‘মানুষকে এ’ন্টিন্যাশনাল বলছে, এই ন্যারেটিভটা বোকা হয়ে গেছে!’ ‘অসভ্য বরবর সরকার হলে যা হয়!’ ‘ভারতবর্ষের ন্যায় আজকে সমস্যায় আছে, বিপদে আছে!’ শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে ছাত্র আন্দোলন! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন চন্দন সেন-শ্রীলেখা মিত্র!

বর্তমানে দেশজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিশেষ করে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। ন্যাজ্য দাবি নিয়ে পথে নামা ছাত্রসমাজের ওপর হওয়া এই রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের প্রতিবাদ জানাতে এবং আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত করতে রাজপথে নেমেছে সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে কলকাতার প্রতিবাদ মিছিলে পা মিলিয়েছেন টলিউডের পরিচিত মুখ, অভিনেতা চন্দন সেন (Chandan Sen) এবং অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra), যারা বর্তমান সরকারের ভূমিকা ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মিছিলে উপস্থিত হয়ে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘দেশদ্রোহী’ বা ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ আখ্যা দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “ভারতবর্ষ যারা ভারতবর্ষের মানুষকে এন্টিন্যাশনাল বলছে শুধু তাদের নয় প্রথম কথা আর এই ন্যারেটিভটা বোকা হয়ে গেছে।” দেশে ন্যায়বিচারের বর্তমান অবস্থা ও সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “যেটা নক্কারজনক সেটা হচ্ছে যে যে ছাত্রদের উপরে এইভাবে মারা হয়েছে দুদিন আগে সেইটা প্রথমত আমার দাবি হচ্ছে সেটা কেন শোনা হচ্ছে…এটা কি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলতে পারে উজি ব্রুটালিটির ভিডিও সাবমিশন করা হচ্ছে আমার দেখার সময় নেই… ভারতবর্ষের ন্যায় আজকে সমস্যায় আছে বিপদে আছে।”

দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রদের ওপর হওয়া নক্কারজনক হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিনেতা চন্দন সেন সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। পুলিশের এই বর্বরোচিত আচরণের নিন্দা করে তিনি বলেন, “অসভ্য বরবর সরকার হলে যা হয় যেভাবে ছাত্রদের যন্তর মন্তরে ফেলে পিটিয়েছে কোন মনুষ্যত্ব বোধ থাকলে ওটা করা যায় মানে আমি ভাবতে পারছি না আমাদের ছেলেমেয়েরা আমাদের ঘরের ছেলেমেয়েরা তারা শুধু দাবি জানিয়েছিল তারা স্বচ্ছতা আনার জন্য আর আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত করবার কথা বলছে।” তিনি আরও বলেন, “পার্লামেন্ট অভিযান করছে তারা পার্লামেন্ট দখল করতেও যায়নি কিন্তু তাদের উপর যে বদবর আক্রমণটা করা হল এ দায়টা কে নেবে কাউকে নিতে হবে।”

শিক্ষাক্ষেত্রে এই চরম দুর্নীতির জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং সরকারের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন চন্দন সেন। তাঁর কথায়, “নির্বাচিত সরকার রয়েছে আমাদের দেশে তারা কেন দায় নেবে না? শিক্ষামন্ত্রী রয়েছে শিক্ষা ক্ষেত্রে এই যে দুর্নীতি দায় কেন নেবে না?” এরপর ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, “ইতিহাসে যখন যখন যে দেশে ১৮ থেকে ৪০ সচেতন হয়ে গেছে, তখনই সরকারেরও সচেতন হয়ে যাওয়া উচিত, সতর্ক হয়ে যাওয়া উচিত এবং এদের দাবিগুলো এতটাই ন্যাজ্য এবং এদের কেবলমাত্র নিজেদের জন্য করছে না দাবি সমগ্র ছাত্র সমাজের জন্য দাবি করছে।”

আরও পড়ুনঃ ‘সেই রাত তিনটে থেকে পায়ের কাছে চুপ করে বসেছিলেন, তারপর…!’ মহানায়কের প্রয়াণে সুচিত্রা সেনের অবাক করা প্রতিক্রিয়া! সেই স্মৃতি ভাগ করে নিলেন রত্না ঘোষাল!

ছাত্র সমাজের এই আন্দোলন যে দেশের আগামী দিনের পথপ্রদর্শক হতে চলেছে, মিছিলে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের কথায় তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তরুণ প্রজন্ম নির্ভীকভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ শুরু করেছে, তা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নয়, বরং সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করার এক বৃহত্তর লড়াই। যতদিন না শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং এই দুর্নীতির প্রকৃত তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে, ততদিন সাধারণ মানুষ ও বিশিষ্টজনেরা এভাবেই ছাত্রদের ন্যাজ্য দাবির পক্ষে পথে থাকবেন বলে এই মিছিল থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

Back to top button