‘এই নোংরা ছবি প্রতিবাদের ভাষা এটা হতে পারে না’ ‘নরেন্দ্র মোদীর কিছু যায় আসবে না…’ ‘এটা তো বাচ্চাদের মতন কাজ…আজ যদি ওনার ছবি নিয়ে কেউ এমন করত?’ প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত পোস্টার হাতে শ্রীলেখা! অভিনেত্রীর ‘নির্বুদ্ধিতা’ নিয়ে মুখ খুললেন কনীনিকা বন্দোপাধ্যায়!

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের প্রতিবাদে সম্প্রতি কলকাতায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ও বামপন্থীদের তরফ থেকে একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। সেখান থেকে শ্রীলেখার একটি ছবি নেটদুনিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিকৃত কার্টুন সম্বলিত পোস্টার হাতে নিয়ে হাসিমুখে পোজ দিতে দেখা যায়। শ্রীলেখার এই আচরণের প্রতিবাদে টলিপাড়ার একাধিক তারকা সরব হয়েছেন।

এবার এই তালিকায় যুক্ত হলো অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। শ্রীলেখাকে নিজের সিনিয়র মেনেও তাঁর এই পদক্ষেপকে ‘নির্বুদ্ধিতা’ বলে আখ্যা দিয়ে কনীনিকা বলেন, “আন্দোলন করা ভালো, কিন্তু সব কিছুর বিরুদ্ধে তো আন্দোলন করা যায় না। যেখানেই নিউজ, সেখানেই পৌঁছে যাব এর তো কোনো অর্থ নেই। আমি ওঁকে ভালোবাসলেও এবং অনেক ক্ষেত্রে ওঁর বক্তব্যকে সমর্থন করলেও এক্ষেত্রে এটা ঠিক হয়নি। প্রধানমন্ত্রী হোক বা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তাঁদের সম্মান দেওয়া আমাদের কর্তব্য। শ্রীলেখাদির ছবি নিয়ে কেউ যদি এসব করে, তাহলে কি ওঁর ভালো লাগবে?”

কনীনিকা মনে করেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় কোনো আঘাত আনতে পারে না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যকালের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এসবে নরেন্দ্র মোদীর কিচ্ছু যায় আসবে না। ১৫ বছরের মুখ্যমন্ত্রী, বিগত এতগুলো বছর ধরে দেশটাকে কোথাও তো একটা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রচুর সমস্যা আছে, তবে সব সমস্যা সমাধান করা সহজ নয়। রাজনৈতিক দলগুলো আগে রাজতন্ত্রের মতো দেশ চালিয়েছে, তবে গণতন্ত্রের মাপকাঠিতে বললে উনি ঠিকই আছেন। উনি তো আমাদের রাজ্যটাকেও এখন সামলাচ্ছেন।”

ঘটনার পর শ্রীলেখা দাবি করেছিলেন যে ‘চোখে চশমা না থাকায়’ তিনি পোস্টারটি দেখতে পাননি। শ্রীলেখার এই যুক্তিকে সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে কনীনিকা বলেন, “আজকে আমি একজন পাবলিক ফিগার হয়ে এটা কী করে করতে পারি! ও যেটা বলেছে সেটা কেউই মনে হয় না বিশ্বাস করবে। এই জিনিসটা ভুল। উনি আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে রিপ্রেজেন্ট করছেন, তবে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু এটা নয়। শিক্ষিত হওয়া ভালো, বেশি শিক্ষিত হওয়া ভালো নয়।”

আরও পড়ুনঃ শিরিনকে দিয়ে নতুন চাল সংযুক্তার! পারুলকে আটকাতে শিঞ্জিনীকে হাতিয়ার করে শুরু হলো চক্রান্ত! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জকে ভুল আখ্যা দিয়েও প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে নিজের অসম্মতি জানান কনীনিকা। বক্তব্য শেষ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাচ্চাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে, সেটা ভুল। অবশ্যই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হওয়া উচিত, কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা এটা হওয়া উচিত না। আমি কখনো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেও অপমান করার কথা ভাবতে পারিনি। কারণ এঁদেরকে তো আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়ে এনেছি।”

Back to top button