‘একটা হাত ভেঙে গেলে…!’ ‘ দুমড়ে মুচড়ে গেছে গাড়ি…’ ‘বড় বিপদে…’ ‘এমন ভয়ংকর ভাবে…’ বেপরোয়া চালকের ধাক্কা! মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে অগ্নিদেব-সুদীপার ছেলে!

টলিউডের (Tollywood) চেনা মুখ তথা জনপ্রিয় প্রযোজক আকাশ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে রবিবার রাতে তৈরি হয় চরম উদ্বেগ। বিখ্যাত পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Agnidev Chatterjee) বড় ছেলে আকাশ তাঁর বন্ধুর অসুস্থ মা-কে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথেই একটি দুর্ঘটনা ঘটে। তবে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও সুস্থ আছেন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে আকাশের সৎমা তথা খ্যাতনামা সঞ্চালিকা ও অভিনেত্রী সুদীপা চট্টোপাধ্যায় জানান, অন্য একটি গাড়ির বেপরোয়া চালনার কারণেই এই বিপদ ঘটে। সুদীপা বলেন, “বড় কিছু হতে পারত। ঈশ্বরের দয়ায় রক্ষা পেয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আর আকাশের বাবা বারণ করি শনিবার, রবিবার গাড়ি নিয়ে বেরোতে। কিন্তু ওর বয়সে কি তা সম্ভব। ভগবানের কৃপায় আকাশ ঠিক আছে। ওর কোনও চোট লাগেনি। তবে গাড়িটার ভালই ক্ষতি হয়েছে। আকাশের বন্ধুর মা অসুস্থ। তাঁকে দেখে, সব ব্যবস্থা করে ফিরছিল। রাস্তায় ওর আগের একটা গাড়িটা খুব খারাপ ভাবে চালাচ্ছিল।”
শারীরিক চোট না পেলেও নিজের প্রিয় গাড়িটির ক্ষতি হওয়ায় বেশ ভেঙে পড়েছেন এই তরুণ প্রযোজক। সুদীপার কথায়, “আকাশ হল গাড়ি আর পোষ্যঅন্ত প্রাণ। তাই আমাকে বলেছে ‘একটা হাত ভেঙে গেলে এত কষ্ট হত না। গাড়ির এমন হওয়ায় বেশি কষ্ট হচ্ছে’। তবে বেশ ভয়ই পেয়েছিলাম আমরা।” দুর্ঘটনার পর থানায় কোনও অফিসিয়াল অভিযোগ দায়ের করা না হলেও, আপাতত পরিবারের সবাই স্বস্তিতে আছেন।
দুর্ঘটনার খবরের পাশাপাশি সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের জীবনের কথাও অনেকের মনে পড়ে যায়। টেলিলাইভের জনপ্রিয় রন্ধনপ্রণালী বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘রান্নাঘর’-এর সঞ্চালিকা হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে বাঙালি দর্শকদের ঘরে ঘরে পরিচিতি পেয়েছেন সুদীপা। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্য লেখা এবং নিজস্ব ফ্যাশন বুটিক ও গয়নার ব্র্যান্ড পরিচালনার কাজেও তিনি সমানভাবে সফল। পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহের পর তিনি তাঁর সংসার ও কাজ দুই-ই দক্ষতার সঙ্গে সামলে আসছেন।
আরও পড়ুনঃ অভাবের সংসারে আলুর বস্তা কাঁধে শ্রীনিবাসের লড়াই! সংসারের দায়ে অক্লান্ত পরিশ্রম! পল্লবীর মুখে হাসি ফোটাতে হাজির আদিত্য! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
দুর্ঘটনাটি বড় আকার নিতে পারত, তবে বড়সড় বিপদ থেকে রেহাই মেলায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে চট্টোপাধ্যায় পরিবার।বর্তমানে আকাশ নিজের কাজ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরেছেন। প্রিয়জনের সুরক্ষা ও সুস্থতাই এই মুহূর্তে পরিবারের কাছে সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

