আগামীকাল মহা শিবরাত্রি! কেন এই দিনটিতে মহা শিবরাত্রির ব্রত পালিত হয়? কী ঘটেছিল এই দিন? জেনে নিন এই প্রতিবেদনে, সেই সঙ্গে রইল এই বছরের শিবরাত্রির সময়সূচী

রাত পেরোলেই এই বছরের শিবরাত্রি। হিন্দু ধর্মের জন্য এই ব্রত বা এই দিন খুবই শুভ এবং জাগ্রত বলেই মানা হয়। মহা শিবরাত্রির দিন বহু মানুষ দেবাদি দেব মহাদেবের ব্রত করেন আর চার প্রহরে বাবার মাথায় জল ঢেলে তাকে প্রসন্ন করেন। যুগের পর যুগ ধরেই এই মহা শিবরাত্রি ব্রত পালন করা হচ্ছে। অনেকেই জানেন কেন পালন করা হয় এই শিবরাত্রি ব্রত, আবার অনেকেই জানেন না। কথিত আছে এই শিবরাত্রি ব্রত করলে মহাদেব নাকি তার ওপর প্রসন্ন হন। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক কেন পালন করা হয় মহা শিবরাত্রি!

পুরান মতে ক্রেতা যুগে বারানসীর কাশি ধামের জঙ্গলে এক নিষ্ঠুর ব্যাধ বাস করত। যার নাম ছিল হিল্লো। তার সঙ্গে তার পরিবারও সেখানে বসবাস করত। পশু হত্যার কারণে তার জীবনে বহু পাপ জমা হয়েছিল। একদিন সে জঙ্গলে পশু শিকার করতে বেরিয়ে একটাও পশু শিকার করতে পারল না। কিন্তু সে জানত যে সে যদি কোন পশু শিকার করে না নিয়ে যায় তাহলে তার পরিবার অভুক্তই থেকে যাবে।শত চেষ্টার পরেও সে কোন পশু শিকার করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত অভুক্ত অবস্থায় এবং বিষন্নতার সাথে একটি বেল গাছের উপর উঠে বসলো। আর সেই বেল গাছের নিচে ছিল একটি শিবলিঙ্গ।

সারাদিন কিছু না খেতে পেয়ে সে তৃষ্ণার্ত এবং ক্ষুধার্ত ছিল যার ফলে সে এক ঘটি জল নিয়ে সেই গাছের ওপর উঠল। এবং সেখানে পশুর অপেক্ষা করতে লাগলো। সে যখনই জলটা খেতে যাবে এমন সময় নদীর ধারে একটি হরিণীকে দেখতে পেল। আর তখনই নিজের তীর ধনুক দিয়ে তার দিকে তাক করতে গেলেই তার হাতের ধাক্কায় ঘটি থেকে কিছুটা জল এবং বেল গাছ থেকে কয়েকটা বেলপাতা শিবলিঙ্গের উপরে পড়ল। এইভাবে তার প্রথম প্রহরের পুজোর সম্পন্ন হল।

কিন্তু সে যেই হরিণীটাকে মারতে যাবে এমন সময় হরিণী তাকে জিজ্ঞাসা করল যে সে কেন তাকে মারতে চাইছে? তখন সে জানালো তার বাড়িতে সকলে অভুক্ত অবস্থায় রয়েছে সে যদি তাকে মেরে নিয়ে যায় তবেই তার সন্তান এবং স্ত্রী খেতে পাবে। এই শুনে হরিণী খুশি হলো সে বলল আমার মাংস খেয়ে এতোজন অভুক্তর ক্ষুধা মিটবে! এবং বলল আমাকে একটু সময় দাও আমি বাড়ি যাই গিয়ে সেখানে আমার স্বামী, বোন এবং বাচ্চাদের সঙ্গে দেখা করে আবার তোমার কাছে ফিরে আসবো। এই শুনে এসে সেই হরিণীকে যেতে দিলো। তার কিছুক্ষণ পরে সেই হরিণীর বোন তাকে খুঁজতে খুঁজতে ওই নদীর ধারে এলো। তখন আবার ব্যাধ সেই হরিণীকে মারতে গেলেই তার হাত থেকে কিছুটা জল এবং কয়েকটা বেলপাতা শিবলিঙ্গের ওপর পড়লো। এইভাবে দ্বিতীয় প্রহরের পুজো সম্পন্ন হল। কিন্তু সেই হরিণীটাকে মারতে পারল না, সেই হরিণীও তাকে বলল আমি একটু বাড়ি যাই সকলের সঙ্গে দেখা করে আবার ফিরে আসবো।

এরপর সেই প্রথম হরিণীর স্বামী দুই হরিণীকে খুঁজতে খুঁজতে একই নদীর তীরে এলো তাকেও দেখতে বেশ নাদুস নুদুস। এই দেখে ব্যাধ খুশি হয়ে গেল আর তখন সেই হরিণটিকে মারতে গেলেই তার হাতের নাড়া খেয়ে কিছুটা জল ও বেল পাতা আবার শিব লিঙ্গের উপরে পড়ল। এভাবে তার তৃতীয় প্রহরেরও পূজা সম্পন্ন হল। কিন্তু সেই হরিণও জানালো যে সে বাড়ি যাবে গিয়ে সকলের সঙ্গে দেখা করে আবার ফিরে আসবে। এইভাবে তারা তিনজনই বাড়ি ফিরল এবং একে অপরের কাছে শুনে প্রত্যেকেই ব্যাধের কাছে যেতে চাইলো, শেষ পর্যন্ত ঠিক করলো তারা তিনজনেই তার কাছে যাবে।
সেই নদীর তীরে যখন তারা তিনজনই এলো তখন তাদের দেখে আবার ব্যাধ তীর ধনুক তাক করতেই কিছুটা জল এবং কয়েকটা বেলপাতা শিবলিঙ্গের উপরে পড়তেই তার চার প্রহরের পুজো সম্পন্ন হল। আর সারাদিন অভুক্ত থাকার কারণে সে সেদিন উপবাস করেছিল যার ফলে তার মহা শিবরাত্রির ব্রত সম্পন্ন হল এবং তার সকল পাপ মুছে গেল। এমন সময় মহাদেব তাকে দেখা দিয়ে বলল যে সে কী চায় ? তখন ব্যাধ জানালো আমার আপনাকে দেখে সকল ইচ্ছা পূরণ হয়ে গেছে আর আমার কিছুই চাই না। তখন শিব তাকে আশীর্বাদ করল যে সে হবে রাজ্যের অধিশ্বর। সমস্ত সুখ সে ভোগ করবে এবং তার নাম হবে গুহ। তার বংশ নিরন্তর বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আরে এই গুহই হল রামের মিত্র যিনি বনবাসের সময় রাম সীতার অনেক সেবা করেছিলেন।

এইবার জেনে নেওয়া যাক এই বছর শিবচতুর্দশীর তিথি এবং সময়সূচী – এই বছর তিথি শুরু ১৮ই ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টা ২ মিনিটে এবং তিথি শেষ ১৯শে ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটে।
প্রথম প্রহর – ১৮ই ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫ টা ৩৫ মিনিট থেকে রাত ৮ টা ৪২ মিনিট।
দ্বিতীয় প্রহর – ১৮ই ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টা ৪২ মিনিট থেকে রাত ১১ টা ৫০ মিনিট।
তৃতীয় প্রহর – ১৮ই ফেব্রুয়ারি রাত ১১ টা ৫০ মিনিট থেকে রাত ২টা ৫৮ মিনিট।
চতুর্থ প্রহর – ১৯শে ফেব্রুয়ারী রাত ২ টো ৫৮ মিনিট থেকে ভোর ৬ টা ৬ মিনিট পর্যন্ত।
ব্রতভঙ্গের সময় – ১৯শে ফেব্রুয়ারী সকাল ৬ টা ৬ মিনিট থেকে দুপুর ২ টো ৪৩ মিনিট।