‘শূন্য হয়ে গিয়েও এদের শিক্ষা হয়নি!’ ‘পাপিয়া অধিকারীকে বলছে মা’ফিয়া!’ ‘নারীদের অপমান করাই কি সিপিএমের নতুন রাজনীতি?’ শতরূপের মন্তব্যে বামেদের সরাসরি আক্রমণ রুদ্রনীল ঘোষের!

বঙ্গ রাজনীতিতে সৌজন্যের সীমা লঙ্ঘন এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ প্রবীণ অভিনেত্রী তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পাপিয়া অধিকারীকে (Papiya Adhikari) নিয়ে কটূক্তি করে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। শতরূপের এমন মন্তব্যের বিরুদ্ধে এবার সরব হলেন অভিনেতা ও বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও নারীদের প্রতি অশালীন আচরণে নামিয়ে আনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত শতরূপ ঘোষের এক বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি পাপিয়া অধিকারীকে কটাক্ষ করতে গিয়ে ‘মাফিয়া অধিকারী’ বলে সম্বোধন করেন। এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে রুদ্রনীল বলেন যে, বামপন্থী নেতাদের একাংশের মধ্যে এই ধরনের আচরণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। রাজনৈতিক মঞ্চে যুক্তি দিয়ে লড়াই না করে একজন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট নারী শিল্পীকে নিয়ে এভাবে স্ল্যাং বা আপত্তিকর শব্দ প্রয়োগ করা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সিপিআইএম-এর সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত ইতিহাস তুলে ধরে রুদ্রনীল আরও বলেন যে, বিরোধী দলগুলোর রাজনীতি করার ধরন আজ হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। তারা নিজেদের সর্বজ্ঞ মনে করলেও বাস্তব রাজনীতি থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শতরূপের এই বক্তব্য কেবল একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি আক্রমণ নয়, এটি রাজনীতিতে শালীনতার অভাবকেই স্পষ্ট করে তোলে।
মতপার্থক্য রাজনৈতিক ক্ষেত্রের একটি স্বাভাবিক অংশ হলেও, রুদ্রনীল স্পষ্টভাবে জানান যে একজন নারীকে সম্মান জানানো সমাজের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। পাপিয়া অধিকারীর কাজ বা মতাদর্শ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু তাঁকে জনসমক্ষে এভাবে হেয় করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। রুদ্রনীলের মতে, এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক আলোচনার মানকে কেবল নিচে নামায় না, বরং মন্তব্যকারীর মানসিকতার দীনতাকেও প্রকাশ করে।
আরও পড়ুনঃ ‘মেয়েটির পেলভিক গার্ডেল ভেঙে তাকে হ’ত্যা করে…’ ‘আমি যেন আর বেশিদিন না বাঁচি…’ ‘আমি খুব লাকি যে আমার কোন সন্তান নেই…’ মানুষের নৃ’শংসতা দেখে হতবাক অভিনেত্রী! ভয়ংকর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করে নিজের মৃ’ত্যু কামনা করলেন সোহিনী সেনগুপ্ত!
অবশেষে, রাজনীতিতে সুস্থ বিতর্ক ও ন্যূনতম সৌজন্যবোধ বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানান রুদ্রনীল। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ভিন্ন রাজনৈতিক ভাবধারা থাকা সত্ত্বেও একজন নারীর সম্মানহানি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। বঙ্গ রাজনীতিতে যে কুরুচিকর শব্দপ্রযোগের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের সামনে এসে কঠোর বার্তা দিয়েছেন অভিনেতা।

