অ্যা’ক্সিডেন্ট স্পটে ফেলে আসা ঘড়িই কি ডেকে আনবে সম্রাটের পতন? প্রমাণ লোপাটে সম্রাটের মাস্টারপ্ল্যান! অপরাধবোধে জর্জরিত শ্রীনিবাসের হাত ধরল কমলা!

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, দীর্ঘদিন পর বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় পা রেখেছে রণজয়ের শৈশবের বান্ধবী শ্রাবণী। ঝিনুককে হারিয়ে রণজয়ের জীবন যখন থমকে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তখনই শ্রাবণীর আগমন তার নিভে যাওয়া মুখে আবার পুরোনো হাসি ফিরিয়ে এনেছে। ঝিনুকের অপেক্ষায় ব্যাকুল রণজয় কি পারবে শ্রাবণীর হাত ধরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে? দর্শকদের মনে এখন এটাই বড় প্রশ্ন। তবে এই মেলামেশা কেবল শৈশবের অমলিন বন্ধুত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, রণজয়ের প্রতি শ্রাবণীর মনে যে এক বিশেষ অনুভূতির প্রদীপ জ্বলছে, তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
শ্রাবণীর মনের গভীরে রণজয়ের জন্য ভালোবাসা দানা বাঁধলেও, রণজয়ের হৃদয়ের এক বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে শুধুই ঝিনুকের স্মৃতি। এই অবস্থায় শ্রাবণী কি সত্যি পারবে রণজয়ের মনের সেই গভীর ক্ষত সারিয়ে নিজের স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে? নাকি ছোটবেলার এই সুন্দর আবেগ আর ভালোলাগা কেবল এক গভীর বন্ধুত্বের রূপ নিয়েই থেকে যাবে? সম্পর্কের এই জটিল টানাপোড়েন ধারাবাহিকের গল্পে এনে দিয়েছে এক নতুন আকর্ষণ ও কৌতূহল।
অন্যদিক, শ্রীনিবাস বাবুর অফিসে আয়োজিত হয়েছে তাঁর ৪০ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনের এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগঘন বক্তব্য রাখার সময় শ্রীনিবাস বাবু যখন পরোক্ষে নিজের বিদায়ের ইঙ্গিত দেন, ঠিক তখনই কমলাও অনুষ্ঠানস্থলের দিকে এগোতে শুরু করে। তবে এই উৎসবের আবহের মাঝেই ঘনিয়ে আসে বিপদের মেঘ। শ্রাবণীর সাথে আসা বন্ধু বিনোদের সঙ্গে সম্রাটের নতুন করে তীব্র বচসা ও ঝামেলা শুরু হয়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।
বিনোদকে নিজের পথ থেকে সরাতে গিয়ে চরম অঘটন ঘটিয়ে ফেলে সম্রাট। অ্যাক্সিডেন্ট স্পট থেকে তাড়াহুড়ো করে পালিয়ে এলেও, বাড়িতে ফিরে সে বুঝতে পারে তার হাতঘড়িটি ঘটনাস্থলেই পড়ে রয়ে গেছে। এই চরম ভুলে সম্রাটের মনে চেপে বসে তীব্র ভয় ও আতঙ্ক। কারণ পুলিশ ইতিমধ্যেই সেই দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালানো শুরু করেছে। যদি সেই ঘড়িটি পুলিশের হাতে চলে আসে, তবে সম্রাটের বিরুদ্ধে তা এক অকাট্য প্রমাণ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে যেকোনো উপায়ে সেই ঘড়ি উদ্ধারের জন্য সে মরিয়া হয়ে মাস্টারপ্ল্যান বানাতে থাকে।
আরও পড়ুনঃ ‘ভোটে জিতলেই গলার আওয়াজ বাড়ে…’ ‘গলার আওয়াজ আর বাজে কথাই সার…’ ‘কাজ, পরিশ্রম দিয়ে জায়গা ধরে রাখার ক্ষমতা নেই…’ শর্বরী মুখার্জির মন্তব্যে অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের তীব্র কটাক্ষ!
ঘটনার জটিলতা যখন চরমে, তখন শ্রীনিবাস বাবু নিজের ভেতরের অপরাধবোধে ভেঙে পড়ছেন। কমলার কাছে এখনো পুরো সত্যিটা না জানাতে পেরে নিজেকে একজন অযোগ্য সঙ্গী মনে করছেন তিনি। ভগবানের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভুলের জন্য কান্নাকাটি করতে থাকেন শ্রীনিবাস। ঠিক সেই আবেগঘন মুহূর্তে কমলা এসে তাঁর পাশে দাঁড়ায়। শ্রীনিবাসের এই মানসিক অস্থিরতা এবং কমলার তাঁর পাশে এসে দাঁড়ানো এই দুই মিলে গল্পের পরবর্তী মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

