৫০ হাজার টাকা মুড়ি মুড়কি! বুদ্ধি দিয়ে সৃজনের বাইরে যাওয়া আটকালো পর্না, রাতারাতি হয়ে গেল কোম্পানি, নতুন ভাঁওতাবাজি নিম ফুলের মধুতে

জি বাংলার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সর্বজন গ্রাহ্য ধারাবাহিক হল নিম ফুলের মধু। প্রধানত পারিবারিক বিষয়গুলিকেই নতুন রূপে তুলে ধরা হয়েছে এই ধারাবাহিকের মধ্যে দিয়ে। প্রতি সপ্তাহেই এই ধারাবাহিক ১ থেকে ৫ এর মধ্যে থাকে। বিশেষ করে চার নাম্বার স্থানটিকেই দখল করেছিল নিম ফুলের মধু। কিন্তু এই সপ্তাহে স্থানচ্যুত হতে হয় এই ধারাবাহিককে তবে দর্শকদের ধারণা খুব তাড়াতাড়ি আবারো গল্পের মোর ঘুরিয়ে নিজেকে এক থেকে পাঁচের মধ্যে নিয়ে আসবে এই মেগা।

কিছুদিন আগেই দেখা গিয়েছে তিন্নি মিথ্যে কথা বলে এবং অনেক কারসাজি করে সবার সামনে ভালো সাজতে সৃজনকে একটি চাকরি দেয়। কিন্তু সেই চাকরির মধ্যে দিয়ে তিন্নি সৃজনকে নিজের কাজ করায়। একটু চাকরে পরিণত হয় সৃজন। পর্ণা সৃজনকে তিন্নির সমস্ত জাল থেকে মুক্ত করে। আর তিন্নিকে তার বুদ্ধি দিয়ে উচিত শিক্ষা দেয়।

কিন্তু ধারাবাহিকের বর্তমান পর্বগুলি মোটেই পছন্দ হচ্ছে না দর্শকদের। ধারাবাহিক হলো সমাজের আয়না। সমাজে যা ঘটে তার ১০০ শতাংশ না হলেও বেশিরভাগ অংশটাই প্রতিফলিত হয় ধারাবাহিকের মধ্যে দিয়ে। প্রতিনিয়ত সমাজে ঘটে চলা ভালো এবং খারাপ ঘটনাগুলি একটু সৃজনশীল ভাবে নাটকীয়তার সাথে দর্শকদের সামনে পরিবেশন করার নামই হল ধারাবাহিক। কিন্তু নিম ফুলের মধু ধারাবাহিকের দেখানো বর্তমান এপিসোড গুলি ভীষণভাবে ভেজালে ভর্তি।

সৃজন গুজরাট চলে যাক এটা চায়না পর্ণা। তাই সৃজনকে নিজেই কাছে কলকাতাতেই আটকে রাখতে চায় সে। পর্ণা প্রথমেই রুচিকে ফোন করে, ফোন করে তাকে বলে তাকে একটা মেইল করতে হবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারের জন্য, কোম্পানির নাম হবে নিউ জার্নি। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারে লিখতে হবে ডিপার্টমেন্টের হেড হিসেবে সৃজনকে অ্যাপয়েন্ট করা হচ্ছে। আর তার সাথে একটা ওয়েব পেজও খুলতে হবে যেটার নাম হবে নিউ জার্নি। সে রুচিকে বলে তার হাতে ৫ মিনিটও সময় নেই। খুব তাড়াতাড়ি তখনই যেন কাজগুলো করে ফেলে সে। এরপর শুরু হয় ইন্টারভিউ। সৃজন রাস্তাতে এই ল্যাপটপ খুলে ছাতা মাথায় দিয়ে ইন্টারভিউ দেয়। প্রথমে সৃজনের খুব চেনা চেনা লাগে পর্ণাকে, কিন্তু পরে এসব টা ম্যানেজ করে নেয় পর্ণা। সেখানে পর্ণা তাকে বলে কলকাতায় একটি বিজনেস ওপেন করতে চলেছেন তিনি এবং তারই হেড হিসেবে সৃজন কে দরকার। কিসের বিজনেস জিজ্ঞাসা করলে সে সৃজনকে বলে শাড়ির বিজনেস। সেলারি প্রশ্ন সৃজন বলে সে গুজরাটের চাকরিতে ৫০০০০ পাচ্ছে, পর্ণা তখন একটু চিন্তায় পড়ে যায় কিন্তু পরবর্তীতে সে বলে ঠিক আছে তাই দেওয়া হবে।

এই সম্পূর্ণ ঘটনায় বিন্দুমাত্র বাস্তব নেই। এইভাবে ওইটুকুনি সময়ের মধ্যে ওয়েবপেজ খোলা, মেইল কিছুই সম্ভব নয়। একটি কোম্পানির ডিটেলস ইন্টারনেটে সহজেই পাওয়া যায় এমন কিছুই নেই তার কাছে। সে যে ফ্রড এটা যে কেউ যে কোন মুহূর্তে ধরে ফেলতে পারে। নিম ফুলের মধুর এই পর্বে এতটাই কল্পনা এবং অবাস্তবিক জিনিসপত্র মিশে গিয়েছে যে দর্শকরা এটিকে ভাওতাবাজি বলে আখ্যা দিচ্ছেন। পর্ণার জন্য এবার গুজরাটের চাকরিটা হাতছাড়া হবে সৃজনের। কতদিন পর্ণা পারবে সৃজনকে ৫০০০০ টাকা মাইনে দিতে? এত টাকা কোথা থেকেই বা পাবে সে? কোন কিছুই না ভেবেই কিছু অবাস্তবিক জিনিসপত্র দেখিয়ে বর্তমানে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছে এই ধারাবাহিক।

Back to top button