‘ওর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা স্বামী-স্ত্রীর ঊর্ধ্বে!’ ‘ভয়ংকর ঝামেলা হয়ে দেড়-দুই বছর কথাবার্তাই বন্ধ ছিল!’ ‘সৃজিত আদৌ আমাকে হিরো করবে? ও তো সব সময় আমায়…’ সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন প্রজেক্ট নিয়ে বি’স্ফোরক যিশু সেনগুপ্ত!

পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের (Srijit Mukherjee) নতুন কাজ নিয়ে টলিপাড়ায় নানা জল্পনা চলছে। এই ছবিতে অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত নায়কের ভূমিকায় থাকবেন নাকি খলনায়ক, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হচ্ছে। পুরো বিষয়টিকে বেশ উপভোগ করছেন যিশু। যদি দর্শক বা পরিচালকের মনে হয় তিনি নায়কের চরিত্রে অভিনয় করতে পারেন, তবে তা তাঁর কাছে অত্যন্ত আনন্দের একটি বিষয়।
সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় কাজ করার অতীত অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যিশু সেনগুপ্ত। এর আগে সৃজিতের জনপ্রিয় ছবি রাজকাহিনী, জুলফিকার কিংবা দশম অবতার-এর মতো কাজগুলোতে যিশুকে সাধারণত খলনায়কের চরিত্রেই দেখা গেছে। তাই নতুন প্রজেক্টে তাঁর চরিত্র নিয়ে নানা কৌতূহল তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে তিনি মনে করেন।
ছবি বা সিরিজের কাজের খাতিরে যিশুকে ইদানীং প্রায়শই লালবাজারে যাতায়াত করতে হচ্ছে। লালবাজারের পুলিশ কর্মকর্তা বা প্রশাসনিক কর্মীদের ওপর যে বড় দায়িত্ব থাকে, সেই প্রশাসনিক পরিবেশ ও বাস্তবতার অভিজ্ঞতা তিনি তাঁর নতুন কাজের প্রস্তুতিতে ফুটিয়ে তুলছেন।
অভিনেতা বলেন, “তোমাদের মনে হয় সৃজিত মুখার্জী আমাকে হিরোর পার্ট দেবে? তাহলে তো যদি এটা মনে হয়, আমার খুব ভালো লাগছে। আমি খুবই আপলুত। যদি হয়, তো এর থেকে বেটার কিছু হতে পারে না। আমি সিরিজের ছবিতে ভিলেন করেই এসছি, যা যা তুমি বলো তুমি রাজকাহিনী বলো, জুলফিকারে ভিলেন ছিলাম, দশম অবতার… তো এটা তো দেখে বলা যায় না, কুইন ভিক্টরিও আমি হতে পারি! কারণ আমার যা যা সাজিয়েছে… এটা তো তোমার লালবাজারে যাতায়াত শুনছে, লালবাজারেরই মানুষ সবচেয়ে বড় দায়িত্ব তার। সরি, এটা আমি শুনিনি, তুমি যদি শুনে থাকো আমার খুব ভালো লেগেছে। একদমই তাই, সৃজিত বলেছে তাহলে তো এর থেকে আর ভালো কিছু হতেই পারে না। সৃজিত বলে দিয়েছে, জগদলে আমি লালবাজার রোজ যাচ্ছি আর আসছি। কিন্তু সৃজিতদা একজনকে ক্রিকেট খেলা শেখাচ্ছে, তোমাকে শুনলাম বেশ খাওয়াবে, চরিত্রটাই এরকম… হ্যাঁ, আমার খাওয়ার দাওয়ার একটা ব্যাপার আছে। এবার একটু রাগটা আমার… সে রাগ নেই তো। ছিল একটার সময় প্রচন্ড রাগারাগি হয়েছিল, এত লেখালেখি তোরাই করেছিলি, সবকিছু করেছিলি তো! সেই নিয়ে আমরা দেড়-দু বছর কথা পর্যন্ত বলিনি। বাট স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এরকম হয়ই। আমাদের তো এমনিতেই এখন আমরা দুজন মিলেই স্বামী-স্ত্রীর ঊর্ধ্বে চলে গেছি আমি আর সৃজিত। সুতরাং এখন আর ওই মন-কষাকশিগুলো আর হয় না, দুজন দুজনকে ছাড় দিয়ে রেখেছি। তো সেই ছাড়াই এই ছবিটা হবে বলে মনে হয়, দেখা যাক।”
আরও পড়ুনঃ ‘বিয়ের পর সন্তান চায়নি সে, ফিগার নষ্ট হয়ে যাবে বলে…’ ‘নিজের বাবাকেই দেখিনি, আমি কারো দায়িত্ব নিতে পারব না!’ ‘আমি চেয়েছিলাম একটা সন্তান, কিন্তু…’ বৈবাহিক জীবনে সুখী হননি অভিনেতা! পূরণ হয়নি বাবা হওয়ার সাধ! মুখ খুললেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়!
উপরের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, অতীতে সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও যিশু সেনগুপ্তের মধ্যে পেশাগত এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বেশ বিতর্ক ও তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছিল। মিডিয়ায় লেখালেখির কারণে প্রায় দেড়-দুই বছর তাঁদের মধ্যে যোগাযোগও বন্ধ ছিল। তবে যিশু হালকা ছলে তাঁদের গভীর বন্ধুত্বকে ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের’ সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে রাগ-অভিমান হলেও দিনশেষে মিটমাট হয়ে যায়। বর্তমানে অতীতের সব ভুল বোঝাবুঝি ভুলে তাঁরা দুজনেই পরিপক্ক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আবার একসাথে কাজ করছেন এবং একে অপরের কাজের প্রতি সম্মান বজায় রাখছেন।

