ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড থেকে বসু পরিবারকে বাঁচালো পারুল! বউয়ের পো’ড়া হাতের ক্ষততে মলম লাগিয়ে দিলো রায়ান! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সমীরণ দলবল নিয়ে ঝামেলা করতে এলে পারুল দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়ায়। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিল রায়ানের অবতার শাড়ি পরেই সে সোজা মারপিটে নেমে পড়ে! শেষমেশ জিৎ ও উজির সহযোগিতায় সমীরণের মাথায় আঘাত হেনে তাকে একপ্রকার ‘অসুর বধ’-এর মতোই পরাস্ত করা হয়। এতদিন ধরে পারুলকে বিপদে ফেলতে চাওয়া সমীরণের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে রায়ান, জিৎ ও উজির পারুলের পাশে এসে দাঁড়ানোর দৃশ্যটি পর্বটিকে এক অর্থপূর্ণ পরিণতি দেয়। ঝামেলা মিটতেই সব বাধা কাটিয়ে রায়ান নিজে পারুলের পায়ে আলতা পরিয়ে দেয়, যা দেখে পারুল গভীরভাবে উপলব্ধি করে যে তাদের দুজনকে আলাদা করা সহজ নয়।

বিয়ের সানাই বাজার আগেই রায়ান ও পারুলের রসায়ন দর্শকদের জন্য দারুণ এক রোমান্টিক অভিজ্ঞতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পারুল ঘরে একা থাকার সুযোগে রায়ান পিছন থেকে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে। পারুল নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলেও রায়ানের উপস্থিত বুদ্ধির কাছে শেষমেশ হার মানে। ঠাম্মি দেখা করতে বারণ করেছে কিন্তু চুমু দিতে তো বারণ করেনি, কিংবা চোখ বন্ধ রাখলে দেখা হবে না অথচ কাছে আসা যাবে রায়ানের এমন রসিকতা পুরো আবহকে বেশ মজাদার করে তোলে। আড়ালে লুকিয়ে দেখা করতে এসে দুজনের খুনসুটি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রায়ানের চুমুতে পারুলের ঠোঁট কেটে যায়! পারুলও কম যায় না, রাগ করে রায়ানের হাতে কামড়ে দেয়। দুজনের এই কাণ্ড দেখে বাড়ির লোকজন চলে আসে এবং বিয়ের আগে এভাবে দেখা করতে কড়া বারণ করে দেয়।

এরপরই শুরু হয়ে যায় বিয়ের আগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আচার ‘দধি মঙ্গল’। নাচ, গান আর আনন্দে পুরো বাড়ি একেবারে জমজমাট হয়ে ওঠে। কিন্তু এত আয়োজনের মাঝেও রায়ানের পারুলকে দেখার সাধ মেটে না। সে ভিডিও কলে পারুলকে দেখতে চায় এবং তাকে দেখেই আবার সেই আদুরে ডাক শুরু হয়। পারুলও ছেড়ে কথা বলার পাত্রী নয় ভিডিও কলে দুজনের মিষ্টি খুনসুটি ও ঝগড়া দেখে মনে হচ্ছিল শুভপরিণয় যেন কাল নয়, আজই সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে।

তবে এই হাসি-আনন্দের পরিবেশের মাঝেই ঘটতে যাচ্ছিল এক বড়সড় অঘটন। পারুলের ঘরে আশীর্বাদের সময় প্রদীপ জ্বালানোর আয়োজন হচ্ছিল। শিরিন যখন দেশলাই কাঠি জ্বালাতে যাচ্ছিল, তখনই পারুলের নাকে তীব্র গ্যাসের গন্ধ আসে। পারুল বুঝতে পারে যে রান্নাঘরের গ্যাস বন্ধ করা হয়নি এবং দেশলাই জ্বললেই পুরো বাড়িতে বড় বিপদ ঘটে যেত। শিরিনকে আটকাতে গিয়ে তাড়াহুড়োয় পারুল নিজেই আঘাত পায় এবং তার হাতের তালু কিছুটা পুড়ে ফুলে যায়। সৌভাগ্যবশত পারুলের বিচক্ষণতায় গোটা পরিবার এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায়।

আরও পড়ুনঃ ‘একটা হাত ভেঙে গেলে…!’ ‘ দুমড়ে মুচড়ে গেছে গাড়ি…’ ‘বড় বিপদে…’ ‘এমন ভয়ংকর ভাবে…’ বেপরোয়া চালকের ধাক্কা! মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে অগ্নিদেব-সুদীপার ছেলে!

পারুলের এই আঘাত পাওয়ার পর রায়ান যে স্থির থাকতে পারে না, তা বলাই বাহুল্য। পারুলের যন্ত্রণায় রায়ান নিজে তার হাতের যত্ন নিতে এগিয়ে আসে। পরম মমতায় মলম লাগিয়ে দেওয়া, হাতে আলতো মালিশ করা আর ফুঁ দিয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা সব মিলিয়ে আবার এক অনবদ্য ‘রায়ান-পারুল’ মুহূর্ত গড়ে ওঠে। বিয়ের আগে যতই দুষ্টুমি চলুক না কেন, এমন ছোট ছোট ভালোবাসার যত্নই প্রকাশ করে দুজনের সম্পর্কের গভীরতা। তবে আজকের পর্বের সবচেয়ে সুন্দর দিক ছিল গোটা পরিবারকে একসঙ্গে এত আনন্দে মেতে উঠতে দেখা, যা পরিণীতার পারিবারিক আবহকে এক আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

Back to top button