‘মিথ্যাচারের একটা সীমা আছে, পার পাওয়া যাবে না!’ ‘বাম-অতিবামদের শিক্ষা শিক্ষা খেলা ধরা পড়ে গেছে!’ ‘প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে কুরুচিকর পোস্টার দিয়ে কিসের ছাত্র আন্দোলন?’ শ্রীলেখা-সহ বামেদের একযোগে নিশানা রুদ্রনীল ঘোষের!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ রুদ্রনীল ঘোষের (Rudranil Ghosh) রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বেশ বৈচিত্র্যময় ও ঘটনাবহুল। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন সিপিআই(এম)-এর সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। পরবর্তীতে রাজ্য রাজনীতিতে পরিবর্তন এলে ২০১১ সালে তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০২১ সালে তৃণমূলের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন এবং দলটির অন্যতম সক্রিয় মুখ হিসেবে রাজনৈতিক বক্তব্য পেশ করে থাকেন।
সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুদ্রনীল ঘোষ অভিযোগ তোলেন যে, তথাকথিত ছাত্র ও শিক্ষা আন্দোলনের আড়ালে রাজনৈতিক চক্রান্ত করা হচ্ছে। তাঁর মতে, একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অরাজকতা তৈরি করতেই সেখানে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের বদলে গুন্ডা, সমাজবিরোধী ও অপরাধীদের ভিড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনকে সহিংস রূপ দিতেই বাম ও অতিবাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আন্দোলন চলাকালীন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন রুদ্রনীল। আন্দোলনস্থলে শ্রীলেখার হাতে একটি অত্যন্ত কুরুচিকর পোস্টার দেখা গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে চরম বিতর্কের সৃষ্টি করে। শ্রীলেখা মিত্র সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন যে, তাঁর চোখে সানগ্লাস বা চশমা না থাকায় তিনি পোস্টারের লেখা দেখতে পাননি। তবে রুদ্রনীল ঘোষ এই যুক্তিকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক মিথ্যাচার বলে কটাক্ষ করেন এবং নিরপেক্ষভাবে ঘটনার সত্যতা তুলে ধরার আহ্বান জানান।
ভিডিওতে রুদ্রনীল বলেন, “দেখুন আমরা সবাই জানি যে পরিষ্কার কি ঘটনা ঘটেছিল এবং কিভাবে বাম অতিবাম তারা এই শিক্ষা শিক্ষা খেলা খেলে কিভাবে পরিষ্কার যারা সমাজবিরোধী যারা গুন্ডা যারা ক্রিমিনাল যারা ৮০% ছিল তাদেরকে এখানে ভিড়িয়ে দিয়েছিল। যাই হোক শ্রীলেখা মিত্রের প্রসঙ্গে আসি। তিনি যে কুরুচিকর পোস্টারটি হাতে নিয়েছিলেন সেই সম্পর্কে হাসির কথা তিনি এমন যুক্তি দিচ্ছেন, তিনি বলছেন তিনি কিছু দেখেননি, তার নাকি চশমা না সানগ্লাস কি সমস্ত পড়া ছিল বা ছিল আমি জানিনা। মানে বামেদের মিথ্যাচার এমন একটা লেভেলে চলে গেছে যে সেখানে তারা লুমপেনদের নিয়েই অরাজকতা তৈরি করতে গেছিল। এটা সাংবাদিকরা দেখিয়ে দিচ্ছিল বলেই সাংবাদিকদের পিটিয়েছে এবং তারপর যখন বাকি বিষয়টা সামনে চলে এসেছে তখন তিনি বলছেন তিনি দেখতে পাচ্ছেন না, যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এটা কুরুচিকর পোস্টার। কুরুচির নিম্ন সীমায় চলে গেছে সেটা আমার মনে হয়। শ্রীলেখা মিত্রকে পাল্টা প্রশ্ন করা উচিত, আমার মনে হয় যে শ্রীলেখা মিত্র আপনি ধর্মতলায় জামা কাপড় কিনতে গেছিলেন দেখতে পাচ্ছিলেন না বলেই? ঠিক আপনি ওই আন্দোলন না কি যেন একটা হচ্ছিল ধষ্টামো সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন, আর কিছু বলবার নেই। মিথ্যাচারের একটা সীমা থাকে, চালাকি করে সেখান থেকে পার পাওয়া যাবে না। কেয়া ঘোষ সহ বাকি বহু মানুষ তারা এফআইআর করেছেন, আর সেই খারাপ কাজে নারী পুরুষ কে কোন ধর্মের কে কোন জীবিকার কিছু দেখা হয় না। যদি কোন শাস্তি পেতেই হয় তাহলে হবে। দেশের প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে যেভাবে তার পোস্টার নিয়ে এটা কোন ধরনের ছাত্র আন্দোলনের মিছিল ছিল? ‘দেশ তেরে টুকরে হঙ্গে ইনশাল্লাহ ইনশাল্লাহ, আল্লাহর নাম রহেগা’, শিক্ষার কোন যোগাযোগ নেই, ‘ব্রাহ্মণবাদ আজাদি’—এ কি হচ্ছিল যেটা ধরা পড়ে গেছে! সাংবাদিকরা দেখিয়ে দিয়েছেন, তাই রাগ এবং সাংবাদিকদের প্রাণে মেরে ফেলা যে কি করে দেখিয়ে দিলেন! অরাজকতার আসল দৃষ্টটা তারপর এখন তারা মিথ্যা কথা বলছেন, এটা তাদের স্টাইল। দেখুন বাম, অতিবাম এবং লাল আরশোলা যা করতে এসছিল মানুষ জেনে গেছে। ধন্যবাদ পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে তারা এদের চিনে ফেলেছেন বলে।”
আরও পড়ুনঃ ‘সংস্কৃতি ভুলে রাজনৈতিক উসকানিতে পা দিচ্ছে তরুণ প্রজন্ম!’ ‘প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করা অন্যায়!’ ‘একটা ঘর সামলাতেই দম বেরোয়, দেশ চালাবেন কী করে?’ অভিনেত্রীর নিশানায় শ্রীলেখা মিত্র! সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে বি’স্ফোরক মমতা শঙ্কর!
রুদ্রনীল ঘোষের বক্তব্যে উঠে আসে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের বিষয়টিও। তিনি জানান, গণমাধ্যম যখন আন্দোলনের ভেতরের আসল অরাজকতা ও বিতর্কিত স্লোগানের দৃশ্যগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করছিল, তখনই সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হিংসাত্মক আক্রমণ চালানো হয়। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে এ জাতীয় কুরুচিকর পোস্টার প্রদর্শন ও জাতীয়তাবোধের পরিপন্থী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ সহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন এবং উপযুক্ত আইনি শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

