দিনে দিনে বাংলা ধারাবাহিক থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন দর্শক! এই নিয়ে কাকে দায়ী করছেন লেখিকা, অভিনেত্রী থেকে দর্শকমহলে?

বর্তমানে বাংলা ধারাবাহিকগুলি (Bengali Serial) আর আগের জায়গায় নেই। পূর্বে দর্শকরা ধারাবাহিক দেখতে ভীষণ পছন্দ করতেন। তাই ধারাবাহিকের টিআরপিও (TRP) থাকতো তুঙ্গে কিন্তু ধীরে ধীরে দর্শকদের মধ্যে থেকে বাংলা ধারাবাহিক দেখার ইচ্ছাটা কেমন যেন মরে যাচ্ছে। তাই ৪-৫ বছর চলা ধারাবাহিক আজ ৭-৮ মাসে শেষ হয়ে যায়। কোন কোন ধারাবাহিক তো ২ মাসেও শেষ হয়ে যেতে দেখেছেন দর্শক মহল। এর পেছনে আসল কারণ কি? জানালেন স্বয়ং ধারাবাহিক নির্মাতারা।
টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে প্রযোজক-পরিচালক-লেখক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। বর্তমানে কাশ্মীরে ধারাবাহিকের শুটিংয়ে ব্যস্ত অভিনেত্রী। সেখান থেকেই এক সংবাদ মাধ্যমিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “প্রথমত, আমার ধারণা ছিল না যে, সিরিয়ালের সংখ্যা অনেকটা কমেছে। তবে ফিকশনের পরিবর্তে বেশ কিছু নন-ফিকশন শো এসেছে তার জায়গায়। এ বার যে চ্যানেলগুলিতে যখন রিয়্যালিটি শো চলছে, তখন অন্য চ্যানেলে সিরিয়াল চললে কিছু তো পার্থক্য হয়ই। কারণ অনেকেরই আগ্রহ থাকে নন-ফিকশন শোয়ের জন্য। সেই জন্যই কি এমনটা হচ্ছে, প্রশ্ন আমারও।”

বর্তমান সময়ে টিআরপির তালিকায় প্রথম পাঁচে থাকা ধারাবাহিক গুলির মধ্যে অন্যতম হলো জগদ্ধাত্রী। সংবাদমাধ্যমের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল জগদ্ধাত্রী অর্থাৎ অভিনেত্রী অঙ্কিতা মল্লিকের সঙ্গে। তিনি বললেন, “আমার কেরিয়ারের বয়স এক বছর। তবে আমি কিন্তু এ রকম কিছু লক্ষ করিনি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিআরপি ওঠাপড়া হয় ঠিকই। তবে, তার জন্য সিরিয়াল যে কমে যাচ্ছে, এমন নয়। তবে নতুন ধরনের গল্প না এলে যে দর্শক আগ্রহ হারাবে, এ কথা ঠিক।”
পরিচালক, লেখিকা থেকে অভিনেত্রী সবার মতামতই তো নেওয়া হলো এবার আসা যাক সোজাসুজি দর্শকদের মতামতে। ধারাবাহিকের টিআরপি কমে যাওয়ার পেছনে ঠিক কি কি কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন দর্শকরা, এবং তার প্রতিকার কি হতে পারে এবার সেটাই জেনে নেওয়া যাক।

বর্তমান ধারাবাহিক গুলিতে বড় বেশি একঘেয়ে জিনিস ঢুকে পড়েছে। এর মধ্যে কোন নতুনত্ব নেই। সাংসারিক কুট কাছালি থেকে শুরু করে এমন কিছু ছোট বড় বিষয় বর্তমান ধারাবাহিকগুলি সম্প্রচার করে, যেগুলি দর্শকরা বহু বছর ধরে দেখে আসছেন। এই একঘেয়েমি কাটাতে ধারাবাহিক দেখা কমিয়ে দিচ্ছেন দর্শক মহল।
বর্তমানে টিআরপিকে যে পরিমাণ প্রাধান্য দেওয়া হয় পূর্বে কিন্তু এমনটা হতো না। এই মুহূর্তে ধারাবাহিকের প্রতি বিরূপ মনোভাবের অন্যতম কারণ হচ্ছে এই টিআরপি। বিষয়টাকে আরেকটু বিস্তারিত ভাবে বলা যাক। টিআরপি কম থাকলে সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারাবাহিক বন্ধ করে দিচ্ছে চ্যানেল। এমন অনেক ধারাবাহিক রয়েছে যেগুলি হয়তো মূল স্রোতের থেকে একটু বেঁকে গিয়ে নিজেকে অন্যতম এবং অনন্য হিসেবে প্রমাণ করতে চায়। এই হঠাৎ নতুনত্ব গ্রহণ করতে দর্শকদের একটুও সময় দেওয়া হয় না। সঙ্গে সঙ্গেই সেই ধারাবাহিকটিকে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। একটি ধারাবাহিককে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য কয়েক মাস প্রয়োজন পরে আর সেই সময়টাই তাদের দেওয়া হয় না। টিআরপির এত রমরমা? বর্তমানে ধারাবাহিকের অবনতির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন দর্শক মহল।

দর্শকদের পছন্দ এবং অপছন্দের মাপকাঠিকে মিঠাই ধারাবাহিকের সাহায্যে বোঝা যেতে পারে। যতদিন মিঠাই ধারাবাহিকে ভিলেন প্রাধান্য পায়নি এবং ধারাবাহিকের গল্পকে অন্যরকম খাতে সম্প্রচার করা হচ্ছিল ততদিন অব্দি টিআরপিতে চূড়ান্ত ফলাফল করেছে এই ধারাবাহিক। কিন্তু যেই ধারাবাহিকের গল্পে পরিবর্তন আনা হলো এবং তাতে খানিক সাংসারিক দ্বন্দ্বকে জুড়ে দেওয়া হল তখনই ধারাবাহিকের টিআরপির চূড়ান্ত অবনমন ঘটলো।

