‘সেই রাত তিনটে থেকে পায়ের কাছে চুপ করে বসেছিলেন, তারপর…!’ মহানায়কের প্রয়াণে সুচিত্রা সেনের অবাক করা প্রতিক্রিয়া! সেই স্মৃতি ভাগ করে নিলেন রত্না ঘোষাল!

বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের অন্যতম সেরা ও চর্চিত জুটি ছিলেন উত্তম কুমার (Uttam Kumar) এবং সুচিত্রা সেন (Suchitra Sen)। পর্দায় তাঁদের রসায়ন যেমন লক্ষ লক্ষ দর্শককে মুগ্ধ করেছিল, তেমনই পর্দার বাইরেও তাঁদের মধ্যে ছিল এক গভীর ও অটুট বন্ধুত্ব। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে প্রখ্যাত অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল উত্তম কুমারের প্রয়াণ রাতের এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং অজানা মুহূর্তের কথা তুলে ধরেছেন, যেখানে মহানায়কের শেষ মুহূর্তে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের উপস্থিতির বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
রত্না ঘোষাল বলেন মহানায়ক উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর যখন পুরো শহর শোকে আচ্ছন্ন, তখন সুচিত্রা সেন জনসমক্ষে খুব একটা আসতেন না। কিন্তু প্রিয় বন্ধুর প্রয়াণে তিনি নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি। রত্না ঘোষাল জানান, সুচিত্রা সেন সেদিন রাত ৩টের সময় গোপনে এসেছিলেন। সাধারণ মানুষের চোখের অন্তরালে এসে তিনি রাত ৩টে থেকে ৪টে পর্যন্ত টানা এক ঘণ্টা উত্তম কুমারের মৃতদেহের পায়ের কাছে চুপ করে বসেছিলেন।
সেই রাতে সুচিত্রা সেনের উপস্থিতি এবং তাঁর আচরণের প্রতিটি মুহূর্ত রত্না ঘোষালের স্মৃতিতে আজও অমলিন। তিনি মাথায় কাপড় দিয়ে নীরবে মহানায়কের পায়ের তলায় বসে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। এরপর ভোর চারটে বাজতেই যখন ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষ ও অনুরাগীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে, সুচিত্রা সেন নীরবে সেখান থেকে চলে যান। মিডিয়া বা প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে বন্ধুর প্রতি এমন নীরব ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন তাঁদের সম্পর্কের গভীরতাকেই প্রমাণ করে।
সুচিত্রা সেনের এই আবেগঘন স্মৃতিচারণের পাশাপাশি রত্না ঘোষাল উত্তম কুমারের ব্যক্তিগত চরিত্র ও স্বভাব নিয়েও কিছু কথা বলেছেন। তিনি জানান, উত্তম কুমার ছোটদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং ভালো শিল্পী হওয়ার আগে বড় মনের মানুষ হওয়ার ওপর জোর দিতেন। এছাড়া সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতো সহ-অভিনেত্রীদের অভিনয় প্রতিভাকে তিনি কতটা সম্মান করতেন, তাও উল্লেখ করেন রত্না ঘোষাল।
আরও পড়ুনঃ সব মিথ্যা চক্রান্ত ভেস্তে দিতে প্রস্তুত পারুল! রায়ানকে বাঁচাতে পারুলের হাতে শেষ ৭২ ঘণ্টা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা সেন ও উত্তম কুমারের অমলিন বন্ধুত্বের এক চিরন্তন দলিল হিসেবে সামনে এসেছে। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা সত্ত্বেও সুচিত্রা সেনের সেই রাতে নীরবে এসে উত্তম কুমারের পায়ের কাছে বসে থাকা বাংলা সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম এক আবেগঘন ঘটনা। রত্না ঘোষালের এই বিশ্লেষণ নতুন করে দুই মহানক্ষত্রের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পরিচয় দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছে।

