‘সংস্কৃতি ভুলে রাজনৈতিক উসকানিতে পা দিচ্ছে তরুণ প্রজন্ম!’ ‘প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করা অন্যায়!’ ‘একটা ঘর সামলাতেই দম বেরোয়, দেশ চালাবেন কী করে?’ অভিনেত্রীর নিশানায় শ্রীলেখা মিত্র! সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে বি’স্ফোরক মমতা শঙ্কর!

ভারতীয় চলচ্চিত্র ও নৃত্য জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র মমতা শঙ্কর (Mamata Shankar)। বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্কর ও অমলা শঙ্করের কন্যা হিসেবে শৈশব থেকেই তিনি সংস্কৃতি চর্চার আবহে বেড়ে উঠেছেন। মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সেলুলয়েডে আত্মপ্রকাশ করার পর তিনি সত্যজিৎ রায়, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের মতো কিংবদন্তি পরিচালকদের ছবিতে অসাধারণ অভিনয় উপহার দিয়েছেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা সিনেমা ও নাট্যমঞ্চে নিজের সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে আলাদা স্থান তৈরি করে নিয়েছেন তিনি। একজন প্রবীণ শিল্পী হিসেবে সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা বিষয়ে তাঁর স্পষ্টবাদী মন্তব্য সবসময়ই সংবাদমাধ্যমে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি প্রভাতান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে এক বিশেষ আলাপচারিতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মমতা শঙ্কর। সেখানে আর্ট, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে রাজ্যপালের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। মমতা শঙ্কর সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি ও প্রাচীন ঐতিহ্যের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব জুড়ে চলা অরাজকতা ও হানাহানির মাঝে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিজেদের সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে রাখা এবং ভারতীয় হিসেবে নিজেদের ঐতিহ্যের ওপর গর্ববোধ করা।
বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্ম-এর নানা প্রতিবাদ ও আন্দোলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি তাঁদের বিপুল শক্তির প্রশংসা করেন। তবে একই সাথে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, কাজের অভাব বা সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকায় এই বিপুল এনার্জি অনেক সময় ভুল পথে চালিত হয়। তরুণরা যখন বেকার হয়ে পড়ে, তখন বিভ্রান্ত হয়ে ভুল রাজনৈতিক বা সামাজিক উদ্দীপনায় মেতে ওঠে। তাই এই তরুণ সমাজকে সঠিকভাবে অনুধাবন করা এবং তাঁদের কথা শোনার পাশাপাশি মিডিয়া ও প্রবীণদের দায়িত্ব তাঁদের সঠিক ও গঠনমূলক রাস্তায় চালিত করা, যাতে তাঁদের শক্তি দেশের কল্যাণে ব্যবহৃত হতে পারে।
অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বাড়ির সামনে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত ঘটনা এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করার প্রতিবাদ জানিয়ে মমতা শঙ্কর একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মতামত পৃথক হতে পারে কিন্তু যেকোনো মানুষের প্রতি এবং বিশেষ করে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদের প্রতি একটি ন্যূনতম শ্রদ্ধা ও সৌজন্য বজায় রাখা আবশ্যক। কাউকে হেয় করা বা কারও ছবি বিকৃত করার অধিকার আমাদের কারোরই নেই। যেকোনো পরিস্থিতিতে পরম সহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুনঃ ‘বর্তমানে এখন আর কাজের মান নেই!’ ‘অনেক ছোট থেকে কাজ করছি, যখন নায়িকা হলাম তখন ডিরেক্টরের কথাই…’ নায়িকা হতে গিয়ে কি কখনও কম্প্রোমাইজ মেনে নিতে হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে? জানালে রত্না ঘোষাল!
আলোচনার শেষভাগে দেশ পরিচালনার কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে মমতা শঙ্কর সবাইকে আরও কিছুটা ধৈর্যশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি একটি সহজ কিন্তু গভীর উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি সাধারণ পরিবার পরিচালনা করতেই যেখানে আমাদের নানা মতপার্থক্য ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, সেখানে গোটা একটি দেশ চালানো এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা কতটা জটিল তা সাধারণ মানুষের অনুধাবন করা উচিত। তাই অহেতুক অস্থির না হয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধবিগ্রহের এই কঠিন সময়ে সবাইকে ধৈর্য, অহিংসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার অনুরোধ জানান এই গুণী অভিনেত্রী।

