্দ্র তাঁদের প্রতি বিশেষ স্নেহ দেখিয়েছিলেন। ২০১৯ সালেও সানি দেওলের নির্বাচনী প্রচারের সময় গ্রামে এসেছিলেন ধর্মেন্দ্র। তখনও ভাইদের সঙ্গে সময় কাটান এবং জানান, তাঁদের অবদান তিনি কখনও ভোলেননি।

ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মেন্দ্র ১৯৫৪ সালে প্রকাশ কৌরকে বিয়ে করেন। তাঁদের চার সন্তান সানি, ববি, বিজেটা ও আজিতা। পরে ১৯৮০ সালে, প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই তিনি বিয়ে করেন অভিনেত্রী হেমা মালিনিকে। এই সম্পর্কে জন্ম নেয় দুই কন্যা এষা ও আহানা। জীবনের শেষ কয়েক সপ্তাহ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন তিনি এবং নভেম্বরের শুরুতেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ “একটু একটু করে টাকা জমিয়ে ২ ভাই মায়ের জন্য কেক কিনতাম…আমার জন্য নিজের শেষ সম্বলটাও মা বিক্রি করে দিয়েছিল”- পিতৃহীন সায়ককে বুকে করে আগলে রেখেছিলেন মা! সেই মাকে নিয়ে আবেগপ্রবণ অভিনেতা!

বলিউডের এক যুগের অবসান ঘটিয়ে ধর্মেন্দ্র যখন পৃথিবী ছাড়লেন, তাঁর শেষকৃত্যে হাজির ছিলেন অসংখ্য তারকা ও শুভাকাঙ্ক্ষী। তবে তাঁর জীবনের শেষ সিদ্ধান্তগুলোর অন্যতম হয়ে থাকল পঞ্জাবের পৈতৃক সম্পত্তি পরিবারের পরিবর্তে ভাইদের সন্তানের হাতে তুলে দেওয়া। তাঁর এই সিদ্ধান্তে প্রকাশ পায় শিকড়ের প্রতি অবিচল টান এবং কৃতজ্ঞতা।

Back to top button