‘রসালো খবর বানানোর জন্য লিখে দিল ইন্দ্রানী হালদার নাকি…’ ‘আমাদের নিয়ে যে নোংরামিগুলো আপনারা করেন…’ ‘ভগবান আপনাদের গুষ্টির পে’ছনে আ’ছোলা বাঁশ ঢুকিয়ে দেবে!’ ব্যক্তিগত আক্রমণ নাকি অহংকার? সমালোচকদের কড়া ভাষায় ধমক দিলেন ইন্দ্রানী হালদার!

টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে (Tollywood) জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পেশাদার প্রতিযোগিতা নিয়ে নানা সময়েই চর্চা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রবীণ ও জনপ্রিয় দুই অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra) এবং ইন্দ্রানী হালদারকে (Indrani Haldar) কেন্দ্র করে বেশ কিছু বিতর্কিত ও কুরুচিকর বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা টলিউড মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ইন্দ্রানী হালদারের বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং বৈবাহিক জীবন নিয়ে ওঠা ভুয়া গুঞ্জনের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে শ্রীলেখা মিত্রের করা বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
শ্রীলেখা মিত্র বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম পরিচিত ও স্পষ্টভাষী অভিনেত্রী। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি চলচ্চিত্রে এবং ছোটপর্দায় একাধিক নজরকাড়া চরিত্রে অভিনয় করে নিজের পৃথক স্থান তৈরি করেছেন। স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত শ্রীলেখা যেমন তাঁর অনবদ্য অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন, তেমনই বিভিন্ন ইস্যুতে খোলাখুলি মন্তব্য করে বহুবার চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। বিতর্ক তাঁর ক্যারিয়ারে বারবার উঠে এলেও নিজের বিশ্বাস ও বক্তব্য প্রকাশে তিনি কখনোই পিছপা হননি।
বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিপাড়ায় শ্রীলেখা মিত্র এবং ইন্দ্রানী হালদার উভয়েই সমসাময়িক এবং দুজনেই বহুবছর ধরে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। নব্বইয়ের দশক থেকে ছোটপর্দা ও বড়পর্দায় একের পর এক জনপ্রিয় কাজ উপহার দিয়েছেন তাঁরা। তবে একই ইন্ডাস্ট্রিতে বহু বছর ধরে পাশাপাশি কাজ করলেও তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক যে খুব একটা মধুর ছিল না, তা ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের অনেকেই মানেন। অতীতে কোনো একটি সিনেমা বা প্রজেক্টে কাস্টিংকে কেন্দ্র করে শ্রীলেখার জায়গায় ইন্দ্রানী হালদারকে সুযোগ দেওয়া বা এই সংক্রান্ত নানা ঘটনা থেকে দুজনের মধ্যে যে মনকষাকষি শুরু হয়েছিল, তা সময়ের সঙ্গে পুরোপুরি মেটেনি। পেশাগত দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতার জেরেই তাঁদের সম্পর্কে শীতলতা বজায় থেকেছে।
একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে শ্রীলেখা মিত্র তাঁর সমসাময়িক অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদার সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচিকর ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। শ্রীলেখার মন্তব্য, “ইন্দ্রানী হালদার কখনোই আমার কম্পিটিটর ছিল না। আমার কম্পিটিটররা সর্বদাই গ্লামারেস আর অনেক উঁচু অভিনেত্রীরা ছিল।”
আরও পড়ুনঃ ‘ওকে নিয়ে রটিয়ে তোমাদের ব্যবসা চলে!’ ‘৭ বছর কথা হয়নি, তাও অনুভূতিগুলো রয়ে গেছে!’ ‘আমার বন্ধুত্ব রাখার যোগ্যতা নেই, খুব সহজেই…!’ ‘সাবধান, এসব জিনিস আমায় পাঠাবেন না, সব রেকর্ড থাকে!’ প্রেম-ভক্তি-জীবন নিয়ে অকপটে জিতু কমল!
অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন পোর্টালে সম্প্রতি রটে যায় যে ৫৮ বছর বয়সে নাকি ইন্দ্রানী হালদারের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটতে চলেছে এবং অসুস্থতার কারণে তাঁর স্বাস্থ্য অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। এসব নোংরা গুঞ্জন ও ট্রোলিংয়ের কড়া জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদার নিজে। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ ও বিরক্তির সঙ্গে জানান “আমার নাকি ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে! আমার ২৬ বছর বিয়ে হয়ে গেছে আর এখন ডিভোর্স করে আমি করবোটা কি? কিন্তু ওই যে রসালো পোর্টালটায় লিখে দিল ইন্দ্রানী হালদারের ৫৮ বছর বয়স ভাই আমার ৫৮ নয়রে, এতটাও নয় রে! আমাকে নিয়ে বা আমাদের নিয়ে যে নোংরামি গুলো আপনারা করেন, আপনাদের গুষ্টি কিন্তু একদম…ভগবান না পেছনে আছোলা বাঁশ দিয়ে দেবে একদম, এইটা বলে দিলাম।” অসুস্থতার জন্য সাময়িক বিরতি নেওয়ার পর তিনি আবার কাজ শুরু করার বার্তা দিয়েছেন, তবে তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়ে এমন কুৎসা এবং শ্রীলেখার কুরুচিকর কটাক্ষকে ঘিরে নেটপাড়ায় তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

