ক্যাফে২২-এর ছাদের ধারে তোলপাড়! আত্মগ্লানিতে কী চরম সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রায়ান? হাত বাড়িয়েও কি তাকে বাঁচাতে পারবে পারুল? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারুল রায়ানকে পাশে নিয়ে এক নতুন লড়াইয়ের জোরালো অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে। যারা এতদিন রায়ানকে নানাবেগে কষ্ট দিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দেয় সে। এর পরপরই সবাইকে অবাক করে দিয়ে মল্লারকে ঘরবাড়ি নতুন করে সাজানোর নির্দেশ দেয় পারুল। ৫০ কোটি টাকার হীরে হাতছাড়া হওয়া সত্ত্বেও হঠাৎ কেন এই উৎসবের আয়োজন, আর সেই আড়ালে পারুল ঠিক কী পদক্ষেপ নিতে চলেছে, তা নিয়েই পুরো গল্পে নতুন করে মূল কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

পারুলের নির্দেশ মেনে সেই অভিযুক্ত পাঁচজন ব্যক্তি বাধ্য হয়ে রায়ানের পায়ে ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করে। শুধু রায়ানের কাছেই নয়, অতীতে যাদের যাদের সঙ্গে তারা একইভাবে অন্যায় ও প্রতারণা করেছিল, সকলের সামনে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নেয়। পুরো ঘটনাটির একটি ভিডিও রেকর্ড করা হয়, যেখানে তারা নিজেদের সমস্ত কুকীর্তির কথা খোলামেলা স্বীকার করে নেওয়ার পাশাপাশি রায়ানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হয়।

সব দেখে রায়ান তার এতদিন চেপে রাখা কষ্টের কথা সকলের সামনে তুলে ধরে। সে আকুল আবেদন জানায়, তার সঙ্গে যে মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা যেন আর অন্য কোনো নির্দোষ মানুষের সঙ্গে না ঘটে। অন্যদিকে পারুল যাদের বিচারের জন্য এত বড় লড়াই চালিয়েছে, তারা সবাই তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানায়। কারণ রায়ানের বিচার পাওয়ার মাধ্যমেই গোটা বিষয়টি একটি সার্বজনীন ও ন্যায্য লড়াইয়ের রূপ নেয়।

এতকিছু মিটে যাওয়ার পর গল্পের মোড় হঠাৎ অন্যদিকে ঘুরে যায়। সব ঝামেলা চুকে যেতেই রায়ান কাউকেও কিছু না জানিয়ে হঠাৎ সেই স্থান থেকে উধাও হয়ে যায়। পারুল বারবার রায়ানের মোবাইলে ফোন করেও তার কোনো যোগাযোগ বা খোঁজ পাচ্ছিল না, যা তাকে প্রবল দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়।

আরও পড়ুনঃ জন্মদিন জুড়ে শুধুই সারপ্রাইজ! পল্লবীর মুখে হাসি ফোটাতে আদিত্যর নতুন মাস্টারপ্ল্যান! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

আগামী পর্বে দেখা যাবে, Cafe22-এর ছাদের একদম ধারে রায়ানকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তীব্র আতঙ্কে কেঁপে ওঠে পারুল। পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে যেতে দেখে সে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করে, “তুই এসব কী করছিস?” জবাবে রায়ানের গলায় ঝরে পড়ে তীব্র অনুশোচনা। সে জানায়, পারুলের সঙ্গে প্রতিনিয়ত খারাপ ব্যবহার করার পরেও পারুল যেভাবে তাকে ভালোবেসে গেছে, সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সামনে তার নিজের অপরাধবোধ ও ভুলগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সে এটিকে তার অপরাধের ‘প্রায়শ্চিত্ত’ হিসেবেই মনে করছে। রায়ানের এমন মানসিক অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে পারুল তাকে দ্রুত তার হাত ধরতে বলে, কিন্তু রায়ান পারুলের দিকে অপলক তাকিয়েও মৃদু মাথা নেড়ে না করে দেয়। জীবনের এই কঠিন মুহূর্তে পারুলের ভালোবাসার আসল পরীক্ষা, যেখানে রায়ানের এই দূরত্ব তৈরির চেষ্টাকে সে কীভাবে সামাল দেয়, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

Back to top button