সাফল্যের পরই রায়ানের জীবনে ঘোর বিপদ! চরিত্র নিয়ে টানাটানি! বিপদে ফেলার নতুন ছক শিরিনের! পারুল কি পারবে অসম্মানের হাত থেকে রায়ানকে বাঁচাতে?

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, শিরিনের কথাবার্তা ও হাবভাব স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে সে এত সহজে ময়দান ছাড়ার পাত্রী নয় বরং সুযোগ পেলেই আবার নতুন করে সমস্যা তৈরি করার তালেই রয়েছে। অন্যদিকে সরলমনা পারুল আগেই জানিয়ে রেখেছে, শিরিন ভালো হয়ে গেলে সে তার সবকিছু ফিরিয়ে দেবে। ভয়টা ঠিক এখানেই পারুলের এই অতিরিক্ত সরল বিশ্বাসকেই যদি শিরিন ও তার মা নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্যে কাজে লাগায়? শিরিন কি সত্য়িই কোনোদিন বদলাবে, নাকি এটি বড় কোনো নতুন ঝড়ের পূর্বাভাস তার উত্তর অবশ্য সময়ের গর্ভেই লুকিয়ে রয়েছে।

সবকিছুর মাঝেও রায়ান ও পারুলের সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো তাদের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বিশ্বাস। প্রয়োজনে দুজনই একে অপরের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে রাজি। এমনকি নিজের থিয়েটারের স্বপ্নটাও রায়ান প্রথম পারুলের সঙ্গেই ভাগ করে নিয়েছিল। তবুও বর্তমান আনন্দের মধ্যেও রায়ানের মনে এক অজানা দুশ্চিন্তা কাজ করে কারণ অতীতে যতবার সে নাটক করতে গেছে, শিরিন কোনো না কোনো ঝামেলা পাকিয়েছে। পারুল অবশ্য তখনও ইতিবাচক থেকে আশা প্রকাশ করে যে শিরিন একদিন ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু ওদিকে শিরিনের মুখে ভেসে ওঠে তীব্র আক্রোশের সুর “আমি কখনো সুখে থাকতে দেব না।”

রায়ানের ড্রিম প্রজেক্ট “ভালোবাসার বাগান” নাটকটি মঞ্চস্থ করার প্রস্তুতিতে পারুলকে দেখা যায় তার সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি হিসেবে পাশে থাকতে। কফি এনে দেওয়া থেকে শুরু করে স্ক্রিপ্ট, প্ল্যানিং কিংবা কস্টিউম সবকিছুতেই সে রায়ানকে আগলে রাখে। রুকু নিজের দায়িত্ব সামলালেও পারুলের পুরো মনোযোগটাই ছিল রায়ানের প্রতি। অন্যদিকে শিরিনও কিন্তু বসে নেই সরাসরি কিছু করতে না পেরে সে এবার আদ্রিজাকে দাবার চাল বানিয়ে নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে, যাতে রায়ানের এই সাফল্যের মুহূর্তে বড় একটা ধাক্কা দেওয়া যায়।

সমস্ত বাধা কাটিয়ে যখন “ভালোবাসার বাগান” অবশেষে মঞ্চে উঠল, রায়ানের অসাধারণ অভিনয় আর তা দেখে পারুলের মুখের গর্বিত হাসি এক অন্য মাত্রা যোগ করে। শেষ পর্যন্ত বসু থিয়েটার কম্পিটিশনে নাটকটি প্রথম স্থান অধিকার করে এবং ২০ লক্ষ টাকার পুরস্কার জিতে নেয়। রায়ানের এই বিশাল সাফল্যে পুরো বসু পরিবারে যখন আনন্দের জোয়ার বইছে, ঠিক তখনই শিরিনের বিষাক্ত হুমকি ভেসে আসে “তোরা যত আনন্দ করার করে নে। তোদের দিন ঘনিয়ে আসছে।” এই একটি সংলাপই স্পষ্ট করে দেয় যে সামনে বড় কোনো বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

আরও পড়ুনঃ চাকরি হারিয়ে দিশেহারা! মাঝরাস্তায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সংকটে শ্রীনিবাসের প্রাণ! দূর থেকেই তার আভাস পেলো কমলা! প্রকাশ্যে দুর্ধর্ষ প্রোমো

শিরিনের হুমকি বাস্তব রূপ নেয় যখন আদ্রিজা জোর করে রায়ানের কাছে আসার চেষ্টা শুরু করে। নিজের আত্মসম্মান বাঁচাতে রায়ান তাকে সরাতে গেলে অসাবধানতাবশত আদ্রিজার জামা ছিঁড়ে যায়। আর মুহূর্তের মধ্যে চক্রান্তকারী আদ্রিজা রায়ানের দিকেই আঙুল তুলে অভিযোগ করে বসে “তুমি আমার জামা ছিঁড়ে দিলে!” প্রোমো থেকে পাওয়া এই ইঙ্গিত থেকে বোঝা যাচ্ছে, আদ্রিজার সাজানো এই কুৎসিত অভিযোগের কারণে রায়ান ও পারুলের মাঝে বড় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে চলেছে। এখন দেখার বিষয়, রায়ান কি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবে, নাকি তাকে ফের এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

Back to top button