চাকরি হারিয়ে চরম সংকটে শ্রীনিবাস! সংসারে আর্থিক অনটনের মেঘ! স্বামীর কঠিন পরিস্থিতিতে কমলার বিরাট পদক্ষেপ!

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, অবশেষে দীর্ঘদিনের অন্তরালে থাকা সব সত্য পল্লবীর সামনে এক নিমেষে স্পষ্ট হয়ে গেল। মিস্টার চক্রবর্তীর আসল পরিচয় আর আদিত্যের আঘাত পাওয়ার নাটক পুরো ঘটনাটি যে চক্রান্ত আর অভিনয়ে সাজানো ছিল, তা বুঝতে আর পল্লবীর বাকি রইল না। এতদিন যাদের সে নিঃশর্তভাবে বিশ্বাস করেছিল, তাদের কাছ থেকে এমন প্রতারণা মেনে নেওয়া ছিল অসম্ভব। মনের ভেতর জমে থাকা তীব্র রাগ, অভিমান আর বিশ্বাসভঙ্গের যন্ত্রণা সামলাতে না পেরে, পল্লবী সবার উপস্থিতিতেই চরম ক্ষোভে আদিত্যকে সজোরে একটি চড় মেরে বসে।

আদিত্য কি সত্যি এই বিশাল ছলনার আশ্রয় নিয়েছিল কেবল পল্লবীর কাছাকাছি আসার তাগিদে, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো অতল গভীর চক্রান্ত বা বড় রহস্য? সত্যের পর্দা উন্মোচিত হওয়ার পর এবং সবার সামনে সেই চড় খাওয়ার মুহূর্তে আদিত্য যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতদিন ধরে গড়ে ওঠা তাদের সম্পর্কের সমীকরণ এই এক ধাক্কায় ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। এই চরম সত্য প্রকাশ পাওয়ার পর আদিত্য ও পল্লবীর আগামীর সম্পর্ক কোন অচেনা মোড় নেবে, তা নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গেল।

মন ভেঙে যাওয়া পল্লবী এরপর নিজেকে আর সামলাতে পারেনি। আদিত্যকে চরম অপমান করে ও তীব্র ভাষায় মনের ক্ষোভ উগরে দিয়ে সে সেখান থেকে একপ্রকার ঝড় তুলে বেরিয়ে যায়। যে বিশ্বাস আর সম্মানের ওপর তাদের সম্পর্ক দাঁড়িয়ে ছিল, তা আজ এক লহমায় ধুলোয় মিশে গেছে। পল্লবীর এই প্রস্থান আর চরম তিক্ততা স্পষ্ট করে দিয়ে গেল যে, আদিত্যের ছলাকলা অন্তত এবার আর তার মন গলাতে পারেনি।

অন্যদিকে, পারিবারিক টানাপোড়েন ও হতাশার জেরে অতিরিক্ত মদ্যপান করে হাসপাতালে শয্যাশায়ী রণ। তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি তাকে ভর্তি করতে হয় সেখানে। ডাক্তার যখন রণর মাসি ও মেসোকে স্পষ্ট জানান যে, অতিরিক্ত মদ্যপানই তার এই সংকটাপন্ন অবস্থার মূল কারণ, তখন তা শুনে হতবাক হয়ে যান। তিনি প্রথমে এটি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, যদিও রণর মাসি এই সত্যিটা আগেই জানতেন। পরিবারের সামনে রণর এমন করুণ পরিণতি এনে দেয় এক গভীর বিষাদের ছায়া।

আরও পড়ুনঃ রূপালী পর্দার বাইরে এক ভিন্ন জীবন! কোথায় হারিয়ে গেলেন ‘লাঠি’ খ্যাত ভিক্টর ব্যানার্জী? জানেন বর্তমানে সপরিবারে কোথায় রয়েছেন অভিনেতা?

এই সব ঝড়ের মাঝেই আরেকদিকে ঘনিয়ে এসেছে চরম আর্থিক সংকট। শ্রীনিবাসের চাকরিটা চলে গেছে, যা সে এখনো কমলাকে পুরোপুরি বলে উঠতে পারেনি। ফলে বাড়ির ভাড়া মেটানো নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। তবে কমলা পরিস্থিতি কিছুটা আঁচ করতে পেরে শ্রীনিবাসকে পরম মমতায় আশ্বাস দেয়। সে শ্রীনিবাসের হাত ধরে অনুরোধ করে, সব কথা যেন তার কাছে প্রকাশ করা হয়। বিপদে-আপদে তাদের সম্পর্কের এই পবিত্র বন্ধন যেন সারাজীবন এমন অমলিন থাকে এবং শ্রীনিবাস যেন কখনোই নিজেকে বদলে না ফেলে এই বার্তা দিয়ে কমলা তাদের ভালোবাসার ভিতকে আরও শক্ত করে তোলে।

Back to top button