একসময় কাজ করছেন বাংলা সিনেমায়, আজ সব হারিয়ে রাস্তার ধারে ভিক্ষা করেই কাটছে জীবন!

কথায় বলে ভাগ্যের এমনই এক জিনিস যা রাতারাতি রাজাকে ভিখারী আর ভিখারীকে রাজা করে দিতে পারবে। আজ যার হাতে সবকিছু আছে, আগামীকালই তার কি অবস্থা হবে সেকথা বলতে পারেন না কেউই। আর বিশেষত বিনোদন (Entertainment) জগতে এই ধরনের গল্প বিশেষ করে চোখে পড়ে। একসময় যিনি স্টার অভিনেতা বা অভিনেত্রী ছিলেন সময়ের কালচক্রে হারিয়ে গেছেন তারা।

টলিউড হোক বা বলিউড, এই ধরনের তারকাদের সংখ্যা ইন্ডাস্ট্রিতে নেহাতই কম নয়। বর্তমানে পর্দা থেকে ২-৩ বছর দূরে থাকলেই মানুষ ভুলে যায় সেই তারকারা। তার জায়গায় আসে নতুন মুখ। একসময় যাকে দেখার জন্য লোকে লাইন দিয়ে টিকিট কেটে হলে ঢুকতেই আজ তিনিই মিলিয়ে গেছে সকলের অন্ধকারে। ফলে এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসার যতটা সহজ লড়াই করে টিকে থাকা ততটাই কঠিন।

Bengali actress

আজ যে মানুষটির কথা হচ্ছে তিনিও বাংলার স্বর্ণযুগের একসময়কার খ্যাতনামা অভিনেত্রী। একসময় তার অভিনয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন দর্শকরা। তার অভিনয় দেখতে ভিড় করতে সাধারণ মানুষ, করতালি আওয়াজে গম-গম করত হল। কিন্তু সময়ের স্রোতে আজ ভেসে গিয়েছেন তিনি। ভিক্ষা করে কোনরকমে দিন কাটছে তার। কোনদিন খাওয়ার জোটে আবার কোনদিন অনাহারেই দিন কাটিয়ে দেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।

কথা হচ্ছে অভিনেত্রী ডলি তালুকদারের। আজও বাঙালি বাড়ির বয়স্ক সিনেমা প্রেমী সদস্যরা মনে রেখেছেন তার অভিনয়। কিন্তু অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার পর কেউ কি তার খোঁজ রেখেছে? শুনলে অবাক হবেন বর্তমানে স্লট লেক থেকে শুরু করে গড়িয়া, কলকাতার নানান বড় বড় পাঁচতারার রেস্তোরাঁর সামনে দাড়িয়ে আজ ভিক্ষা করছেন ডলি দেবী। একসময় নার্সের চাকরি করেছেন তিনি। তারপরই যুক্ত হন সিনেমার সঙ্গে। ২০০১ সালে প্রয়াত হন ডলি দেবীর স্বামী।

আরও পড়ুন: আর একা নয় রাই! তার পাশে দাঁড়ালো সার্থক! স্যারকে নতুন করে চিনলো স্রোত!

স্বামীর মৃত্যুর পর কেমন আছেন অভিনেত্রী ডলি তালুকদার

স্বামীর মৃত্যুর পরই শুরু হয় কঠিন লড়াই। দুই মেয়েকে একা হাতে মানুষ করেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। বিয়েও দিয়েছেন মেয়েদের। তারাও হয়ত কলকাতায় বা কোন শহরের সুখে শান্তিতে সংসার করছেন স্বামী-সন্তানদের নিয়ে। কিন্তু মা! মায়ের খবর কেউ রাখেননি। বাধ্য হয়েই ৭৫ বছর বয়সে ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। লোকে যা দেন তাই নিয়েই চলে অভিনেত্রীর সংসার। কিন্তু জীবনের এই পরিস্থিতিতে এসেও মুখের হাসি মলিন হয়নি তার। বিশ্বাস রাখেন ভগবান আছে। তিনি যখন এই ধরাধামে পাঠিয়েছেন তখন তিনিই দেখে রাখবেন। অন্নের ব্যবস্থাও তিনিই করবেন। জীবনের শেষের দিনগুলো ভগবানের ছত্রছায়ায় ভালোভাবেই কাটবে আশা রাখেন অভিনেত্রী।

 

Bengali actress

Back to top button