জমি দখল-প্র’তারণা-তোলাবাজি, ভোটের আগেই ১০০ কোটির সম্পত্তি পা’চার! পুজোর আগে দেবরাজ-অদিতি দম্পতির বিরুদ্ধে আদালতে পেশ নয়া চার্জশিট!

বারাসত আদালতে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty) এবং তাঁর স্ত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির (Aditi Munshi) বিরুদ্ধে বুধবার একটি নতুন চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১১১ ধারা-সহ একাধিক ধারায় এই চার্জশিট পেশ করা হয়, যেখানে প্রয়োজনে পরবর্তীতে আরও অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। এর আগে গত ৬ অগস্ট দেবরাজের বিরুদ্ধে এই মামলার প্রথম চার্জশিটটি জমা পড়েছিল।

তদন্তকারী পুলিশ রাজবাড়ির মতো প্রভাবশালী এই দম্পতির বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর বে’আইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনেছে। চার্জশিটে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা মূল অভিযোগগুলো হলো “সিন্ডিকেট চক্র চালানো”, “জমি দখল”, “তো’লাবাজি” এবং “প্র’তারণা”। এর পাশাপাশি নির্বাচনী হলফনামায় “সম্পত্তি কম করে দেখানোর অভিযোগ” এবং আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন সম্পত্তি গোপন করে তা অন্যত্র সরানোর মতো বিষয়গুলোও যুক্ত করা হয়েছে।

মামলা চলাকালীন আদালতের সরকারি আইনজীবী দাবি করেন যে, বেআইনি পথে উপার্জিত এই অর্থের পরিমাণ কোনোভাবেই ১০০ কোটি টাকার কম নয়। সূত্রের খবর অনুযায়ী চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বেআইনিভাবে পাওয়া এই বিশাল অঙ্কের টাকার একটা বড় অংশ তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে গিয়ে পৌঁছেছে, যেখানে জল্পনায় উঠে এসেছে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামও। ভোটের আগে সেই টাকার একটা অংশ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছিল বলে পুলিশ এবং সরকারি আইনজীবী জানান।

গোটা ঘটনার শুরু হয়েছিল রাজারহাট-গোপালপুরের তৎকালীন বিধায়ক অদিতি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজের সম্পত্তির হিসাব নয়ছয়ের তদন্তকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁরা অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মীয় ও পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছিলেন। গ্রেফতারি এড়াতে দুজনেই কলকাতা হাই কোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন জানান আদালত শিশুসন্তানের কথা বিবেচনা করে অদিতিকে রক্ষাকবচ দিলেও দেবরাজের আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পর গত ১ জুলাই পুরুলিয়া থেকে দেবরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ ও রাজ্য এসটিএফ।

আরও পড়ুনঃ ‘মানুষটা অভ্যাসে পরিণত হলেই ভালোবাসাটা কমে যায়, তাই…’ বিচ্ছেদ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন শ্যামৌপ্তি? রণজয়কে ইঙ্গিত করে কী বললেন অভিনেত্রী? ৫ মাসেই সম্পর্কে ভাঙ্গন!

বর্তমানে ইলেকট্রনিক এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিপত্র প্রমাণ হিসেবে পুলিশের হাতে এসেছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে মামলা সংক্রান্ত বিষয়টি সামনে আসতেই একটি নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতে চার্জশিট পেশের পর সরকারি আইনজীবী জানান যে, তিনি এই মামলা নিয়ে একটি “হুমকি পেয়েছি” এবং বিষয়টি ইতিমধ্যেই পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ সম্পূর্ণ ঘটনার বিবরণ খতিয়ে দেখে তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

Back to top button