‘ওকে নিয়ে রটিয়ে তোমাদের ব্যবসা চলে!’ ‘৭ বছর কথা হয়নি, তাও অনুভূতিগুলো রয়ে গেছে!’ ‘আমার বন্ধুত্ব রাখার যোগ্যতা নেই, খুব সহজেই…!’ ‘সাবধান, এসব জিনিস আমায় পাঠাবেন না, সব রেকর্ড থাকে!’ প্রেম-ভক্তি-জীবন নিয়ে অকপটে জিতু কমল!

টেলিভিশন তথা চলচ্চিত্র জগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা জিতু কমল (Jeetu Kamal)। তাঁর নিখুঁত অভিনয় এবং স্বতন্ত্র বাচনভঙ্গি বারবার দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা সর্বত্রই নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের জন্য তিনি পরিচিত। সম্প্রতি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তিনি আবারও আলোচনায় এসেছেন, বিশেষ করে সহ-অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায়, উপহারের বন্যা এবং ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলে।
ধারাবাহিকের সেটে কাজের পরিবেশ এবং দুই শিল্পীর মধ্যকার দূরত্ব নিয়ে জল্পনা প্রসঙ্গে এবার সরাসরি মুখ খুলেছেন অভিনেতা। শুটিংয়ের দিনগুলোতে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ ও কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে জিতু কমল ক্ষোভের সুরে জানান, “কোনো কোনো দিন এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো যখন মনে হতো আর পারছি না।” শুটিংয়ের সময়সূচি এবং কলটাইম নিয়ে দিতিপ্রিয়ার তরফ থেকে তৈরি হওয়া জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি শুধু আমার কাজটা ঠিকমতো করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু অন্য দিক থেকে সেই সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।” সেটে তৈরি হওয়া অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কীভাবে কাজের ওপর প্রভাব ফেলেছে, তা তিনি অকপটে তুলে ধরেন।
ইন্ডাস্ট্রিতে বন্ধুত্ব এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জীবনের এক বড় সত্য প্রকাশ্যে এনেছেন জিতু। ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর কোনো আসল বন্ধু নেই এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করে তিনি বলেন, “টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কোনো বন্ধু নেই, এখানে সবাই শুধু কাজের সূত্রে পরিচিত।” এর পাশাপাশি নানা সময়ে পাওয়া বহুমূল্য উপহার যেমন বিলাসবহুল ঘড়ি, জুতো বা পোশাক প্রসঙ্গে হেসে তিনি জানান, “অনুরাগীরা বা কাছের মানুষেরা ভালোবেসে অনেক উপহার পাঠান, যেমন দামি ঘড়ি বা জুতো, আমি সেগুলোকে ভালোবাসা হিসেবেই গ্রহণ করি।” তবে বাহ্যিক চটক বা চাটুকারিতার চেয়ে নিজের কাজকেই তিনি বেশি প্রাধান্য দেন।
ধারাবাহিকের সেটে কাজের পরিবেশ এবং দুই শিল্পীর মধ্যকার মান-অভিমান প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জীবনের অন্যতম এক দীর্ঘ দূরত্বের কথা উল্লেখ করেছেন অভিনেতা। কারও সাথে বা কোনো বিশেষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ৭ বছর ধরে যে কোনো কথা হয়নি, সেই প্রসঙ্গ টেনে জিতু কমল আবেগ ও স্পষ্টতার সঙ্গে জানান, “কারোর সঙ্গে ৭ বছর কথা হয়নি, তাও তো আমরা পেশাদারিত্ব ধরে রেখে একই জায়গায় কাজ করে গেছি।” এই দীর্ঘ সময় কথা না হওয়া সত্ত্বেও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে ব্যক্তিগত দূরত্ব কখনোই কাজের ওপর প্রভাব ফেলা উচিত নয়।
অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে যে সমস্ত প্রেম ও বিশেষ সম্পর্কের জল্পনা ছড়ায়, সে বিষয়েও তিনি জলঘোলা বন্ধ করতে চেয়েছেন। শ্রাবন্তীর সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে অভিনেতা পরিষ্কার জানান, “শ্রাবন্তী আমার খুব ভালো একজন সহকর্মী, এর বাইরে আমাদের মধ্যে অন্য কোনো বিষয় টেনে আনা একেবারেই অনুচিত।” একই সঙ্গে নিজের আসন্ন কাজ ও সিনেমা নিয়ে ভীষণ আশাবাদী জিতু। নিজের নতুন প্রজেক্ট সম্পর্কে উৎসাহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার নতুন ছবি নিয়ে আমি দারুণ এক্সাইটেড, দর্শক এখানে আমাকে একদম অন্যরকম একটা চরিত্রে দেখতে পাবেন।”
আরও পড়ুনঃ ঝিনুককে আটকে রাখার নতুন উপায়! বাপের বাড়ি যাওয়া আটকাতে সম্রাটের নতুন চাল! এ কেমন পাগলামি? স্তব্ধ ঝিনুক! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
অবশেষে সমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক ও অনভিপ্রেত ঘটনাকে পেছনে ফেলে কেবল কাজের দিকেই নজর রাখতে চান অভিনেতা। ভবিষ্যৎ পথচলা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে বার্তা দিয়ে তিনি যোগ করেন, “সবকিছুর পরও দিনশেষে কাজের প্রতি আমার নিষ্ঠা ও ভালোবাসা একই থাকবে, কারণ দর্শকের ভালোবাসাই আমার আসল শক্তি।” সব বিতর্ক ভুলে নিজের আগামী সিনেমা এবং মানসম্মত অভিনয়ের মাধ্যমেই দর্শককে সেরা উপহার দিতে প্রস্তুত জিতু কমল।

