‘আমি ব্যবসা করতে চাই না, যারা কাছের মানুষ তারা কোনদিনও…’ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে পোস্ট করা ব্যক্তিরা মৃ’ত অভিনেতাকে নিয়ে ব্যবসা করছেন? বিস্ফোরক অভিনেত্রী অনন্যা গুহ!

মাসখানেক আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তর্ক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন টালিগঞ্জের দুই পরিচিত মুখ অনন্যা গুহ এবং রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সায়ক চক্রবর্তীকে ঘিরে গোমাংস বিতর্ক থেকেই শুরু হয়েছিল সেই বচসা, যা পরে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে সময়ের সঙ্গে সেই তিক্ততা এখনও পুরোপুরি মুছে না গেলেও, রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর পর সব বিতর্ক যেন হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। এই কঠিন সময়ে অনন্যা নিজের অনুভূতির কথা জানালেন একান্তভাবে।
অনন্যা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, রাহুলের সঙ্গে তাঁর কাজ করার কথাও হয়েছিল। অনেকটা এগিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই কাজটি আর হয়নি। তবে এর আগে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করেই অভিনেত্রী বলেন, ব্যক্তিগত মতভেদ থাকলেও তা কখনও পেশাগত সম্পর্কের জায়গাকে প্রভাবিত করা উচিত নয়। একই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ হিসেবে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি বলেই মনে করেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের আগের বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলতেই অনন্যা স্পষ্টভাবে জানান, সেই ঘটনা তিনি ভুলে যাননি। তবে তাঁর মতে, মতের অমিল থাকলেই কারও প্রতি খারাপ ভাবনা পোষণ করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, দিনের শেষে সবাই একই ইন্ডাস্ট্রির অংশ, এবং ভবিষ্যতে আবার একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই কথাগুলোর মধ্যেই ধরা পড়ে তাঁর বাস্তববাদী মনোভাব।
রাহুলের মৃত্যুর পর ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে স্মরণ করে পোস্ট করেছেন। কিন্তু অনন্যা সেই পথে হাঁটেননি। কেন তিনি কিছু লেখেননি, সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী জানান, এই ধরনের পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত পোস্ট বা ছবি শেয়ার করা অনেক সময় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়। তাঁর মতে, যারা সত্যিই খুব কাছের মানুষ, তারা এই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু প্রকাশ করার মতো মানসিক অবস্থায় থাকেন না।
আরও পড়ুনঃ ‘ছেলেটা খুব ভালো কাটা জানতো!’ এত ভালো সাঁতারু তাও জলে ডুবে মৃ’ত্যু? অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কারণ? জোরালো হচ্ছে তদন্তের দাবি!
এই ঘটনাকে ঘিরে অনন্যার বক্তব্যে স্পষ্ট, ব্যক্তিগত মতভেদ থাকলেও মানবিকতার জায়গা কখনও হারিয়ে যায় না। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু যেমন ইন্ডাস্ট্রিকে শোকস্তব্ধ করেছে, তেমনই ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতাকেও নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে অনেককে। শেষ পর্যন্ত সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে একজন সহকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা এবং মানবিকতা বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় কথা হয়ে উঠেছে।

