“বাংলা সিরিয়াল হল জু’য়া খেলার মত!” তোমার খোলা হওয়া শেষ হতেই বিস্ফোরক মন্তব্য অভিনেত্রী খেয়ালী দস্তিদারের

থিয়েটার, টেলিভিশন থেকে সিনেমা- বাংলা বিনোদনের সব ক্ষেত্রে তাঁর বিচরণ। জোছন দস্তিদারের ‘তেরো পার্বণ’ ধারাবাহিকের হাত ধরে জার্নি শুরু খেয়ালী দস্তিদারের (Kheyali Dastidar)। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বাংলা সিরিয়ালের অন্যতম স্তম্ভ ‘তেরো পার্বণ’। তবে ব্য়ক্তিগত জীবনে অনেক উঠা-পড়ার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি, তবে থেমে যাননি। বর্তমানে তোমার খোলা হাওয়া (Tomar khola haoya) ধারাবাহিকে অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে এই কালজয়ী অভিনেত্রীকে।
বর্তমানে বাংলা সিরিয়ালের কোন স্থায়িত্ব নেই। কখন যে একটি ধারাবাহিক শুরু হবে এবং কখন শেষ হবে সে সবকিছু জানে একমাত্র চ্যানেল। আর একটা জিনিস এখানে না বললেই নয় সেটা হলো টিআরপি। টিআরপি না থাকলে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে ধারাবাহিক। আর এই টিআরপির অভাবেই শেষ হয়ে যাচ্ছে তোমার খোলা হাওয়া। এই ধারাবাহিকের এক প্রধান অভিনেত্রী খেয়ালী দস্তিদার এদিন দর্শকদের সামনে অকপটে শেয়ার করলেন তার মনের অনেক কথা।
তাকে ধারাবাহিক শেষ হয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, “এখন আর আগের মতন বছরের পর বছর ধারাবাহিক চলে না। ৪-৫ মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। সমস্যার বিষয় হচ্ছে হঠাৎ করেই শেষ করে দেওয়া হয় সিরিয়াল গুলিকে। খুব বড়জোর দু-তিন মাস সময় দেওয়া হয় ধারাবাহিকটিকে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য, তার মধ্যে যদি টিআরপি না ওঠে তাহলে আর সেটিকে সুযোগ দেওয়া হয় না। সেই ধারাবাহিকটি যে পরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে এমনটা ভাবে না চ্যানেল।”
ধারাবাহিক গুলো শেষ হয়ে যাওয়ায় কতটা সমস্যার সম্মুখীন হয় অভিনেতা অভিনেত্রীরা? তিনি বলেন, “এখন মানুষ নিজের ধ্যান ধারণা বদলেছে। প্রযুক্তিও বদলেছে আরো উন্নত হয়েছে। এখন ওয়েব সিরিজের যুগ যেখানে পাঁচটা ছটা এপিসোডেই গল্প শেষ। দীর্ঘদিন ধরে একটি জিনিসকে দেখার ধৈর্য নেই দর্শকদের। চ্যানেল যদি একটা ধরা বাধা সময় বলে দিত বা এপিসোডের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিত তাহলে অনেক বেশি সুবিধা হত। এভাবে মাঝ পথে গল্প গুটোন খুবই সমস্যা জনক।”
তিনি আরো বলেন, “এখন ধারাবাহিক হচ্ছে জু’য়া খে’লার মতন। এই আছে তো এই নেই। কখন বন্ধ হয়ে যায় কেউ বলতে পারে না। কিছু বড়সড়ো প্রোডাকশন হাউস এই ধাক্কাটা সহ্য করে নিলেও অনেক প্রোডাকশন হাউজ রয়েছে এবং তাদের গোটা টিম রয়েছে যাদের কাছে এই হঠাৎ কাজ চলে যাওয়াটা সহজ বিষয় নয়। কারণ এটাই তাদের দুবেলা খাবার জোগায়।”

