স্বাধীন ভারতে জন্ম নেওয়ার সাথে সাথে নিজের সারাটা জীবন কাটাচ্ছেন স্বাধীনতার সাথেই! জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাখি গুলজারের জীবনের অজানা তথ্য রইল আপনাদের জন্য।

ভারতীয় সিনেমা জগতের এমন বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীরা রয়েছেন যারা অল্প বয়স থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত বহুৎ জনপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। তাদের জনপ্রিয়তা দিনে দিনে এতটাই বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছে যে যুগের পর যুগ কেটে গেলেও তাদের কে ভুলতে পারবে না সিনেমা প্রেমে দর্শক। আর তাদের মধ্যে বাঙালি অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও কম নেই। এমন বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীরা রয়েছেন যারা বাংলা থেকে উঠে গিয়ে বলিউডে রাজ করেছেন।

আর সেই সকল অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন হলেন রাখি গুলজার। বলিউডের এই অভিনেত্রী অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে বহু আবোর তাবোল অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে বলিউডে কাজ করেছেন। আজ জানবো তার জীবনের কিছু অজানা কথা।

১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট যেদিনে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম সেই দিনই জন্মগ্রহণ করেছিলেন অভিনেত্রী রাখি গুলজার। নিজের জীবনের দিনের মতই সারাটা জীবন নিজেও স্বাধীনতার সঙ্গেই কাটিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার অন্তর্গত রানাঘাটে জন্ম হয় তার। রাখির বাবা ছিল একজন জুতো ব্যবসায়ী। রাখির পুরো নাম হল রাখি মজুমদার গুলজার।

রাখির খুব অল্প বয়সে বাঙালি ছবি পরিচালক অজয় বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু যত তাড়াহুড়োর মধ্যে বা জাকজমক করে রাখির অজয় বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তেমন তাড়াতাড়ি করেই তাদের একে অপরের থেকে আলাদা হয়ে যায়। ওদের বিশ্বাসের সঙ্গে যখন রাখি ছাড়াছাড়ি হয় তখন শোনা গিয়েছিল যে রাখে নাকি সিনেমার মধ্যে এতটা থাকতে পারছিল না। কিন্তু পরবর্তীকালে নিজে সেই সিনেমাতেই নিজের পরবর্তী জীবন কাটিয়ে নিয়েছিলেন।

এরপরেই একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গেছে রাচিকে। ১৯৬৭ সালে রাখি তার প্রথম ছবিতে অভিনয় করে যেটা ছিল বাংলা ছবি “বধূবরণ” আর সেখানে তার কাজ অত্যাধিক প্রশংসিত হয়েছিল। এরপর ১৯৭০ সালে তিনি হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ পান। জীবন মৃত্যু সিনেমায় ধর্মেন্দ্রর বিপরীতে অভিনয় করেন রাখী। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি রাখীকে। তাঁর বাঙালী সৌন্দর্য ও অভিনয় দেশের সকল দর্শককে মুগ্ধ করেছিল। ১৯৭১ সালে শর্মিলী চলচ্চিত্রে শশী কাপুরের বিপরীতে দ্বৈত চরিত্রে অবতীর্ণ হন।

ওই বছর “লাল পাত্থর ” ও “পরস” ছবিতে অভিনয় করেন। এই তিনটি সিনেমাই দারুণ হিট হয়। পরবর্তী দশকে “শেহজাদা”, “হীরা পান্না”, “দাগ: অ্যা পোয়েম অফ লাভ”, “হামারে তুমহারে”, “আঁচল”ও “তাকত” সিনেমায় অভিনয় করেন রাখী। তার মধ্যে “ব্ল্যাকমেইল”ও “তপস্যা” সিনেমায় তাঁর অভিনয় এখনও অবিস্মরণীয়। “হীরা পান্না”, “বেনারসি বাবু”, “লুটমার” ও “জোশিলা” সিনেমায় দেব আনন্দের সঙ্গে তিনি অভিনয় করেছিলেন। এছাড়াও রাখীর ঝুলিতে রয়েছে “কভি কভি”, “জানোয়ার অউর ইনসান”, “দুসরা আদমি”, “বসেরা”।

এরপর ১৯৭৩ সালে তিনি আবার বিয়ে করেন লেখক গুলজারকে। তারপরে তাদের দুজনের একজন কন্যা সন্তান হয় যার নাম মেঘনা গুলজার। কিন্তু মেয়ে জন্মাবার পরেই তারা দুজন আলাদা হয়ে যায়। তবে তিনি তার কর্ম জীবনের শেষের দিকে নায়কের মা থেকে শুরু করে অসহায় বিধবা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। করন অর্জুন সিনেমায় তার অভিনীত চরিত্রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ আজও সিনেমা প্রেমীরা। তবে ২০০৩ সালের পর তাকে আর সেভাবে অভিনয় করতে দেখা যায়নি।

Back to top button