‘পর্দার আড়ালের মানুষদের বাদ দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি অচল!’ ‘শুধু মুখ দেখালেই এখানে টেকা যায় না!’ ‘ডিসিপ্লিন না থাকলে জায়গা নেই!’ বর্তমান অভিনেতা অভিনেত্রীদের ব্যবহার থেকে মেগা সিরিয়ালের সাফল্য! বি’স্ফোরক রীতা দত্ত চক্রবর্তী!

বাঙালি দর্শক ও অভিনয়প্রেমীদের কাছে রীতা দত্ত চক্রবর্তী (Rita Dutta Chakraborty) এক অত্যন্ত চেনা এবং পছন্দের নাম। ছোটবেলায় নাট্যব্যক্তিত্ব তৃপ্তি মিত্রের কাছে অভিনয় শেখা শুরু করেন তিনি। এরপর থেকে মঞ্চ, সিনেমা ও মেগা ধারাবাহিক সব জায়গাতেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ‘ক্রান্তিকাল’, ‘আলো’, ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার’-এর মতো জনপ্রিয় ছবি এবং ‘মা’, ‘ইচ্ছেনদী’, ‘কর কাছে কই মনের কথা’-র মতো একাধিক হিট ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। অভিনয় করার পাশাপাশি তিনি দারুণ আবৃত্তি করেন এবং গুছিয়ে কথা বলতে পারেন। সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার পর্বে তিনি বিনোদন জগতের ভেতরের নানা অভিজ্ঞতার কথা মন খুলে শেয়ার করেছেন।

এই সাক্ষাৎকারে রীতা দত্ত চক্রবর্তী শুটিং সেটে প্রযোজক, পরিচালক এবং টেকনিশিয়ানদের সম্পর্কের ভূমিকা নিয়ে বেশ সুন্দরভাবে কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্টই জানান, একটা হিট সিরিয়াল বা সিনেমা তৈরি হওয়ার পেছনে শুধু সামনে থাকা কলাকুশলীদের হাত থাকে না, পর্দার পেছনের মানুষগুলোর অবদানই সবচেয়ে বেশি। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর মতো পরিচিত প্রযোজনা সংস্থার সাথে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রযোজক আর পরিচালকের সঠিক ভাবনা থাকলে সেটের পরিবেশ খুব হালকা ও সুন্দর থাকে। আর রাতদিন পরিশ্রম করে কাজের প্রতিটি দিক নিখুঁত করে তোলেন সেটের টেকনিশিয়ানরা, তাঁরাই যেকোনো প্রজেক্টের আসল শক্তি।

Rita Dutta Chakraborty, Bengali Actress, Tragic Incident, ankle injury, exposed bones, shooting on stretcher, acting on wheelchair, post-surgery shoot, Balika Vadhu remake, Gauridan, actress struggle, Venkatesh Films, Bengali Serial, Bengali Television, Tollywood, ঋতা দত্ত চক্রবর্তী, বাঙালি অভিনেত্রী, ভয়াবহ দুর্ঘটনা, গোড়ালিতে চোট, হাড় বেরিয়ে এসেছে, স্ট্রেচারে শুটিং, হুইলচেয়ারে অভিনয়, অপারেশনের পর শুটিং, বালিকা বধূ, গৌরিদান, অভিনেত্রী জীবন, ভেঙ্কটেশ ফিল্মস, বাংলা ধারাবাহিক, বাংলা টেলিভিশন

আজকালকার টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি ও অভিনয়ের ধরন যেভাবে পাল্টাচ্ছে, তা নিয়েও কথা বলেন তিনি। বর্তমান সময়ে বিনোদন জগতে প্রচুর নতুন মুখ আসছে, যা ইন্ডাস্ট্রিকে আরো সতেজ করে তুলছে বলে তিনি মনে করেন। তবে নতুনদের উদ্দেশ্যে তাঁর পরামর্শ, শুধু দেখতে ভালো হওয়া বা সুযোগ পাওয়াই সব নয়, অভিনয়ে দীর্ঘকাল টিকে থাকতে হলে সঠিকভাবে কাজ শেখা এবং থিয়েটারের মতো শৃঙ্খলা মেনে চলা খুব দরকার। নতুনদের মধ্যে শেখার ইচ্ছে আর কাজের প্রতি টান থাকলে তবেই তারা অভিনয়ের জগতে নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে পারবে।

আরও পড়ুন: ‘বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় থাকব, তবু অন্য কাউকে মা বলে ডাকবো না!’ ‘দলকে ভালবাসলে কেউ রাতারাতি রং পাল্টাতে পারে?’ ‘সমাজসেবা করতে একদল ছেড়ে অন্য দলে যেতে হয় না…’ রাজনীতি ও দলবদল নিয়ে বি’স্ফোরক মানসী সিনহা!

ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন সম্পর্কে রীতা দত্ত চক্রবর্তী মনে করেন, আগের যুগের সাথে আজকের কাজের পদ্ধতি, টেকনোলজি এবং মেগা সিরিয়াল বানানোর নিয়মে অনেক তফাত এসেছে। তবে যুগ যতটাই বদলাক না কেন, একজন পেশাদার শিল্পীর কাজ হলো সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলা এবং কাজের সময়ের নিয়ম মেনে চলা। সেটের সবাই যখন একে অপরকে সম্মান করে আর একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করে, তখন যেকোনো কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়।

সবশেষে, সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ইতিবাচক মানসিকতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সেটের পরিবেশ যদি ভালো থাকে আর প্রযোজক-পরিচালক থেকে শুরু করে নতুন-পুরোনো সব শিল্পী এক ছাদের তলায় মিলেমিশে কাজ করেন, তবে কাজের ক্লান্তি বা মানসিক চাপ সহজে কাবু করতে পারে না। নতুন যুগের কলাকুশলীদের জন্য তাঁর এই অভিজ্ঞতা সত্যিই খুব দামী, কারণ অভিজ্ঞদের থেকে শিখে এবং সেটের টেকনিশিয়ানদের পরিশ্রমকে সম্মান জানিয়ে এগোলেই এই ইন্ডাস্ট্রি আরো এগিয়ে যাবে।

Back to top button