রায়ান-পারুলের চার হাত এক হলেও পিছু ছাড়ল না বিপদ! বিয়ের রাতেই পারুলের প্রাণসংশয়! কিভাবে রক্ষা করবে রায়ান?

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারুল ও রায়ানের গায়ে হলুদের সুন্দর হাসিখুশি পরিবেশের মাঝেই আচমকা হাজির হয় সমীরণের মামা। হাতে বন্দুক নিয়ে এসে সে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় যে পারুল ও তার দুই সন্তানকে সে শেষ করে দেবে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে রায়ান এক মুহূর্ত দেরি না করে তার বাবা ভুবনেশ্বরের ওপর পারুলের সুরক্ষার দায়িত্ব সঁপে দেয়। কিন্তু ঠিক তার পরপরই সমীরণের মামা পারুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দেয়।
দেশি পিস্তল নিয়ে আসা সমীরণের মামার মূল উদ্দেশ্য ছিল পারুলকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া। কিন্তু পারুলের মা এত সহজে মেয়ের ক্ষতি হতে দেয়নি। সে একাই সাহসের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে ধুন্ধুমার লড়াই শুরু করে দেয়। এরপর বাকি সবাই যোগ দিলে সমীরণের মামা ও তার লোকজনের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে। শেষমেশ সমীরণের মামা গুলি ছুড়লেও দেশি পিস্তলটি তার নিজের হাতেই বিস্ফোরিত হয়। ফলে সে আহত হয়ে পড়ে থাকে এবং তড়িতা বৌদির ফোনে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
এই বিপদের মেঘ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় নতুন চক্রান্ত। সংযুক্তা সেন, শিঞ্জিনী চক্রবর্তী ও মোনালি মুখার্জি এই তিনজন একজোট হয়ে পারুলের গ্রামে এসে হাজির হয়। তাদের পরিকল্পনা ছিল আরও ভয়ংকর; পারুল ও রায়ানের বিয়ের মণ্ডপেই দুজনকে শেষ করে দেওয়া। একদিকে পারুল কনের সাজে তৈরি এবং বরবেশে রায়ান এসে পৌঁছানোয় বরণ ও বরযাত্রীদের নাচে উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়, আর অন্যদিকে এই তিনজন মণ্ডপেই হামলার ঘুঁটি সাজাতে থাকে।
পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, পুরো বাড়িতে যখন বিয়ের খুশির মেজাজ, তখনই আচমকা বদলে যায় পরিস্থিতি। সংযুক্তা সেনের ভাড়াটে গুণ্ডারা আচমকা পুরো বিয়ের আসর ঘিরে ফেলে। চোখের পলকে আনন্দের অনুষ্ঠান পরিণত হয় চরম আতঙ্কে। চারিদিকে চেঁচামেচি আর ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যা পুরো আনন্দানুষ্ঠানকে এক নিমেষে থমথমে করে তোলে।
আরও পড়ুনঃ সামান্য অগোছালো ঘরেই উন্মাদ সম্রাট! মেয়েকে দেখে কমলার মনে দানা বাঁধছে সন্দেহ! তবে কি কমলার সামনেই নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাবে সম্রাট? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
সবচেয়ে ভয়ংকর মুহূর্তটি আসে তখন, যখন আততায়ীদের একজন পারুলের গলায় ধারালো ছোরা ধরে তাকে সরাসরি হুমকি দিতে থাকে। এত বাধা ও বিপত্তির মধ্যেও রায়ান আর পারুলের বিয়ে শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয় ঠিকই, কিন্তু বিয়ের ঠিক পর মুহূর্তেই এমন জীবন-মরণ সংকটের মুখে পড়তে হবে তা কেউ ভাবেনি। এখন দেখার বিষয়, রায়ান কি নিজের বুদ্ধি ও সাহস দিয়ে পারুলকে এই চরম বিপদ থেকে বাঁচাতে পারবে, নাকি সংযুক্তা সেনের ষড়যন্ত্র আরও ভয়ংকর রূপ নেবে।

