‘বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় থাকব, তবু অন্য কাউকে মা বলে ডাকবো না!’ ‘দলকে ভালবাসলে কেউ রাতারাতি রং পাল্টাতে পারে?’ ‘সমাজসেবা করতে একদল ছেড়ে অন্য দলে যেতে হয় না…’ রাজনীতি ও দলবদল নিয়ে বি’স্ফোরক মানসী সিনহা!

বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ অভিনেত্রী মানসী সিনহা (Manasi Sinha)। রূপোলি পর্দার পাশাপাশি সমাজ ও রাজনীতির নানান বিষয়ে নিজের স্পষ্ট ও অসংকোচ মতামতের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়শই চর্চায় থাকেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান রাজনীতির আবহাওয়া এবং রাজনৈতিক নেতাদের ঘনঘন দলবদল নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন এই অভিনেত্রী। কোনো রকম রাখঢাক না করে তিনি সোজা ব্যাখায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণের সেবার দোহাই দিয়ে দলবদল করার নাম আসলে রাজনীতি নয়, তা কেবলই ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধি।

দলবদলের এই প্রবণতাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনেত্রী নিজের জীবনের এক পারিবারিক রূপক তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বাবা-মায়ের সঙ্গে মতবিরোধ বা ঝামেলা হলে মানুষ বড়জোর বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় গিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু তা বলে অন্য কারও বাড়ি গিয়ে সেখানকার মা-বাবাকে নিজের মা-বাবা বলে ডাকতে শুরু করে না। রাজনীতির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম খাটে। আজ এক দল ছেড়ে কাল অন্য দলে যোগ দেওয়া কোনো আদর্শের বহিপ্রকাশ নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকে নিছক ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির হিসাব। “মানুষের কাজ করব বলেই রাজনীতিতে এসেছি” এই দাবিকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় একটি ‘মিথ্যে কথা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মানসী সিনহা জানান, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বা সমাজসেবামূলক কাজ করতে হলে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ থাকার প্রয়োজন হয় না। তিনি নিজে প্রতিনিয়ত বহু মানুষের জন্য সাধ্যমতো কাজ করেন, তবে এর জন্য তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় যাননি এবং ভবিষ্যতেও কোনো দলের সদস্য হতে চান না। কোনো সুবিধাভোগী গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক আশ্রয়ের অধীনে না থেকে স্বাধীনভাবে মানুষের পাশে থাকাই তাঁর মূল পছন্দ।

নিজের রাজনৈতিক আদর্শ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, তিনি মূলত বামপন্থী ভাবধারায় বিশ্বাসী। তবে বামফ্রন্টের শাসনামলে বা বর্তমানে কিছু মানুষের ভুলত্রুটি ও দুর্নীতির কথাও তিনি অস্বীকার করেননি। তাঁর মতে, কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে বামফ্রন্টের নাম খারাপ হয়েছিল বা বদনাম সহ্য করতে হয়েছিল, কিন্তু বামপন্থার মূল চেতনা বা মানসিকতা কখনোই দুর্নীতি করতে শেখায় না। দলের কিছু ব্যক্তির অপকর্মের দায় মূল রাজনৈতিক আদর্শের ওপর চাপানো অনুচিত বলেই মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ অ’ত্যাচারের চরম সীমা অতিক্রম! রাগে দুঃখে ঘর ছাড়ার মুখেই ঝিনুকের সামনে সম্রাটের বী’ভৎস রূপ! চা’বুক হাতে দরজা আটকালো সম্রাট! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!

উল্লেখ্য, জনপ্রিয় অভিনেত্রী মঞ্জু সিনহার কন্যা মানসী সিনহা বহু বছর ধরে বাংলা বিনোদন জগতে কাজ করছেন। থিয়েটার থেকে শুরু করে ছোট পর্দা ও বড় পর্দায় নিজের সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি মানুষের ভালোবাসার ‘ঘরের মানুষ’ হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি অভিনয় গণ্ডি পেরিয়ে পরিচালক হিসেবেও তিনি দর্শকমহলে আত্মপ্রকাশ করে দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া ও নেটমাধ্যমে মানসী সিনহাকে একজন স্বাধীনচেতা, স্পষ্টবাদী ও সৎ ব্যক্তিত্ব হিসেবেই চেনে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল। নিজের নীতিতে অনড় থেকে তাঁর এই সোজাসাপ্টা বক্তব্য সাধারণ নেটিজেন ও অনুরাগীদের মনে নতুন করে ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে।

Back to top button