ছবি দেখার পরেই সব শেষ! মৃ’ত্যুর আগে ছেলের অভিনীত কোন ছবি দেখেছিলেন ধর্মেন্দ্র? ছবিতে লুকিয়ে আছে কোন রহস্য?

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে ঘিরে এখনও দুঃখ এবং কৌতূহলের আবহ কাটেনি। তাঁর মৃত্যু যেন এক রহস্যের পর্দা টেনে দিয়েছে। শেষবার তিনি কী দেখেছিলেন, কাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অনুরাগীরা। ঠিক এই সময়ে অভিনেতা আমির খান প্রকাশ্যে আনলেন এক বিশেষ তথ্য। তিনি জানালেন, মৃত্যুর কয়েকদিন আগে ধর্মেন্দ্র যে ছবিটি দেখেছিলেন, তা তাঁর বড় ছেলে সানি দেওলের অভিনীত লাহোর ১৯৪৭।
ধর্মেন্দ্র সবসময়ই দুই ছেলে সানি এবং ববির ক্যারিয়ার নিয়ে উৎসাহী ছিলেন। সানির প্রথম ছবি বেতাব থেকে শুরু করে পরপর ছবিগুলো তিনি নিজে দেখেছেন এবং ছেলের সঙ্গে মতামত ভাগ করেছেন। ববির প্রথম ছবি বরসাতও তাঁর প্রিয় তালিকায় ছিল। রোমান্টিক হিরো থেকে ধীরে ধীরে অ্যাকশন তারকা হয়ে ওঠা সানির প্রতিটি কাজ ধর্মেন্দ্র গভীর আগ্রহ নিয়ে দেখতেন। এমনই একজন বাবার জন্য সানির নতুন ছবি লাহোর ১৯৪৭ দেখানো ছিল এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।
আমির খান জানান, তিনি এবং সানি মিলেই ধরমজিকে ছবির চিত্রনাট্য দেখান। তখনই ধর্মেন্দ্র ছবিটির গল্প শুনে মুগ্ধ হন। দেশভাগের পটভূমিতে রচিত এই গল্প তাঁকে এতটাই আকর্ষণ করেছিল যে, তিনি নিজেও ছবিতে অভিনয় করতে চেয়েছিলেন। তবে সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়া সম্ভব হয়নি। আমিরের মতে, ধর্মেন্দ্র ছবিটি এতটাই পছন্দ করেছিলেন যে তাঁর উপস্থিতি থাকলে প্রজেক্টটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠত।
ধর্মেন্দ্রর এই ছবিই শেষ দেখা ছবি ছিল বলে জানান আমির। অভিনেতার মতে, তাঁর এবং সানির সৌভাগ্য যে তাঁরা ধরমজিকে এটি দেখাতে পেরেছিলেন। লাহোর ১৯৪৭ এখন মুক্তির অপেক্ষায়, এবং এই ছবির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক আবেগঘেরা স্মৃতি। ধর্মেন্দ্র তারকা হিসেবে যেমন মহান ছিলেন, তেমনই তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ বাবা, যিনি শেষ বয়সেও ছেলে সানির কাজ নিয়ে একইভাবে উৎসাহী ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ বিচ্ছেদের পথে অঙ্কিতা-প্রান্তিক? বছরের শেষ প্রান্তে সম্পর্কে ফাটল? আবেগপ্রবণ স্বীকারোক্তি অভিনেতার!
মুম্বইয়ের বাড়িতে ২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভা। বলিউডের বহু তারকা সেখানে এসে অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানান। তবে শহরের বাইরে থাকার কারণে আমির খান স্মরণসভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবুও তিনি প্রকাশ করলেন এমন এক তথ্য যা অনুরাগীদের আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেয়, ধর্মেন্দ্রর জীবনের শেষ দিনগুলোও একজন শিল্পীর প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসায় ভরা ছিল।

