‘আবার সেই কাজের মেয়ের চরিত্র…’ ‘আমি না করে দিই, শুধু কাজের লোক হিসেবে কেন?’ ‘ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন উনি আমার উপর!’ চরিত্রের পুনরাবৃত্তি এড়াতে ঋতুপর্ণ ঘোষের মুখের উপর ‘না’! কি ঘটেছিল? জানালেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী!

বাংলা বিনোদন জগতে সুদীপ্তা চক্রবর্তী (Sudipta Chakraborty) এক উজ্জ্বল ও ব্যতিক্রমী নাম। মঞ্চ, ছোট পর্দা থেকে শুরু করে সিনেমার রূপোলি পর্দা অভিনয়ের প্রতিটি মাধ্যমে তিনি বারবার নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মতো পরম সম্মানও। বহুমুখী অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। একজন স্পষ্টবক্তা ও মেরুদণ্ডী শিল্পী হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর আলাদা সুনাম রয়েছে।
ঋতুপর্ণ ঘোষের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘বাড়িওয়ালি’-তে ‘মালতি’ চরিত্রে অভিনয় করে সুদীপ্তা চক্রবর্তী দেশজুড়ে বিপুল প্রশংসা কুড়ান এবং শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এই ছবিতে তাঁর বাস্তবসম্মত অভিনয় আজও দর্শক ও সমালোচকদের মনে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ‘মালতি’ চরিত্রটির সাফল্য সুদীপ্তাকে রাতারাতি সংবাদের শিরোনামে এনে দিয়েছিল এবং চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে তাঁর অবস্থানকে অত্যন্ত শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিল।
তবে ‘বাড়িওয়ালি’র এই সাফল্যের পরপরই এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সম্মুখীন হন অভিনেত্রী। পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ তাঁর পরবর্তী চলচ্চিত্র ‘উৎসব’-এর কাজ শুরু করার সময় সুদীপ্তাকে আবারও একটি কাজের মেয়ের বা সহায়ক চরিত্রের প্রস্তাব দেন। কিন্তু সুদীপ্তা জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর ঠিক করেছিলেন যে তিনি একই ধরনের চরিত্রে বারবার অভিনয় করে নিজেকে ‘টাইপকাস্ট’ বা একঘেয়ে হতে দেবেন না। তাই ঋতুপর্ণ ঘোষের মতো নামজাদা পরিচালকের কাজ হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রস্তাবটি সসম্মানে প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নেন।
সাক্ষাৎকারে সুদীপ্তা অকপটে জানান যে, একজন উঠতি বা প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর কাছে কেবল জাতীয় পুরস্কার পাওয়াই শেষ কথা নয়; পুরস্কারের পর কাজের নির্বাচন আরও বেশি সতর্কতার দাবি রাখে। পর পর একই ধরনের কাজের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করলে ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর ভাবমূর্তি এক নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে পড়ত। নিজের অভিনয় জীবনের ভিন্নতা বজায় রাখা এবং বহুমুখী ক্ষমতার পরিচয় ফুটিয়ে তোলার তাগিদেই তিনি সেদিন ঋতুপর্ণ ঘোষকে ‘না’ বলার সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ‘মেয়েটা বড্ড অল্প বয়সে ম’রে গেল…’ ‘বেঁচে থাকলে বোধহয় ও আরো বেশি ভুগতো, কারণ কিছু একটা সবসময়…’ ‘শুনুন আপনি এত কষ্ট পাবেন না কারণ আপনিও ম’রে যাবেন…’ পায়েলের স্মরণে জীবনের পরম সত্যি তুলে ধরলেন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়!
অভিনেত্রীর এই দৃঢ় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ছিল টাইপকাস্ট হওয়ার চরম ভয় এবং নিজের অভিনয়ের বহুমুখী যোগ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ। ‘উৎসব’ ছবির অফার ফিরিয়ে দেওয়ার সেই সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করে সুদীপ্তা জানান, কেবল জনপ্রিয়তা বা প্রখ্যাত পরিচালকের সান্নিধ্য পাওয়ার লোভে নিজের চরিত্র নির্বাচনের নীতি ভাঙেননি তিনি। একজন প্রকৃত শিল্পীর মতো নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখা এবং ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করার এই জেদই পরবর্তীতে তাঁকে বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছে।

