নিজের বোনের নামেই নিন্দা! ঘরের মেয়েদের নোংরা ভাষায় অপমান! সমরের মুখ বন্ধ করলেন শ্রীনিবাস! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ঝিনুক বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে শুনে শ্রীনিবাস ও কমলা তড়িঘড়ি ছুটে যায় সম্রাটের বাড়িতে। অন্যদিকে, সম্রাট বাড়িতে ফিরে ঝিনুককে না পেয়ে এমনিতেই মেজাজ হারিয়ে বসেছিল। তার ওপর ঝিনুকের বাবা-মাকে হঠাৎ বাড়িতে হাজির হতে দেখে সে আরও চমকে যায়। পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছায় যেখানে দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় সম্রাট কীভাবে ঝিনুকের বাবা-মাকে সামলায় এবং ঝিনুক শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাড়িতে ফিরে আসে। এই টানটান উত্তেজনার মাঝে শ্রীনিবাস, কমলা, রাজু এবং কমলার বড় মেয়ে সম্রাটের বাড়ির দরজায় গিয়ে পৌঁছালে ভেতরের দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিপরীত মেরুতে রয়েছে আদিত্য ও পল্লবীর রসায়ন। আজ ঝিনুককে খুঁজতে বের হয়ে গুহ বাড়ির কেউ সম্রাটের মুখোমুখি হতে না পারলেও, অন্যদিকে পল্লবী একটি বিশেষ কাজের উদ্দেশ্যে আদিত্যদের বাড়িতে উপস্থিত হয়। সেখানে গিয়ে সে সবার সঙ্গে দেখা করে এবং আদিত্যের বাবার আসার অপেক্ষা করতে থাকে। সেই ফাঁকে আদিত্য একটি ফাইল নিয়ে এলে তা নিয়েই দুজনের মধ্যে শুরু হয় মিষ্টি খুনসুটি। বাড়ির টানটান পরিবেশের বিপরীতে তাদের এই হালকা চালের মুহূর্তটি গল্পে এক অন্যরকম আবহ তৈরি করে।
তবে আসল ঝড়টি ওঠে গুহ বাড়িতে কমলা ও শ্রীনিবাস ফেরার পর। বাড়িতে ফিরেই তারা জানতে পারে যে পল্লবী এখনো অফিস থেকে ফেরেনি। আর তাতেই নতুন করে অশান্তি শুরু হয়। পল্লবীকে না পেয়ে পরিবারের সবাই যখন চরম দুশ্চিন্তায়, তখন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সমর যাচ্ছেতাইভাবে কটুকথা বলতে শুরু করে। পল্লবী আর ঝিনুককে এক পাল্লায় মেপে সমর এমনভাবে কথা বলে, যেন পরিবারের সমস্ত সম্মান নষ্ট হওয়ার জন্য এই দুই মেয়েই দায়ী। সমরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যে পরিবেশ আরও বিষাক্ত হয়ে ওঠে।
তবে এবার আর চুপ করে থাকেননি শ্রীনিবাস। নিজের বাড়ির মেয়েদের নিয়ে এমন অসম্মানজনক কথা শুনে তিনি সমরের ওপর দারুণভাবে ক্ষেপে যান। ছেলেকে সরাসরি “অপদার্থ” বলে কড়া জবাবে বুঝিয়ে দেন যে, পরিবারের মেয়েদের সম্মান নিয়ে কথা বলার আগে নিজের আচরণ আর যোগ্যতার দিকে তাকানো উচিত। ছেলের অন্যায্য ভুলকে অন্ধভাবে সমর্থন না করে শ্রীনিবাস যেভাবে প্রতিবাদ করেছেন, তাতে পরিবারের মেয়েদের প্রতি তাঁর স্পষ্ট অবস্থান ও অভিভাবকত্বের এক সুন্দর দিক ফুটে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ ‘ছবি করলে আমার ক্ষতি হতো, ওরা টাকা-পয়সা নিয়ে…’ ‘টাকাটা মুখের ওপর ছুড়ে মেরে…’ ‘দিদি যা বলতো তাই হত, প্রোডিউসার দিদির…’ ‘ভালো রোলের সেই গুরুত্ব আর নেই’ ইন্ডাস্ট্রির কাজের ধরন নিয়ে বি’স্ফোরক বর্ষীয়ান অভিনেতা! বিনোদন জগৎ থেকে কেন হারিয়ে যাচ্ছেন অশোক কুমার?
সব মিলিয়ে পর্বটিতে ফুটে উঠেছে এক চমৎকার বৈপরীত্য। একদিকে পল্লবী কোথায় আছে তা নিয়ে যখন গুহ বাড়িতে দুশ্চিন্তা ও বাকবিতণ্ডা চরম শিখরে, অন্যদিকে পল্লবী তখন সব উদ্বেগ থেকে দূরে আদিত্যর বাড়িতে বেশ নিশ্চিন্তে ও আনন্দের সাথে সময় কাটাচ্ছে। পরিবারের এই মানসিক অস্থিরতার সঙ্গে পল্লবীর নিশ্চিন্তে সময় কাটানোর বৈপরীত্যটি গল্পের মোড়কে বেশ আকর্ষণীয় ও মজাদার করে তুলেছে।

