‘স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তানই সব…!’ ‘সতিনের ছেলেকে মানুষ করতে গিয়ে নিজের সন্তান…!’ কেন কখনো নিজের সন্তান নেওয়ার কথা ভাবেননি লাবণী সরকার? আনলেন প্রবীণ অভিনেত্রী!

বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী লাবণী সরকার (Laboni Sarkar)। দশকের পর দশক ধরে তিনি তাঁর সাবলীল অভিনয় এবং নিখুঁত চরিত্রায়নের মাধ্যমে দর্শকহৃদয়ে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছেন। বড় পর্দা হোক কিংবা ছোট পর্দা, যেকোনো চরিত্রে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে ইন্ডাস্ট্রির এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্ব, জীবনবোধ এবং কঠোর নীতি ও আদর্শের জন্য তিনি টলিউডের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী লাবণী সরকার তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অনুপ্রাণিত করার মতো অধ্যায় সর্বসমক্ষে তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকারটিতে উঠে এসেছে তাঁর জীবনের নানাবিধ অভিজ্ঞতা, সমাজ ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং একজন মানুষ হিসেবে তাঁর গভীর আত্মত্যাগের গল্প। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে কীভাবে তিনি মানবিক মূল্যবোধকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন, সেই বিষয়গুলো সহজ ভাষায় প্রকাশ করেছেন তিনি।
এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তাঁর জীবনের এক মহৎ ও কঠিন সিদ্ধান্ত। লাবণী সরকার জানান, তিনি তাঁর স্বামীর প্রথম পক্ষের সন্তানকে নিজের মাতৃস্নেহে আগলে রেখে বড় করে তুলেছেন। সতিনের সন্তান হলেও কোনোদিন তাকে পর ভাবেননি, বরং নিজের সমস্ত ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে লালন-পালন করেছেন। এক অনন্য মাতৃরূপের পরিচয় দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে রক্তের সম্পর্কের চেয়েও স্নেহের বাঁধন অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারে।
সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি তিনি নিজের কোনো পৃথক সন্তান না নেওয়ার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। পরিবারের ভেতরে যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন বা দ্বিমত তৈরি না হয়, সে কথা ভেবেই তিনি এই বিরাট ত্যাগ স্বীকার করেন। নিজের কোনো সন্তান থাকলে প্রথম পক্ষের সন্তানের ওপর ভালোবাসার ঘাটতি পড়তে পারে এই গভীর সংবেদনশীল ভাবনা থেকেই তিনি নিজের মাতৃত্বের ইচ্ছা উৎসর্গ করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ‘ওর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা স্বামী-স্ত্রীর ঊর্ধ্বে!’ ‘ভয়ংকর ঝামেলা হয়ে দেড়-দুই বছর কথাবার্তাই বন্ধ ছিল!’ ‘সৃজিত আদৌ আমাকে হিরো করবে? ও তো সব সময় আমায়…’ সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন প্রজেক্ট নিয়ে বি’স্ফোরক যিশু সেনগুপ্ত!
লাবণী সরকারের এই জীবন কাহিনী কেবল এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলে না, বরং সমাজকে ত্যাগের এক অনন্য শিক্ষা দেয়। বাস্তব জীবনে তাঁর এই কঠিন ও মানবিক সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে ভালোবাসা এবং মানবিকতা দিয়ে যেকোনো সম্পর্কের গভীরতা গড়ে তোলা সম্ভব। সাধারণ মানুষের জন্য তাঁর এই পথচলা নিঃসন্দেহে এক বড় অনুপ্রেরণা এবং ত্যাগের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

