প্রধান চরিত্রের মাঝে পার্শ্ব চরিত্রগুলি হারিয়ে যায়, কিন্তু সেই পার্শ্ব চরিত্র না থাকলে অচল ধারাবাহিক! আজ রইল এমন কিছু পার্শ্ব চরিত্রের বর্ণনা

বর্তমানে বাংলা বিনোদনের (Bengali Entertainment) এক বিরাট অংশ দখল করে রয়েছে বাংলা ধারাবাহিকগুলি (Bengali Serial)। মানুষ তার অবসর সময় যাপনের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই ধারাবাহিককে চিহ্নিত করেন। সেই ধারাবাহিকের নায়ক নায়িকা সহ প্রতিটি চরিত্রই দর্শকদের খুব কাছের হয়ে ওঠে। ধারাবাহিকটি শেষ হয়ে গেলেও প্রিয় চরিত্রদের ভুলতে পারেন না ভক্তরা।
কতটা গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব চরিত্র?
একটি ধারাবাহিকের ক্ষেত্রে নায়ক-নায়িকা যেমনভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, ঠিক তেমনি পার্শ্ব চরিত্রগুলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জন্যই দুটো সাধারণ ব্যক্তি নায়ক নায়িকা হয়ে উঠতে পারে। তাদের সাহায্য ছাড়া একটি ধারাবাহিককে দাঁড় করানো অসম্ভব। তাই তাদের ভূমিকা নায়ক নায়িকাদের তুলনায় কিছু কম নয়।
জি বাংলার ধারাবাহিক গুলিতে রয়েছে এক একটি অসাধারণ পার্শ্ব চরিত্র
বাংলা বিনোদন জগতের একটি অন্যতম জনপ্রিয় চ্যানেল হচ্ছে জি বাংলা। এই চ্যানেলে সম্প্রচারিত বেশিরভাগ ধারাবাহিকই স্লট লিড করছে। অন্যান্য চ্যানেলগুলিকে রীতিমতো প্রতিযোগিতার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এই চ্যানেল। জি বাংলার বেশিরভাগ ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা প্রাপ্তির পিছনে যে সমস্ত কারণগুলি রয়েছে তার মধ্যে একটি হলো ধারাবাহিকগুলির পার্শ্ব চরিত্রের ভূমিকা।

জগদ্ধাত্রী থেকে মন দিতে চাই একের পর এক পার্শ্ব চরিত্রের বর্ণনা রইল
জি বাংলা চ্যানেলের এমনই কিছু পার্শ্ব চরিত্রর বিষয় বলতে চলেছি এই প্রতিবেদনে। প্রথমেই যার কথা না বললেই নয় সে হল জগদ্ধাত্রী ধারাবাহিকের কৌশিকী মুখার্জি। ননদ বৌদির মধ্যে যে সব সময় আদায় কাঁচকলা সম্পর্ক হয় না, তার বদলে একটা সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ অথবা দিদি বোনের সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল কৌশিকী। একদম শুরু থেকে আর কেউ জগদ্ধাতাত্রীর পাশে থাকুক বা না থাকুক সব সময় তার পাশে থেকেছে কৌশিকি।

জি বাংলায় সম্প্রতি শুরু হয়েছে কার কাছে কই মনের কথা। এই ধারাবাহিকে শিমুলের ননদ পুতুল চরিত্রটি একেবারেই অনবদ্য। পুতুল মানসিকভাবে সাধারণ মানুষের থেকে কিছুটা পিছিয়ে অর্থাৎ মানসিকভাবে অসুস্থ। কিন্তু শিমুলের শ্বশুরবাড়িতে সেই মেয়েটি সব থেকে বেশি সুস্থ মানুষের মতন কথা বলে। শিমুলের স্বামী দেয়র শাশুড়ি প্রত্যেকের চাইতে অনেক বেশি পরিষ্কার এবং ভালো মনের মেয়ে হলো পুতুল। শুরুর দিন থেকে শিমুলকে আগলে রেখেছে সে।

জি বাংলায় আরও একটি নতুন ধারাবাহিক হচ্ছে ফুলকি। এই ধারাবাহিকে পারমিতা অর্থাৎ ফুলকির বড় জা একপ্রকার দিদির ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়াও ধারাবাহিকে তমাল অর্থাৎ ফুলকির দেওর এবং লাবনী পিয়াল ফুলকির দুই ননদ এরা প্রত্যেকেই খুব সুন্দর ভাবে ফুলকির পাশে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে যার কথা না বললেই নয় সে হলো নায়কের জেঠুমনি। যে ফুলকিকে তার নিজের বাবার থেকেও অনেক বেশি ভালো করে আগলেছে।

নিম ফুলের মধু ধারাবাহিকে চয়ন অর্থাৎ পর্ণার দেওর এবং রুচিরা পর্ণার বন্ধু এদের ভূমিকা অনবদ্য। এছাড়াও বর্ষা অর্থাৎ নায়িকার ননদ এবং পিকলু নায়িকার ভাই এরাও পর্ণাকে সমস্তভাবে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে মন দিতে চাই ধারাবাহিকে রুপরাজ হলো সোমরাজের সত ভাই এবং তিতির অর্থাৎ নায়িকার জামাইবাবু, ধারাবাহিকে তিতিরের পাশে সব সময় দাঁড়িয়েছে।

খেলনা বাড়ি ধারাবাহিকে গুগলি এবং শিবা অর্থাৎ মিতুলের ছেলে মেয়ে, অর্ক এবং কলি মিতুলের ননদ এবং ননদাই, অলকা এবং শুভ মিতুলের দেওর এবং তার বউ এই প্রতিটি পার্শ্ব চরিত্র না থাকলে আজ মিতুল চরিত্রটি সেরা হয়ে উঠতে পারত না। এবং রাঙা বউ ধারাবাহিকে খুকু অর্থাৎ পাখির ননদ যে সব সময় পাখিকে সাহায্য করে এসেছে। এই প্রত্যেকটি পার্শ্ব চরিত্র যদি না থাকতো তাহলে আজ কখনোই নায়ক নায়িকা দর্শকদের মাঝে এত জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারত না।

