মেয়েবেলাকে সরিয়ে সন্ধ্যাতারাকে আনতেই ভরাডুবি স্টার জলসার! ফুলকির কাছে ধোপে টিকছে না সন্ধ্যার গল্প

বর্তমানে বাংলা বিনোদন জগতের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় চ্যানেল হচ্ছে স্টার জলসা। এই চ্যানেলে সম্প্রচারিত কমবেশি প্রতিটি ধারাবাহিকই জায়গা করে নিয়েছে দর্শকদের মনে। এই স্টার জলসারই একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিক ছিল মেয়েবেলা। খুব বেশিদিন সম্প্রচারিত হয়নি ধারাবাহিকটি। মাত্র ছয় মাসের মাথাতেই বন্ধ করে দেওয়া হয় এই জনপ্রিয় মেগা। আর এর পেছনে অন্যতম কারণ ছিল আশানুরূপ টিআরপি না দিতে পারা।
সন্ধ্যে সাড়ে সাতটার স্লটে সম্প্রচারিত হতো এই ধারাবাহিক। কিন্তু টিআরপি কম থাকায় শেষ সপ্তাহে ধারাবাহিককে বিকেল পাঁচটা স্লটে স্থানান্তরিত করা হয়। শেষ হওয়ার আগে এবং সাড়ে সাতটার স্লটে থাকাকালীন টিআরপি তালিকায় নিজেকে পাঁচ পয়েন্টে ধরে রেখেছিল মেয়েবেলা। মেয়েবেলার ২২ নম্বর সপ্তাহে এবং ২৩ নম্বর সপ্তাহে টিআরপি ছিল যথাক্রমে ৫.৩, ৫.০।

এত কম টিআরপি হওয়ার দরুন ধারাবাহিকটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চ্যানেল। এই ধারাবাহিক বন্ধ হওয়া নিয়ে চ্যানেলের সঙ্গে প্রোডাকশন হাউসের কিঞ্চিৎ কথা কাটাকাটিও হয়। কিন্তু তারপরেও ধারাবাহিতির স্লট চেঞ্জ করে নন প্রাইম টাইমে করে দেওয়া হয়। আর সাড়ে সাতটায় আনা হয় নতুন ধারাবাহিক সন্ধ্যা তারা।
কিছুদিন আগেই অন্বেষা হাজরা (Annwesha Hazra) এবং অমৃতা দেবনাথ (Amrita Debnath) -র নতুন সিরিয়াল সন্ধ্যাতারা সম্প্রচার হওয়া শুরু হয়েছে স্টার জলসা চ্যানেলে। তারপর থেকেই দর্শকরা নতুন এই সিরিয়ালটিকে নিয়ে মেতে উঠেছিলেন। অন্বেষা বাংলা সিরিয়ালের খুবই জনপ্রিয় একজন নায়িকা। অন্যদিকে অমৃতাও একজন বেশ নামী অভিনেত্রী।
কিন্তু যে উদ্দেশ্যে মেয়েবেলা ধারাবাহিকটি বন্ধ করে দেওয়া হলো সেই উদ্দেশ্য কি আদেও সফল করতে পারছে সন্ধ্যাতারা? একই দিনে সম্প্রচার হওয়া শুরু হয় ফুলকি এবং সন্ধ্যাতারা। একদিকে শুরুতেই বাজিমাত করেছে ফুলকি কিন্তু অন্যদিকে সন্ধ্যাতারা টিআরপি কোনভাবেই প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না চ্যানেলকে। মেয়েরা শেষ সপ্তাহে যে ফল করেছিল সন্ধ্যা তারা সেটুকুনিও করতে পারছে না। অর্থাৎ যে কারণে মেয়েবেলাকে সাড়ে সাতটার স্লট থেকে সরিয়ে দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হলো, সেই অভাব পূরণ করতে তো পারছেই না তার উপর ধীরে ধীরে টিআরপি আরো নেমে যাচ্ছে সন্ধ্যাতারা ধারাবাহিকের। এখন প্রশ্ন উঠছে তবে কি মেয়েবেলা বন্ধ করে দিয়ে সেই জায়গায় সন্ধ্যাতারা কে এনে ভুল সিদ্ধান্ত নিল চ্যানেল?

