‘বর্তমানে এখন আর কাজের মান নেই!’ ‘অনেক ছোট থেকে কাজ করছি, যখন নায়িকা হলাম তখন ডিরেক্টরের কথাই…’ নায়িকা হতে গিয়ে কি কখনও কম্প্রোমাইজ মেনে নিতে হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে? জানালে রত্না ঘোষাল!

রত্না ঘোষাল (Ratna Ghoshal) বাংলা বিনোদন জগতের একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী। দীর্ঘ ৬৩ বছরের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি থিয়েটার, বাংলা চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশনের পর্দায় সমান দক্ষতার সাথে কাজ করেছেন। ‘মৌচাক’, ‘সাহেব’, ‘ছোট বউ’, ‘পান্নাহিরে চুনি’-র মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের অগাধ ভালোবাসা অর্জন করেছেন। বহু প্রখ্যাত পরিচালক ও মহানায়ক উত্তম কুমারের সাথে কাজ করার পর, আজও তিনি তাঁর সাবলীল অভিনয়ের জন্য বঙ্গীয় দর্শককুলে বিশেষ প্রশংসিত।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান যে, আগের মতো আর টেলিভিশনে কাজের মান নেই। আগে যেখানে পরিচালক ও গল্পের প্রাধান্য থাকত, এখন সেখানে পুরো বিষয়টি পরিচালনা করে টিভি চ্যানেল ও প্রডিউসাররা। ভালো গল্প বা শিল্পীর দক্ষতার চেয়ে এখন টিআরপি-কেই একমাত্র লক্ষ্য করা হয়, যার ফলে মাত্র দুই-তিন মাসেই অনেক ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সকালে ফ্লোরে ডেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা এবং স্ক্রিপ্টের মান কমে যাওয়াকে তিনি কাজের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মেগা সিরিয়াল পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার নেপথ্যের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে রত্না ঘোষাল জানান যে, ২০২৩ সালে ‘বাংলা মিডিয়াম’ সিরিয়ালে তিনি ঠাকুরমার একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। কিন্তু একদিন ফ্লোরে গিয়ে বিকেলে স্ক্রিপ্ট পেয়ে তিনি জানতে পারেন যে তাঁর চরিত্রটিকে হঠাৎ অসুস্থ দেখিয়ে এবং পরের দৃশ্যেই মৃত ঘোষণা করে গল্প থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কোনো আগাম আলোচনা ছাড়া এমন অদ্ভুত ও অপেশাদার আচরণের কারণে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই ফ্লোরে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে, আর কখনও তিনি মেগা সিরিয়ালে কাজ করবেন না।
আধুনিক সমাজের সামাজিক মাধ্যমের অতি-ব্যবহার ও লোকদেখানো পাবলিসিটি কালচার নিয়ে অভিনেত্রী তাঁর স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, আজকাল মানুষ নিজের আনন্দকে সুন্দর বা শালীনভাবে প্রকাশ করার চেয়ে লোকদেখানো ও কুৎসিত ভঙ্গিতে ফেসবুকে বা ইউটিউবে ছবি তুলে তুলে ধরতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও নান্দনিকতা নষ্ট হচ্ছে। আগেকার দিনেও মানুষের বিয়ে বা সন্তান হতো, কিন্তু তাতে একটি মার্জিত ডেকোরাম বা শালীনতা বজায় থাকত বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।
আরও পড়ুনঃ ‘ওর ছবিতে আমার কোনো জায়গা নেই!’ ‘বয়স্ক মহিলাদের জন্য ছবি বানান না উনি…!’ সৃজিত মুখার্জির ছবিতে কেন দেখা যায় না অভিনেত্রীকে? জানালেন অলকানন্দা রায়!
আজকালকার ছেলেমেয়েদের সম্পর্কের স্থায়িত্ব কমে যাওয়া প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন যে, বর্তমানে ইগোর লড়াই এবং সহনশীলতার অভাবই প্রধান সমস্যা। দু’জন মানুষের চিন্তাধারা আলাদা হলেও সম্পর্কের খাতিরে অ্যাডজাস্টমেন্ট দরকার, যা এখনকার প্রজন্মের মধ্যে দেখা যায় না। লিভ-ইন সম্পর্কের ধারণাকে অত্যন্ত নিম্নমানের ও ক্ষণস্থায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে দু’জন মানুষের মধ্যে মন ও প্রাণের গভীর আদান-প্রদান এবং একে অপরকে বোঝার মানসিকতা থাকে না, সেখানে সত্যিকারের ভালোবাসার কোনো অস্তিত্ব থাকতে পারে না।

