ধুলো পায়ে যেতে বাঁধা শিমুলকে, কিন্তু বাপের বাড়ির প্রতি কর্তব্য পালনে অনড় সে, সাথে পলাশকে দিল উচিৎ শিক্ষা!

খুব বেশিদিন হয়নি জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক কার কাছে কই মনের কথা (Kar Kache Koi moner kotha)। শুরুর পর থেকেই দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে এই ধারাবাহিক। বেশকিছু অস্বাস্থ্যকর এবং আপত্তিজনক দৃশ্য দেখানো হলেও বর্তমানে যে চরিত্রটি দর্শকদের বারবার মন জিতে নিচ্ছে সেটি হল শিমুল।
বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে নানা রকম লাঞ্ছনা-গঞ্জনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিমুলকে। আর এই গোটা বিষয়টাই যার দিক থেকে আসছে সে হলো শিমুলের স্বামী পরাগের মা। শিমুল এই পরিবারে এসে একটি বিষয় খুব ভালো মতো করে বুঝতে পেরেছে, সেটা হল সে যেমন চিন্তাভাবনায় বিশ্বাসী সেরকম উন্মুক্ত চিন্তা ধারার মানুষ এনারা নন। এখন এমন অসুস্থ মানসিকতার মানুষদের সঙ্গে কিভাবে সারাটা জীবন মানিয়ে চলবে শিমুল সেই নিয়েই এগোবে গল্প।
এ দিনের পর্বে দেখা যায় শিমুল পুতুলকে নিয়ে রান্নাঘরে এসেছে তার শাশুড়ি মায়ের সঙ্গে কথা বলতে। সে রান্না ঘরে ঢুকেই তার শাশুড়ি মাকে বলে, সে সবকিছু করে দিচ্ছে, চা বানিয়ে দিচ্ছে। তার শাশুড়ি মা বলেন যে সে দিনে বহুবার চা খায় কতবার আর বানিয়ে দেবে শিমুল। তখন শিমুল তাকে বলে যতবার খেতে চাইবে ততবারই বানিয়ে দেবে। যার উত্তরে পরাগের মা শিমুলকে জিনিস নষ্ট করার খোটা দেয়।
সবকিছুকে এড়িয়ে শিমুল ধুলো পা করার জন্য নিজের বাপের বাড়ি যাওয়ার কথাটা জানায় তার শাশুড়িকে। এতক্ষণ অব্দি একেবারেই ঠিক ছিলেন তিনি কিন্তু শিমুলের বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা শুনেই হঠাৎ অসুস্থতার দোহাই দিয়ে শিমুলের যাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করেন সে। রান্নাঘরে আসে, পরাগ আর পলাশ। পরাগের মা তাদের ভুল কথা বললেও শিমুল আসল সত্যিটা সবার সামনে বলে। তখন শিমুলের শাশুড়ি বলে বাড়িতে একটা অসুস্থ মানুষ রেখে বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা কি করে বলছে শিমুল? মায়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরাগ বলে সে আর শশুর বাড়ি যাবে না।
আর এখানেই শিমুল মোক্ষম জবাব দেয়। শিমুল বলে তাদের বিয়েটা আচার অনুষ্ঠান করেই হয়েছিল তাই এই ধুলোপা করতে যাওয়াটা একটা নিয়ম যেটা সে পালন করবে। তার স্বামীর যেমন তার মায়ের প্রতি একটা কর্তব্য আছে তেমনি মেয়ে হিসেবে শিমুলেরও তার মায়ের প্রতি একটা কর্তব্য রয়েছে। আর সেই কর্তব্য সে ঠিক পালন করবে। প্রয়োজনে সে একাই যাবে। শিমুল আরো বলে তার বাপের বাড়ি এত বড়লোক নয়, তারা যাবে জেনে অনেক রান্নাবান্না করা হয়েছে। তারা না গেলে সবই নষ্ট হবে।
View this post on Instagram
এই সব কিছু শুনে পলাশ শিমুলকে অনেক কথা শুনিয়ে দেয়। শিমুল তখন পলাশকে বলে বড়রা যখন কথা বলে তখন ছোটদের কথা বলতে নেই। সে সম্পর্কে পলাশের থেকে বড় হয় সে পলাশের বৌদি হয়। তাই সে আশা করবে যে ছোট হয়ে বড়দের অসম্মান সে করবে না। সবকিছু শুনে তার শাশুড়ি একপ্রকার ব্যঙ্গ করেই বলে যে সে বাঁচলো না মরল সেই নিয়ে তাদের ভাবতে হবে না তারা যেন শ্বশুর বাড়ি যায়। শিমুলের এই প্রতিবাদী রূপ সত্যিই ধীরে ধীরে বেশ পছন্দ হচ্ছে দর্শকদের। চুপ করে মুখ বুঝে সহ্য না করে শিমুলের এই প্রতিবাদ জনপ্রিয় করে তুলছে ধারাবাহিকটিকে।
View this post on Instagram

