আনন্দ বদলে গেল আতঙ্কে! সমীরণের মামার গুলিতে কি প্রাণ যাবে পারুলের? স্ত্রীকে রক্ষা করতে পারবেতো রায়ান? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারুল ও রায়ানের গায়ে হলুদকে কেন্দ্র করে বসু পরিবারে যেন উৎসবের আমেজ নেমে এসেছিল। নিয়ম মেনে রায়ানের গায়ে হলুদ ও স্নানের পর্ব শেষ হতেই কনেপক্ষের বাড়িতে তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। এরপর মল্লার, মৈনাক ও তড়িৎ কাকিমারা গায়ে হলুদের তত্ত্ব নিয়ে পারুলের বাড়ি পৌঁছালে চারপাশের পরিবেশ আরো আনন্দমুখর হয়ে ওঠে। সমস্ত শুভ আচার মেনেই পারুলের গায়ে হলুদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বসু পরিবারের এই সুন্দর মেলামেশা পুরো পর্বে এক অন্য মাত্রা যোগ করে।

উৎসবের এই আনন্দঘন মুহূর্তেই ঘটে যেতে পারত এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আশীর্বাদের প্রস্তুতি চলাকালীন শিরিন যখন প্রদীপ জ্বালানোর জন্য দেশলাই কাঠি জ্বালাতে যায়, ঠিক তখনই পারুলের নাকে তীব্র গ্যাসের গন্ধ আসে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি টের পেয়ে পারুল শিরিনকে আটকে দেয়। ফলস্বরূপ দেশলাই জ্বললে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও বিপদ ঘটতে পারত, তা থেকে পরিবারটি বেঁচে যায়। তবে শিরিনকে বাঁচাতে গিয়ে পারুল নিজে কিছুটা আঘাত পায় এবং তার হাতের তালু কিছুটা পুড়ে ফুলে যায়।

পারুলের আঘাত পাওয়ার দৃশ্য দেখে রায়ান নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেনি। ভালোবাসার মানুষটির যন্ত্রণায় ব্যাকুল হয়ে সে নিজে হাতে পারুলের যত্ন নিতে এগিয়ে আসে। পরম মমতায় হাতে মলম লাগিয়ে দেওয়া, আলতো করে মালিশ করা এবং ফুঁ দিয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা—সব মিলিয়ে রায়ান ও পারুলের এক সুন্দর মুহূর্ত গড়ে ওঠে। সম্পর্কের টানাপোড়েন বা দুষ্টুমির আড়ালেও যে ভালোবাসা ও কেয়ারিং মনোভাব রয়েছে, তা রায়ানের এই যত্নশীল আচরণেই ফুটে ওঠে।

বিয়ের ধামাকার মাঝেই এই পর্বে আলাদা নজর কেড়েছে ভাদু ও নাড়ুর নতুন সমীকরণ। বসুবাড়ির কাজের লোক হলেও নাড়ু যেন ভাদুর কাছে বেশ বিশেষ একজন। অন্যদিকে গোপালের বোন ভাদুর অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল বড় বাড়িতে গিয়ে থাকার। নাড়ুর সঙ্গে সম্পর্ক গড়া মানে ভাদুর সেই স্বপ্ন পূরণের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। গায়ে হলুদের উৎসবে নাড়ুর হাতে ভাদুর গায়ে হলুদ মাখানোর পর্বটি ছিল যেমন মজার, তেমনি দর্শক মনে এক মিষ্টি আবেশ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুনঃ রাখি উৎসবে বড় চমক! আদিকে রাখি পরানোর প্ল্যান করলো পল্লবী! ভয়ের চোটে কথায় পালালো আদিত্যর? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

তবে আনন্দের এই মেজাজ বেশিক্ষণ স্থায়ী হওয়ার লক্ষণ নেই। আগামী পর্বে গায়ে হলুদের হাসিখুশি পরিবেশের মাঝেই আচমকা হাজির হবে সমীরণের মামা। হাতে বন্দুক নিয়ে এসে সে প্রকাশ্যেই হুমকি দেবে যে পারুল ও তার দুই সন্তানকে সে শেষ করে দেবে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রায়ান তার বাবা ভুবনেশ্বরের ওপর পারুলের সুরক্ষার দায়িত্ব সঁপে দেবে। কিন্তু ঠিক তার পরপরই সমীরণের মামা পারুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দেয়। গায়ে হলুদের এই শুভ দিনটি কি তবে রক্তে ভেসে যাবে, নাকি শেষ মুহূর্তে কেউ এসে পারুলকে রক্ষা করবে সেই নিয়েই তৈরি হয়েছে চরম কৌতূহল।

Back to top button